সবার জন্য দরজা খোলা রাখার বিপদ
একসময় আমার ধারণা ছিল, মানুষের প্রতি উদার হওয়ার অর্থ নিজের দরজা সর্বক্ষণ খোলা রাখা। যে আসবে, তাকে বসতে দিতে হবে; যে কথা বলতে চাইবে, তার কথা শুনতে হবে; যে দুঃখের বিবরণ নিয়ে হাজির হবে, নিজের কাজ ফেলে তার পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের প্রতি সদয় হতে হলে নিজের সময়, মনোযোগ এবং মানসিক শক্তির হিসাব রাখা চলে না, এমন একটা মহৎ অথচ বেশ নির্বোধ বিশ্বাস বহু বছর বহন করেছি। এ ধরনের বিশ্বাস যৌবনে ভাল মানায়। তখন মনে হয়, হৃদয়ের ভাণ্ডারটি বুঝি পৌরসভার পানির ট্যাংক, যত লোক ইচ্ছা কল খুলে জল নিয়ে যাবে, সরবরাহ কোনওদিন ফুরোবে না।
পরে বুঝেছি, হৃদয় পৌরসভার সম্পত্তি নয়। আর পৌরসভার জলও যে সব সময় থাকে, ভারতীয় উপমহাদেশের নাগরিকেরা সে বিষয়ে আমার চেয়ে বেশি অবহিত।
মানুষের সঙ্গ, কথাবার্তা, উপস্থিতি, এমনকি কারও একটি অনর্থক বার্তার উত্তর দেওয়াও আমাদের ভেতর থেকে কিছু নিয়ে যায়। কখনও খুব সামান্য, কখনও আশ্চর্য রকম বেশি। সব ব্যয় চোখে দেখা যায় না বলে আমরা তার হিসাব রাখি না। কেউ আপনার কাছে আধঘণ্টা বসে নিজের ক্ষোভ উজাড় করে চলে গেল। তার মনে সাময়িক শান্তি এল, আর আপনার বিকেলটির উপর অকারণ বিষণ্নতার একটি পাতলা আস্তরণ পড়ে রইল। কেউ রাতদুপুরে ফোন করে একই সমস্যার ষষ্ঠ সংস্করণ শোনাল, অথচ আগের পাঁচবার আপনার পরামর্শের একটি শব্দও সে গ্রহণ করেনি। ফোন রাখার পর সে নিশ্চিন্তে ঘুমোল, আপনি ছাদের দিকে তাকিয়ে মানুষের চরিত্র এবং নিজের বুদ্ধিবৃত্তির সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভাবতে থাকলেন। সাহায্য করলেন কে, উপকৃত হল কে, এ হিসাব অনেক সময় বেশ গোলমেলে।
আমার জীবনে এমন মানুষও এসেছেন, যাঁদের সঙ্গে এক ঘণ্টা কাটিয়ে মনে হয়েছে দিনটি একটু বড় হয়ে গেল, পৃথিবীটি সহনীয় হল, নিজের ভেতরের কথাগুলিও যেন স্পষ্টভাবে শুনতে পেলাম। আবার কিছু মানুষের সঙ্গে দশ মিনিট কথা বলে মনে হয়েছে কেউ ঘরের সমস্ত জানালা বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁরা হয়তো মন্দ মানুষ নন। বেশির ভাগ মানুষই নিজেদের পারিবারিক আদালতে নির্দোষ এবং অন্যের স্মৃতিকথায় কিছুটা অপরাধী। তাঁদের দোষের তালিকা তৈরি করে লাভ নেই। শুধু এটুকু বোঝা দরকার, প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেক মানুষের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী নয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি উপস্থিতির মূল্য বুঝতে শিখেছি। মানুষ সাধারণত