I wish good essays could pay rent on their own. Until they learn how, paid subscriptions keep this publication alive.
একটি মানুষের জীবন কতখানি জানা সম্ভব? প্রশ্নটা গোয়েন্দারও হতে পারে, প্রেমিকেরও। মৃত মানুষের চিঠি হাতে নিয়ে বসে থাকা বোনের কাছে এর আরেক অর্থ। অ্যান কারসনের Nox খুললে প্রশ্নটিকে প্রায় ছুঁয়ে দেখা যায়। বাক্সের ভিতরে ভাঁজ করা দীর্ঘ কাগজ। সেই কাগজে ছবি, চিঠির অংশ, হাতের কাজের চিহ্ন, ভাষার টুকরো। ভাইয়ের স্মৃতিতে তৈরি বইটি পড়তে পড়তে হাতকে অন্যভাবে কাজ করতে হয়। খুলতে হয়, ছড়াতে হয়, আবার ভাঁজ করতে হয়। স্মৃতির সঙ্গে শরীরের একটা বোঝাপড়া ঘটে। যে মানুষটিকে জানা যাচ্ছে, তাঁর অনুপস্থিতিও জায়গা নিয়ে বসে থাকে। [৮]
২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অ্যান কারসনকে দেওয়ার ঘোষণাটি এই পাঠের অভিজ্ঞতাকে বৃহত্তর আলোচনার কেন্দ্রে রাখল। সুইডিশ একাডেমি তাঁর সাহসী ও উদ্ভাবনশীল রচনাভুবনকে স্বীকৃতি দিয়েছে; ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে কৌতুকময় কথোপকথনের ভিতর দিয়ে সমকালীন সাহিত্যের নতুন রূপ গড়ার কথা উল্লেখ করেছে। [১] কথাটা যথার্থ। এর ভিতরে ঢোকার জন্য অবশ্য ‘উদ্ভাবন’ শব্দটিকে একটু সময় দিতে হবে। কারসনের বইয়ে নতুন আকারের সঙ্গে অনুভবের নতুন দায় যুক্ত থাকে। একটি জীবনকে গোছাতে গিয়ে আমরা কী বাদ দিই, একটি পুরোনো কবিতাকে সহজ করতে গিয়ে কী মুছে ফেলি, কাউকে ভালোবেসে তাকে কতখানি নিজেদের ভাষায় বন্দী করি, এসব প্রশ্ন তাঁর রচনার গঠন পর্যন্ত বদলে দেয়।
কারসনকে পড়ার একটি সূত্র তাই অপূর্ণতা। এই সূত্র তাঁর সমস্ত বইয়ের তালা খোলার একমাত্র চাবি দাবি করে না। ইচ্ছা, ইতিহাস, অনুবাদ ও শোকের বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় তিনি আমাদের জানার সীমাটিকে কাজে লাগান। সেই সীমার কাছে দাঁড়িয়ে পাঠককে মনোযোগ দিতে হয়। ফাঁক দেখলেই দ্রুত পূরণ করার যে অভ্যাস, তা খানিক থামাতে হয়। আমাদের সময়ে তথ্যের সঙ্গে এমন সম্পর্ক বেশ অস্বস্তিকর। পর্দায় প্রশ্ন লিখলেই উত্তর হাজির, মানুষের পরিচয় কয়েকটি বাক্যে সংক্ষেপ করা যায়, বইয়ের সারাংশ পড়ে বই সম্পর্কে মত দেওয়ার সুযোগও অঢেল। কারসন এই তৎপরতার মধ্যে ধীরে পড়ার একটি দাবি রাখেন। অন্য মানুষের জটিলতার জন্য কতটা সময় বরাদ্দ করছি, প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত সেখানেও পৌঁছায়।
পুরোনো ভাষার ভিতরে বর্তমান
