চারদিকেই এখন চুরিচ্ছ্যাচোরি
আমি তো ভেবেছিলাম, ফেসবুকে দু-চার লাইন লিখব, মাঝে মাঝে একটা ছবি দেব, কোথাও দাঁড়িয়ে থাকলে ছেলে ছবি তুলে দিলে সেটাও রেখে দেব, আর নিজের মতো করে নিঃশব্দে বেঁচে থাকব। নিঃশব্দে বাঁচা কথাটা শুনতে যত শান্ত, কাজে তত কঠিন। বিশেষ করে ফেসবুক নামক মহাভারতের কুরুক্ষেত্রে। এখানে সবাই অর্জুন, সবাই কৃষ্ণ, সবাই দ্রৌপদী, আর মাঝেমধ্যে দেখি দুর্যোধনও নিজের টাইমলাইনে লিখছে, “ন্যায় আমার পাশে।”
আমার ইচ্ছা ছিল কারও সঙ্গে যুদ্ধ করব না। কারও অনুকরণে চলব না। কারও ঘাড়ে উঠে নাম করব না। নিজের যতটুকু মাথা আছে, ততটুকু দিয়ে ভাবব। নিজের যতটুকু হাত আছে, ততটুকু দিয়ে লিখব। নিজের যতটুকু জীবন আছে, সেই জীবন থেকে শব্দ কুড়িয়ে আনব। কিন্তু প্রতিজ্ঞা বড় দুষ্টু জিনিস। ঠিক যেমন ছোটবেলায় মা বলতেন, “বিকেলে আর রোদে যাস না।” আমি বলতাম, “না মা, আর যাব না।” তারপর পাঁচ মিনিট বাদে দেখা যেত আমি পাড়ার মাঠে, মাথায় রোদ, হাতে লাটিম, মুখে অপরাধীর হাসি। প্রতিজ্ঞা ভাঙার বয়স যায় না। শুধু লাটিমের জায়গায় কীবোর্ড আসে।
সেদিন দেখি, যাঁকে একসময় বেশ শ্রদ্ধা করতাম, লেখালিখিতে আমার থেকে অনেক সিনিয়র, অভিজ্ঞ, পাকা মানুষ, তিনি আমার লেখা বা ভাবনাটা এমনভাবে নিজের নামে তুলে দিয়েছেন, যেন সদরঘাটের টাঙাওয়ালা ভুল করে আমার যাত্রী নিয়ে পালিয়েছে। তাও ভুল করে নয়, বেশ কায়দা করে। আগে ভাবলাম, কাকতালীয় হতে পারে। তারপর আবার পড়লাম। তারপর চশমা মুছলাম। তারপর নিজের লেখা খুলে দেখলাম। তারপর মনে হলো, আরে বাবা, এ তো আমারই ঘরের হাঁড়ি, শুধু ওপর থেকে অন্যের ঢাকনা চাপানো।
মন খারাপ হলো। রাগের জন্য না। রাগ হলে অন্তত বুক ফুলে ওঠে, ভাষা গরম হয়, চোখে আগুন আসে। এখানে হলো একধরনের হীন লজ্জা। এমন লজ্জা, যেন নিজের জুতো নিজে পরে বেরিয়েছি, পথে দেখি একজন সম্মানিত ভদ্রলোক সেই একই জুতো পরে আমার সামনে বক্তৃতা করছেন, আর বলছেন, “এই জুতো আমার আত্মার গভীরতা থেকে এসেছে।” আমি দাঁড়িয়ে ভাবছি, আত্মা আপনার, জুতো আমার, আর ফিতা বাঁধা হয়েছে জনতার সামনে।
চুরি যদি ছেলেমানুষ করে, তাকে ডেকে বলা যায়, “এই শোনো, লেখারও বাবা-মা থাকে। অন্যের সন্তানকে নিজের নামে স্কুলে ভর্তি করালে একদিন রিপোর্ট কার্ডে ধরা পড়বে।” কিন্তু অভিজ্ঞ কেউ যখন সেই ছেলেমানুষিটা করেন, তখন বুকে একটা ঠান্ডা বাতাস লাগে। বুঝি, বয়স বাড়ে, চুল পাকে, প্রোফাইল ছবিতে গাম্ভীর্য আসে, বইয়ের তাকের সামনে বসে ছবি তোলা যায়, কিন্তু বিবেক বেচারাকে অনেকে মাঝপথে নামিয়ে দেয়। যেন বাসে উঠেছিল, গুলিস্তানে নেমে গেছে, আর যাত্রী এসে নিউ মার্কেট পর্যন্ত চলে এসেছে।