অর্থ খরচ করার আগে ভাবে, যদিও অনলাইন কেনাকাটার যুগে সে দাবিও একটু অতিরঞ্জিত। কিন্তু সময় এবং মনোযোগ খরচ করার সময় আমাদের মধ্যে কোনও হিসাবরক্ষক কাজ করে না। আমরা এমন মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দিই, যাঁরা আমাদের একটি মনোযোগী মিনিটও দিতে প্রস্তুত নন। এমন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখি যার একমাত্র ভিত্তি বহু বছরের পরিচয়, যেন পুরনো হলেই সব জিনিস মূল্যবান হয়। পুরনো জ্বর, পুরনো ঋণ এবং পুরনো বিরক্তিকর আত্মীয়ের ক্ষেত্রে এ তত্ত্ব খুব কার্যকর বলে মনে হয় না।
মনোযোগ এক ধরনের বিনিয়োগ। যেখানে তা রাখা হয়, ধীরে ধীরে আমাদের জীবনও সেদিকে ঝুঁকে যায়। সারাদিন অভিযোগকারী মানুষের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীকে অভিযোগের উপাদান হিসেবেই দেখতে শুরু করি। সর্বক্ষণ অন্যের নিন্দায় ব্যস্ত মানুষের কাছাকাছি থাকলে অনুপস্থিত মানুষদের চরিত্রচ্ছেদ আমাদেরও একটি অবসরবিনোদনে পরিণত হয়। যারা প্রতিটি আনন্দে সন্দেহ, প্রতিটি সাফল্যে ঈর্ষা এবং প্রতিটি সম্পর্কের মধ্যে গোপন উদ্দেশ্য খোঁজে, তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন চললে মনের স্বাভাবিক বিশ্বাসশক্তি শুকিয়ে আসে। বিষ সব সময় কাচের শিশিতে মাথার খুলি আঁকা লেবেল নিয়ে আসে না। অনেক সময় তা বন্ধুত্বের ভাষায়, পরিচিত হাসিতে, নিয়মিত ফোনকলে আসে।
এই কারণে নিজের সঙ্গ বেছে নেওয়া অহংকারের ব্যাপার নয়। বরং নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান। আমি এত শক্তিশালী নই যে, সকলের বিশৃঙ্খলা গ্রহণ করেও অক্ষত থাকব। এত জ্ঞানীও নই যে, প্রত্যেক ভগ্ন মানুষকে মেরামত করতে পারব। সত্যি বলতে, নিজের ভেতরের দু-একটি ভাঙা তাক এখনও সোজা করে উঠতে পারিনি; এর মধ্যে অন্যের সমগ্র আসবাবপত্র সংস্কারের ঠিকাদারি নেওয়া কিছুটা দুঃসাহসের কাজ।
নির্বাচনশীলতার সঙ্গে ঔদ্ধত্যের তফাত আছে। ঔদ্ধত্য অন্য মানুষকে ছোট করে নিজের উচ্চতা মাপে। বিচক্ষণতা কাউকে ছোট না করেও দূরত্ব নির্ধারণ করতে পারে। একজন মানুষকে সম্মান করা যায়, অথচ তাকে নিজের অন্তরঙ্গ পরিসরে প্রবেশাধিকার না দিয়েও। তার মঙ্গল কামনা করা যায়, তার প্রতিটি সংকটে ব্যক্তিগত উদ্ধারকারী হয়ে না দাঁড়িয়েও। সভ্যভাবে কথা বলা যায়, নিয়মিত যোগাযোগ না রেখেও। মানবিকতার জন্য সকলকে ঘরের চাবি দেওয়া আবশ্যক নয়।