অ্যান কারসনের জন্ম ১৯৫০ সালের ২১ জুন, টরন্টোতে। শৈশব কেটেছে অন্টারিওর বিভিন্ন শহরে। গ্রিক ও লাতিন ভাষার অধ্যয়ন তাঁর লেখকজীবনের কেন্দ্রীয় প্রস্তুতি। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ১৯৮১ সালে পিএইচডি করেছেন; সেন্ট অ্যান্ড্রুজেও ধ্রুপদি ভাষা ও সাহিত্য পড়েছেন। [২, ৩] এই কয়েকটি তথ্য তাঁর পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেয়। লেখায় সেই পাণ্ডিত্য কী করে, সেটিই বেশি আকর্ষণীয়। বহু পুরোনো বাক্যের সঙ্গে আধুনিক একাকিত্বকে তিনি একই টেবিলে বসান। সময়ের ব্যবধান কথোপকথনের বিষয় হয়ে ওঠে।
ধ্রুপদি সাহিত্য নিয়ে আমাদের একটা আরামদায়ক ধারণা আছে। পুরোনো বইয়ে নাকি চিরকালের সত্য সুন্দর করে রাখা থাকে; প্রয়োজনমতো খুলে ব্যবহার করা যায়। কারসনের কাজ পড়লে তাক থেকে বই নামানোর সঙ্গে সঙ্গে তাকটিকেও পরীক্ষা করতে ইচ্ছা করে। কোন লেখা টিকেছে? কার হাতে? কোন শব্দের একাধিক মানে? যে চরিত্রকে সামান্য জায়গা দেওয়া হয়েছে, তার অভিজ্ঞতা কত বড়? উত্তর খোঁজার সরঞ্জাম হিসেবে তিনি ভাষাতত্ত্ব, উদ্ধৃতি, কল্পনা ও ব্যক্তিগত স্বরের বিভিন্ন ব্যবহার করেন। প্রতিটি সরঞ্জামের ক্ষমতা আলাদা। এই আলাদা ক্ষমতাগুলো পাশাপাশি থাকায় পাঠক কখনও প্রবন্ধ পড়ছেন, কখনও গল্পের ভিতরে ঢুকছেন, কখনও একটি বাক্যের কাছে আটকে যাচ্ছেন।
২০০৪ সালে প্যারিস রিভিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারসন আবেগের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করা এবং সেই অভিজ্ঞতাকে বোঝার মধ্যে ফারাক রেখেছিলেন। কবিতা পাঠককে নিজের বোঝার কাজে প্রবৃত্ত করতে পারে, তাঁর কথায় সেই সম্ভাবনাও ছিল। [২] এই মন্তব্য মনে রাখলে তাঁর লেখার শীতল বলে মনে হওয়া পৃষ্ঠতলের অন্য ব্যবহার ধরা পড়ে। তিনি সর্বক্ষণ পাঠকের অনুভূতির নির্দেশক হয়ে পাশে দাঁড়ান না। কোথায় কাঁদতে হবে, কোথায় বিমুগ্ধ হতে হবে, তার সংকেত কমিয়ে দেন। ফলে পাঠকের নিজের স্মৃতি ও বিচার সক্রিয় হওয়ার অবকাশ বাড়ে। জ্ঞান এখানে পাঠের একটি শ্রম। আবেগও শ্রম চায়।
কারসনের পাণ্ডিত্য পাঠককে কখনও দূরে ঠেলে দিতে পারে। অজানা নামের ভিড় দেখে মনে হয়, ঘরে ঢোকার আগে অনেক পরীক্ষায় পাস করতে হবে। এই সংকোচের সামাজিক দিকও আছে। প্রাচীন ভাষা শেখার সময় ও সুযোগ সকলের সমান নয়। ফলে তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনার একটি দায় হলো প্রয়োজনীয় প্রসঙ্গ খুলে দেওয়া। সূত্র বুঝিয়ে বলাকে সাহিত্য হালকা করে ফেলা মনে করলে পাঠের দরজাটি অকারণে সরু হয়। একই সঙ্গে পাঠককে প্রতিটি উল্লেখের ব্যাখ্যা সঙ্গে নিয়ে চলতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতাও চাপানো যায় না। কখনও বাক্যের গতি, দৃশ্যের অদ্ভুততা বা কৌতুক আগে কাজ করে। বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল ধীরে ধীরে নিজের রাস্তা খুঁজে নিতে পারে। কঠিন লেখাকে সহজে প্রবেশযোগ্য করার কাজটিও তাই সাহিত্যচর্চার অংশ।