তবু কিছু বলি না। এই যুগে কথা বলাও বিপজ্জনক। আপনি নিজের জিনিস নিজের বলে দাবি করলেন, সঙ্গে সঙ্গে কেউ এসে বলবে, “আরে ভাই, attention seeker!” যেন নিজের ঘর থেকে চোর বের করে দিলে চোর নয়, গৃহস্থই নাটক করছে। কেউ বলবে, “সবাই তো সবার থেকে শেখে।” শেখা আর চুরি এক কথা হলে, আমার স্কুলজীবনের গণিত পরীক্ষার সব নকলকেই আজ গবেষণা বলা যেত। তখন মাস্টারমশাই কান ধরে দাঁড় করিয়ে বলতেন, “তুই পাশের খাতা দেখলি কেন?” এখন হলে ছেলেটা বলত, “স্যার, আমি তো peer-reviewed inspiration নিচ্ছিলাম।”
আমি তাই চুপ করে থাকি। নিজের মনে বলি, চোরেরা এখন এত পরিশ্রমী হয়েছে যে নিজের মৌলিকতা বাঁচিয়ে রাখাটাই অহংকার হয়ে গেছে। নিজের লেখা নিজের নামে রাখতে চাইলে আপনি নাকি possessive। নিজের ভাবনা চুরি হতে দেখে কষ্ট পেলে আপনি নাকি petty। আর চোর যদি বড় হয়, তার নাম হয় “প্রভাবশালী লেখক।” ছোট চোর ধরা পড়ে, বড় চোর উদ্বোধনী বক্তৃতা দেয়।
চারদিকে এখন চুরিচ্ছ্যাচোরি। আগে চুরি বলতে বোঝাত রাতের অন্ধকার, পায়ের শব্দ, জানলার কপাট, আলমারির তালা, তারপর সকালে হাহাকার। এখন চুরি হয় দুপুরবেলা, রিং লাইটের নিচে, কফির কাপ পাশে রেখে। আগে চোর মুখ ঢাকত। এখন চোর ফিল্টার লাগায়। আগে চোর লুকিয়ে চলত। এখন চোর পোস্ট দেয়, “My original thought.” পেছনে অন্যের বাক্য, সামনে নিজের ছবি, মাঝখানে হ্যাশট্যাগ: #Deep #WriterLife #OriginalVoice.
চুরি এমন এক লোকসংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে যে ঢাকার কুট্টি টাঙাওয়ালারাও বেঁচে থাকলে বলত, “কত্তা, এইহানে ভাড়া আগে দ্যান, আইডিয়া পরে লন।” কী ভয়ানক সেন্স অফ হিউমার ছিল তাদের! এক ভদ্রলোক টাঙাওয়ালাকে বলল, “ওই তো জায়গা দেখা যায়, এত ভাড়া কেন?” টাঙাওয়ালা বলল, “আকাশে চাঁদও দেখা যায় কত্তা, ওইখানে যাইতে কত দিবেন?” এখন সেই কথাই ফেসবুকে বলা যায়। “আইডিয়া তো সবার সামনে ছিল।” বাহ! বুড়িগঙ্গাও তো সবার সামনে ছিল, তাই বলে যার নৌকা তার বৈঠাও নিয়ে যাবেন?
চুরি আজ আর লজ্জার বিষয় না। চুরি আজ “রেফারেন্স।” আগে নকল বলত। এখন বলে “inspired by.” আগে কারও কবিতার লাইন চুরি করলে কবি জুতো খুলতেন, পাঠক হাততালি দিত। এখন চোরটাই কবি হয়ে যায়, লাইন যার চুরি হয়েছে তিনি কমেন্টে “Nice work” লিখে ভেতরে ভেতরে নিজের আত্মাকে স্যালাইন দিচ্ছেন। তারপর রাত্তিরে বালিশে মুখ গুঁজে ভাবছেন, আমি কি বেশি ভাবছি? নাকি আমার বাক্য সত্যিই অন্যের ঘরে জামাই হয়ে বসেছে?