আমি এখন সম্পর্ককে দেয়াল দিয়ে ঘেরা দুর্গের মতো ভাবতে চাই না। দেয়াল মানুষের দৃষ্টি বন্ধ করে, ভয় বাড়ায়, ভিতরে থাকা লোককেও বন্দি করে। আমার পছন্দ দরজা এবং ফটকের ধারণা। ফটক আছে মানে পথও আছে, প্রবেশের সম্ভাবনাও আছে, কিন্তু তার একটি উদ্দেশ্য এবং নিয়ম রয়েছে। কে আসবে, কত দূর আসবে, কতক্ষণ থাকবে, তার কিছু বিচার থাকা দরকার। বাড়ির প্রধান দরজা খোলা রাখা আতিথেয়তা হতে পারে; মধ্যরাতে অচেনা পথিককে শোওয়ার ঘরের আলমারির চাবি দিয়ে দেওয়া আতিথেয়তার চেয়ে অন্য কিছুর লক্ষণ।
আমাদের সংস্কৃতিতে ‘না’ বলাকে প্রায়ই রূঢ়তা মনে করা হয়। বিশেষ করে এমন পরিবার ও সমাজে, যেখানে ব্যক্তিগত সীমা বলতে অনেক সময় বাড়ির সীমানাপ্রাচীর বোঝায়, মানুষের মানসিক সীমানা নয়। কেউ সময় চাইলে দিতে হবে, আত্মীয় সাহায্য চাইলে সামর্থ্যের বাইরে গেলেও করতে হবে, পুরনো বন্ধু কথা বলতে চাইলে নিজের ক্লান্তি অস্বীকার করতে হবে। তারপর একদিন দেখা যায়, সকলের দাবি পূরণ করতে করতে নিজের জন্য যে সামান্য অবকাশ দরকার ছিল, সেটিও আর অবশিষ্ট নেই। মানুষ তখন বিরক্ত হয়ে ওঠে, অথচ বিরক্তির প্রকৃত কারণ যাঁদের উপর বিরক্ত হচ্ছে তাঁরা নাও হতে পারেন। নিজের অক্ষমতা স্বীকার না করে অতিরিক্ত দরজা খুলে রাখার শাস্তি আমরা অন্যদের দিই।
সবাই আমার শক্তি পাওয়ার অধিকারী, এই ধারণার ভিতরে গোপন আত্মগরিমাও থাকতে পারে। যেন আমার সঙ্গ এতই অপরিহার্য যে, আমি না থাকলে মানুষের জীবন থেমে যাবে। বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ আমাদের অনুপস্থিতিতেও বেশ ভালভাবে খায়, ঘুমায়, উৎসব করে এবং প্রয়োজনে অন্য কাউকে ফোন করে। এই তথ্য প্রথমে কিছুটা অপমানজনক মনে হলেও পরে ভারী স্বস্তি দেয়। পৃথিবী আমার কাঁধে বসে নেই। আমি ফোন বন্ধ করলে সভ্যতা ধ্বংস হবে না।
নিজের উপস্থিতিকে বাছাই করে দেওয়ার মধ্যে তাই এক ধরনের শৃঙ্খলা আছে। যেখানে সত্যিকার মনোযোগ দিতে পারব, সেখানেই থাকা; যার কথা শুনব, তাকে অর্ধেক মন নয়, পূর্ণ মন দেওয়া; যে কাজ গ্রহণ করব, তার পাশে যথাসম্ভব বিশ্বস্ত থাকা। সর্বত্র অল্প অল্প ছড়িয়ে থাকলে মানুষ অনেকের পরিচিত হয়, কারও আপন হতে পারে না। আমাদের সময়ে এই ছড়িয়ে থাকার সুযোগ এবং প্রলোভন দুই-ই বেড়েছে। একটি ফোনের পর্দায় শত শত মানুষের জীবন, মতামত, খাদ্যতালিকা, অসুখ, প্রেম, বিরহ এবং বিমানবন্দরের ছবি আমাদের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে থাকে। এত মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে আমরা প্রায়ই নিজের নিকটতম মানুষের মুখের ক্লান্তি লক্ষ্য করি না। প্রযুক্তি যোগাযোগের পরিমাণ বাড়িয়েছে, মনোযোগের গভীরতা নয়।