আকাঙ্ক্ষার মাপজোখ
১৯৮৬ সালে প্রকাশিত Eros the Bittersweet সেই শ্রমের একটি প্রাথমিক মানচিত্র। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও দর্শনের ভিতর দিয়ে কারসন আকাঙ্ক্ষার মধুর এবং বেদনাময় প্রকৃতি অনুসন্ধান করেন। ‘তিক্তমধুর’ শব্দে দুই অনুভূতির যুগপৎ উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। ভালোবাসা প্রথমে সুখ দিল, পরে দুঃখ দিল, এমন সরল সময়সূচি দিয়ে বিষয়টি ধরা যায় না। আকাঙ্ক্ষার মুহূর্তেই প্রিয় বস্তুটির দূরত্ব অনুভূত হয়। নিজে, অভীষ্ট মানুষ বা বস্তু, এবং মাঝখানের ব্যবধান মিলে সম্পর্কের একটি জ্যামিতি তৈরি করে। বইটিতে পড়া ও লিখিত ভাষার প্রশ্নও এই অনুসন্ধানের অংশ। [৪]
এই জ্যামিতিকে দৈনন্দিন জীবনে চিনতে অসুবিধা হয় না। একটি চিঠির জন্য অপেক্ষা করার সময় মানুষটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, চিঠি না পৌঁছানোর সময়টাও তেমনি অনুভবকে গড়ে। প্রত্যাশা ঘটনার আগে তার আকার বানিয়ে ফেলে। কারও মুখের একটি বাক্য বহুবার মনে পড়ে; প্রতিবার তার অর্থ একটু সরে যায়। আকাঙ্ক্ষার ভিতরে কল্পনা এত সক্রিয় বলেই অন্য মানুষ সম্পর্কে আমাদের নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রায়শই নিজের বাসনার পরিচয় বহন করে। কারসনের সূত্র ধরে এখানে একটি প্রশ্ন তোলা যায়: কাউকে জানতে চাওয়ার কতখানি তার দিকে তাকানো, কতখানি নিজের তৈরি ছবিটিকে স্পষ্ট করার চেষ্টা?
বাংলার পাঠকের কাছে বিরহের দীর্ঘ সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা এই আলোচনার একটি দরজা খুলতে পারে। দূরত্বের মধ্যে প্রিয়জনের উপস্থিতি ঘন হওয়ার কথা আমাদের অপরিচিত নয়। তবে এই সাদৃশ্য দিয়ে দুটি আলাদা ঐতিহাসিক পরম্পরাকে এক করে ফেলা সহজ হবে। কারসনের গ্রিক পাঠের নিজস্ব ভাষাগত ও দার্শনিক প্রেক্ষাপট আছে। তুলনাটি কাজে লাগুক পাঠকের নিজের অভিজ্ঞতাকে প্রশ্ন করতে। বিচ্ছেদকে সুন্দর বলার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করলে বাস্তব যন্ত্রণার উপর একটি আকর্ষণীয় আবরণ পড়ে। আকাঙ্ক্ষার সাহিত্য পড়ার সময় সেই ঝুঁকিও মনে রাখা দরকার।
কারসনের ভাবনাকে প্রেমের ব্যবহারিক উপদেশে নামিয়ে ফেললেও ক্ষতি। দূরত্ব বজায় রাখলে সম্পর্ক টিকবে, এমন সিদ্ধান্ত এই আলোচনা থেকে নেওয়া হাস্যকর হবে। এখানে দূরত্ব অভিজ্ঞতার একটি শর্ত, সম্পর্ক পরিচালনার কৌশল হিসেবে তার প্রয়োগ বিপজ্জনক। সাহিত্য আমাদের অনুভবের গঠন দেখতে সাহায্য করে। গঠনটি দেখা হয়ে গেলে আচরণের দায় আবার আমাদেরই নিতে হয়। জ্ঞান ও অধিকারের মধ্যে তফাত রাখার প্রয়োজনটি সেখানেই। একজন মানুষকে বোঝার চেষ্টা তাঁর সম্পর্কে শেষ কথা বলার অনুমতি দেয় কতখানি, প্রশ্নটি খোলা থাকে।