এই সময়ের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, শ্রমের দাম নেই, লাইকের দাম আছে। আপনি রাত জেগে লিখলেন। নিজের অভিজ্ঞতা, দুঃখ, লজ্জা, ভালোবাসা, পাঠ, স্মৃতি, ব্যর্থতা, সব মিশিয়ে এক কাপ চায়ের মতো বানালেন। অন্যজন এসে সেই কাপ তুলে নিজের ঠোঁটে লাগিয়ে বলল, “আজ সকালে আমার মনে হঠাৎ একটা কথা এল।” হঠাৎ! হঠাৎ নাকি! আমি বলি, হঠাৎ যদি এমনই হয়, তাহলে বিদ্যুৎ বিলও হঠাৎ আপনার বাড়িতে যাক, দেখুন কেমন লাগে।
লেখা চুরি শুধু শব্দ চুরি না। ওর ভেতরে সময় থাকে। আপনি যে রাতে ঘুমাতে পারেননি, সেই রাত থাকে। যে মানুষ আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, তার ছায়া থাকে। যে বইয়ের পাশে আপনি পেন্সিল দিয়ে দাগ কেটেছেন, সেই দাগ থাকে। যে মা রান্নাঘর থেকে ডেকেও আপনাকে লেখার টেবিল থেকে তুলতে পারেননি, সেই ডাকা থাকে। যে ছেলে ছবি তুলে বলেছে, “বাবা, এইটা ভালো,” সেই মুহূর্ত থাকে। একজন এসে সব তুলে নিয়ে নিজের নামে দিলে শুধু বাক্য যায় না, জীবনের ঘামও যায়।
কিন্তু এ যুগের চোরেরা খুব আধুনিক। তারা শুধু লেখা নেয় না, তারা কষ্টের ব্র্যান্ডিংও নেয়। তারা আপনার ভাবনাকে সামান্য পাল্টে দেয়, দুই জায়গায় কমা সরায়, একটা ইংরেজি শব্দ ঢোকায়, শেষে নিজের ছবি দেয়। তারপর কেউ কমেন্ট করে, “আপনার চিন্তার গভীরতা অসাধারণ।” আমি তখন ভাবি, গভীরতা আমার পুকুরে, মাছ ধরছে উনি, আর বাজারে নাম যাচ্ছে তাঁর।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার, চোরেরা নিজেদের খুব নির্দোষ ভাবে। তারা বলে, “ভাই, একই রকম ভাবনা অনেকের মাথায় আসতে পারে।” অবশ্যই পারে। পৃথিবীতে একই সঙ্গে দুইজনের মাথায় প্রেম আসতে পারে, ক্ষুধা আসতে পারে, বিপ্লব আসতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে একই রকম বাক্য, একই বাঁক, একই রসিকতা, একই দুঃখ, একই দাঁড়ি-কমা এসে গেলে তাকে ভাবনা বলা যায় না, তাকে বলা যায় হাতের কাজ বেশ পাকা হয়েছে।
আগে চোর ধরা পড়লে লজ্জায় মাথা নিচু করত। এখন চোর ধরা পড়লে পোস্ট দেয়, “Negativity থেকে দূরে থাকুন।” তারপর আরও তিনজন এসে লেখে, “Ignore them, dada.” কারা them? যে চুরি ধরেছে সে them। যে চুরি করেছে সে dada। আহা, সমাজবিজ্ঞানীরা যদি বেঁচে থাকেন, এই দৃশ্য নিয়ে থিসিস করুন। নাম দিন, “ডিজিটাল যুগে চোরের সামাজিক সম্মান ও ভুক্তভোগীর মানসিক অপরাধবোধ।”
আমাদের সময় অন্তত নকলের একটা লজ্জা ছিল। পরীক্ষায় পাশের খাতা দেখলে বুক ধড়ফড় করত। এখন মানুষ অন্যের লেখা তুলে দিয়ে বুক ফুলিয়ে বলে, “ভাইরাল হয়ে গেছে।” ভাইরাল জিনিস সবসময় সুস্থতার প্রমাণ নয়। জ্বরও ভাইরাল হয়। গুজবও ভাইরাল হয়। চুরি ভাইরাল হলে চোরের আনন্দ হতে পারে, কিন্তু ভাষার জ্বর আসে।
এই যে সবাই কনটেন্ট বানাচ্ছে, সবাই থট লিডার, সবাই কবি, সবাই দার্শনিক, সবাই জীবনদর্শনের পাইকারি দোকান খুলেছে, এটার মধ্যেও বিপদ আছে। ভাবনা এখন আলুর মতো। যেখানে সস্তা পাওয়া যায়, সেখান থেকে বস্তায় ভরে আনো। তারপর নিজের দোকানের সামনে লিখে দাও, “নিজস্ব চাষ।” ক্রেতা খুশি। দোকানদার খুশি। শুধু যে কৃষক মাটিতে ঘাম ফেলেছিল, সে দূরে দাঁড়িয়ে দেখে। তার নাম কেউ জানে না।