একজন রসজ্ঞ মানুষ যেমন খাবারের সামনে বসে সবকিছু একসঙ্গে মুখে পুরে দেন না, তেমনি জীবনেও বাছাই দরকার। ‘কনোসার’ শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ নিয়ে পণ্ডিতেরা তর্ক করতে পারেন; আমি আপাতত রসজ্ঞ বলেই কাজ চালাই। রসজ্ঞ জানেন, প্রাচুর্য সব সময় আস্বাদ বাড়ায় না। অনেক সময় একটি ভাল বই, একটি দীর্ঘ আলাপ, একটি নির্ভরযোগ্য বন্ধুত্ব, একটি শান্ত বিকেলই যথেষ্ট। ভিখারির মতো মনোযোগ চাইতে চাইতে এবং ভিখারির মতো সকলের অনুমোদন সংগ্রহ করতে করতে আমরা নিজের রুচিবোধ হারিয়ে ফেলি। কে আমাকে ডাকল, কে উত্তর দিল না, কে আমার ছবি পছন্দ করল, কে আমার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করল, এসব ক্ষুদ্র বাজারদরের উপর আত্মমর্যাদা নির্ভর করতে শুরু করে।
নিজের উপস্থিতিকে দুষ্প্রাপ্য করার উদ্দেশ্য অন্যের কৌতূহল বাড়ানো নয়। দুষ্প্রাপ্যতা কোনও সামাজিক কৌশল হলে তার মধ্যে আবার সেই পুরনো বাজারদর ঢুকে পড়ে। আজকাল অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তর দিতে দেরি করেন, যেন ব্যস্ততার অভিনয় সামাজিক মর্যাদার প্রমাণ। যে মানুষ তিন দিন পরে ‘সরি, খুব ব্যস্ত ছিলাম’ লেখে, তাকে প্রায়ই দেখি ওই তিন দিনে অনলাইনে চব্বিশটি রিল, সাতটি রাজনৈতিক মতামত এবং দুপুরের বিরিয়ানির ছবি প্রকাশ করেছেন। ব্যস্ততা বড় বিচিত্র বস্তু; প্রয়োজনমতো উপস্থিত এবং দায়িত্বের সময় অদৃশ্য।
আমার কাছে নির্বাচিত উপস্থিতির অর্থ নিজের জীবনের কেন্দ্র চিনে নেওয়া। কয়েকজন মানুষ, কিছু কাজ, কিছু নীরবতা, কয়েকটি বই, পরিবারের সঙ্গে নির্ভার সময়, এবং এমন কিছু সম্পর্ক যেখানে সারাক্ষণ নিজেকে ব্যাখ্যা করতে হয় না। যাদের কাছে নীরব থাকলেও ভুল বোঝাবুঝি জন্মায় না, সাফল্যের কথা বললে ঈর্ষার কুয়াশা নামে না, দুর্বলতা প্রকাশ করলে তা ভবিষ্যতের অস্ত্রাগারে জমা হয় না, তাদের কাছে নিজের শক্তি ব্যয় করা অপচয় মনে হয় না। বরং সেই ব্যয়েই মানুষ পুনরায় শক্তি পায়।
কিছু সম্পর্ক আমাদের কাছ থেকে শুধু নেয়। কিছু সম্পর্ক নেওয়া-দেওয়ার হিসাব ছাড়িয়ে যায়, কারণ সেখানে পাশে থাকাটাই এক ধরনের আশ্রয়। পার্থক্যটি সব সময় প্রথম সাক্ষাতে বোঝা যায় না। মানুষ চেনার জন্য সময় লাগে, আর নিজের ভুল স্বীকার করার জন্য আরও বেশি সময়। আমি বহু মানুষকে প্রয়োজনের চেয়ে দীর্ঘদিন কাছে রেখেছি, শুধু এই কারণে যে একসময় তাঁদের কাছে এনেছিলাম। নিজের পূর্ব সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতে আমাদের বড় অনীহা। ভুল মানুষকে দূরে সরানোর চেয়ে ভুল স্বীকার করা যেন বেশি কষ্টকর। ফলে সম্পর্কটি মৃত, আমরা তার বার্ষিকী পালন করে যাই।
দূরত্ব সব সময় শাস্তি নয়। অনেক সময় দূরত্বই সম্পর্কের প্রতি শেষ সৌজন্য। কাছাকাছি থাকলে যেখানে বিরক্তি, অপমান এবং ক্ষয় বাড়ে, সেখানে একটু সরে যাওয়া উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক হতে পারে। প্রত্যেক বিচ্ছেদে ঘোষণাপত্রেরও প্রয়োজন নেই। সব দরজা ধাক্কা দিয়ে বন্ধ করতে হয় না; কিছু দরজা নিঃশব্দে টেনে দেওয়া যায়। ভিতর থেকে ছিটকিনি লাগানোর সময় ঢাকঢোল পেটালে প্রতিবেশীরা বিনোদন পেলেও নিজের শান্তি বিশেষ বাড়ে না।
জীবনের একটি পর্যায়ে এসে আমি বুঝেছি, উপস্থিতি মানুষের নীরব স্বাক্ষর। আমি যেখানে নিয়মিত থাকি, যাদের কথা মন দিয়ে শুনি, যেসব কাজে আমার সেরা সময় দিই, শেষ পর্যন্ত সেগুলিই আমার জীবনের পরিচয় হয়ে ওঠে। মুখে আমি কী মূল্যবোধ ঘোষণা করলাম, তার চেয়ে কাকে আমার বিকেল দিলাম, কার জন্য রাত জাগলাম, কোন কাজের পাশে বছর কাটালাম, সেই হিসাবটি বেশি সত্য।
তাই এখন আর সকলের কাছে নিজেকে সমানভাবে বিলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে না। কাউকে ঘৃণা করার প্রয়োজনও দেখি না। পৃথিবীতে বহু মানুষ আছেন যাঁদের সঙ্গে আমার কোনও বিরোধ নেই, আবার কোনও ঘনিষ্ঠতার প্রয়োজনও নেই। তাঁদের পথ তাঁদের মতো চলুক, আমার পথও একটু ফাঁকা থাক। ফটকটি বন্ধ নয়। তবে তার পাশে একটি ছোট বাতি জ্বলে, আর ভেতরে প্রবেশের আগে আমাকে অন্তত একবার দেখে নিতে হয়, আগন্তুকটি আশ্রয় চাইছেন, সঙ্গ চাইছেন, না শুধু নিজের বোঝা নামিয়ে হালকা হয়ে চলে যেতে এসেছেন।
এই বিচার প্রতিবার নির্ভুল হবে, এমন দাবি করার সাহস আমার নেই। মানুষের মুখ পড়ার বিদ্যায় বহুবার অকৃতকার্য হয়েছি, ভবিষ্যতেও হব। তবু ব্যর্থতার আশঙ্কায় সব দরজা খুলে রাখা যায় না। জীবন খুব দীর্ঘ নয়, শক্তির ভাণ্ডারও অফুরন্ত নয়। যেটুকু আছে, তাকে যত্ন করে ব্যয় করাই বোধ হয় প্রজ্ঞার কাছাকাছি কোনও ব্যাপার।
শেষ পর্যন্ত মানুষকে বাদ দেওয়ার চেয়ে নিজের জীবনে কী রাখব, সেই প্রশ্নটিই বড় হয়ে ওঠে। কয়েকটি সম্পর্ক, যেখানে মন শান্ত থাকে। কয়েকটি আলাপ, যার পর নিজের কাছে ফিরতে ভাল লাগে। কিছু নীরবতা, যেখানে কোনও অভিনয় নেই। আর এমন একটি দরজা, যা খুলতে আমার ভয় নেই, বন্ধ করতে অপরাধবোধ নেই।
রিটন খান




It’s very important to select our own way for meaningful & enjoyable life. But when we realise that then we saw our valuable time of life is to gone!
Thanks to you sharing your valuable concept.