আমি কাউকে যুদ্ধের ডাক দিচ্ছি না। আমার যুদ্ধ করার বয়স গেছে কি না জানি না, কিন্তু ধৈর্যের হাঁটুতে ব্যথা ধরেছে। আমি শুধু চাই, মানুষ অন্তত এতটুকু ভদ্রতা রাখুক। কারও কথা ভালো লাগলে নাম দিন। কারও ভাবনা ব্যবহার করলে সূত্র দিন। কারও বাক্য আপনাকে আলো দিলে বলুন, আলোটা কোথা থেকে এসেছে। এতে আপনার আলো কমে না। বরং লোক বুঝবে, আপনি শুধু লিখতে জানেন না, ঋণ স্বীকার করতেও জানেন। ঋণ স্বীকার করা মানুষকে ছোট করে না। বরং চুরি করে বড় সাজতে গেলে মানুষ নিজের ছায়ার কাছেও ছোট হয়ে যায়।
একটা সময় ছিল, চোর মানে অন্ধকারের মানুষ। এখন চোরেরা আলোয় থাকে। আলোও আবার সাধারণ আলো না, রিং লাইট। মুখে কোমল হাসি, চোখে বুদ্ধিজীবী ক্লান্তি, পেছনে বইয়ের তাক, সামনে অন্যের লেখা। তারপর ক্যাপশন, “আজ নিজের সঙ্গে কথা বলতে বলতে লিখে ফেললাম।” নিজের সঙ্গে কথা বলেছেন ঠিকই, কিন্তু কথাগুলো আমার ইনবক্স থেকে কীভাবে গেল, সেই রহস্যে শার্লক হোমসও চা খেয়ে বসে পড়তেন।
আমার এক ঢাকাইয়া কুট্টি বন্ধু থাকলে বলত, “কত্তা, চুরি করবারও নিয়ম আছে। আগে জিনিস চেনেন, পরে চুরি করেন। এইহানে তো হালা মাল চুরি করছে, আবার মালিককেই জিগায়, আপনার প্রমাণ কী?” এই কথার ভেতরে হাসি আছে, কিন্তু বিষও আছে। কারণ আজ প্রমাণও ভুক্তভোগীর দায়িত্ব। আপনার লেখা চুরি হয়েছে, আপনাকেই স্ক্রিনশট রাখতে হবে, তারিখ দেখাতে হবে, আগের পোস্ট দেখাতে হবে, তারপরও শেষে শুনতে হবে, “আপনি বিষয়টা বড় করছেন।”
আমি বড় করছি না। বিষয়টাই বড় হয়ে গেছে। এত বড় যে এখন চুরিকে চুরি বলতে লোকে অস্বস্তি পায়। “চুরি” শব্দটা কেমন নাকি কঠিন। তাই নরম শব্দ বানানো হয়েছে। রিপোস্ট। রিফ্রেম। রিইম্যাজিন। অ্যাডাপ্ট। ইনস্পায়ার্ড। কোলাবোরেটিভ কালচার। বাহ! শব্দের গায়ে সুগন্ধি মাখালেই পকেটমার সাধু হয় না।
আমার কষ্ট এখানেই, যে মানুষটা সিনিয়র, যাঁকে দেখে ভাবতাম, এঁরা পথ দেখান, তাঁরাই যদি পথের সাইনবোর্ড খুলে নিজের বাড়িতে টাঙিয়ে দেন, তাহলে জুনিয়ররা কী শিখবে? তারা শিখবে, মৌলিকতা বোকাদের কাজ। যারা ধীরে লিখে, ভেবে লিখে, নিজেকে খরচ করে লিখে, তারা ধীরগতির মানুষ। যারা দ্রুত তুলে নেয়, দ্রুত পোস্ট করে, দ্রুত লাইক পায়, তারাই সফল। এই শিক্ষা ভয়ংকর। কারণ এতে লেখক তৈরি হয় না, বাজার তৈরি হয়।
আর বাজারের স্মৃতি নেই। বাজার শুধু বিক্রি দেখে। আজ যে চুরি করে ভাইরাল, কাল সে প্যানেলে বসে মৌলিকতা নিয়ে কথা বলবে। পরশু সে তরুণদের বলবে, “নিজের কণ্ঠ খুঁজে নাও।” তখন আমি পেছন থেকে বলব, “দাদা, কণ্ঠ খুঁজতে গিয়ে কারও গলা নিয়ে যাবেন না যেন।”
তবু আমি লিখব। কারণ লেখা আমার কাছে বেঁচে থাকার নোটবই। কেউ চুরি করলে কষ্ট পাব, লজ্জাও পাব, কখনো চুপও থাকব। কিন্তু শব্দের ওপর আস্থা ছাড়ব না। চোর যতই পরিশ্রমী হোক, সে শেষ পর্যন্ত তালা দেখে। লেখক দেখে জানালা। চোর নিয়ে যায় তৈরি জিনিস। লেখক আবার বানায়। এই বানানোর ক্ষমতাই বাঁচিয়ে রাখে।
তবে একটা কথা ভেবে হাসি পায়। সমাজ যদি এভাবেই এগোয়, একদিন দেখব কেউ “চুরি” শব্দটাও নিজের নামে পেটেন্ট করে ফেলেছে। তারপর আমরা চোর বলতেও পারব না। বলতে হবে, “দাদা, আপনার পেটেন্টেড আচরণটা একটু কমান।” আর তিনি রিং লাইটের সামনে বসে উত্তর দেবেন, “ধন্যবাদ। এই ভাবনাটাও আমার বহুদিনের।”
রিটন খান