লাল ডানার ছেলেটি
Autobiography of Red উপন্যাসে এই প্রশ্ন শরীর পায়। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত পদ্যে লেখা উপন্যাসটির গেরিয়ন লাল, ডানাওয়ালা এক কিশোর। তার পারিবারিক জীবনে নির্যাতন আছে, হেরাক্লেসের সঙ্গে প্রেম আছে, পরিত্যক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। ক্যামেরা হাতে ছবি তোলাও তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। [৫, ১৬] প্রাচীন কবি স্তেসিখোরোসের গেরিয়নের কাহিনি এই পুনর্লিখনের ভিত্তি। প্রাচীন রচনাতেই চরিত্রটির দিকে সহানুভূতিশীল মনোযোগের পথ তৈরি হয়েছিল। কারসন সেই দৃষ্টিবদলের উত্তরাধিকারকে আধুনিক যৌনতা, কৈশোর ও শিল্পচর্চার ভিতরে নতুন জীবন দেন। [৬]
গেরিয়নের লাল শরীরকে একটিমাত্র প্রতীকের মানে দিয়ে স্থির করে ফেলতে ইচ্ছা হতে পারে। লাল মানে লজ্জা, লাল মানে কামনা, লাল মানে বিপদ। বই পড়ার আনন্দ বাড়ে যখন রংটিকে কিছু চলাফেরার সুযোগ দেওয়া যায়। মানুষটির শরীর অন্যের চোখে দৃশ্যমান, নিজের কাছেও সেই দৃশ্যমানতার চাপ আছে। আলাদা বলে চিহ্নিত হওয়ার অভিজ্ঞতা আত্মপরিচয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ে। নিজের সম্পর্কে ভাবতে গিয়েও সে বাইরের চোখটিকে সঙ্গে বহন করে। আমাদের সামাজিক ভাষায় ‘স্বাভাবিক’ শব্দটি কী বিরাট কাজ করে, গেরিয়নের দিকে তাকালে তা মনে পড়ে। শব্দটির ভিতরে কারা নিশ্চিন্তে বসতে পারে, কারা সারাক্ষণ ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হয়?
সমকামী আকাঙ্ক্ষার এই কাহিনিতে প্রেম ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ চিনে ফেলার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে কতটা, সে প্রশ্নও থাকে। প্রিয় মানুষটি আমাদের দেখতে পারেন, ভুলও দেখতে পারেন। তাঁর দৃষ্টির ভিতরে স্বীকৃতি খুঁজতে গিয়ে নিজের সমস্ত মূল্য জমা রাখলে ভঙ্গুরতা বাড়ে। গেরিয়নের আলাদা শরীর ও তার চাওয়া তাই পাশাপাশি পড়তে হয়। তার কষ্টের কারণ হিসেবে শুধু ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতাকে দায়ী করলে চারপাশের সম্পর্কের ক্ষমতা আড়াল হয়। আবার তাকে কেবল সামাজিক বর্জনের উদাহরণ বানালে তার নিজস্ব কল্পনা, কৌতুক ও দেখার ধরন ছোট হয়ে যায়।
এখানে ক্যামেরার গুরুত্ব। ছবির বিষয় হওয়া এবং ছবি তোলা, দুই অবস্থানে ক্ষমতার বিন্যাস বদলে যায়। ক্যামেরা হাতে মানুষ ফ্রেম বেছে নেয়, দূরত্ব ঠিক করে, একটি মুহূর্ত ধরে রাখে। গেরিয়নের শিল্পী হয়ে ওঠাকে এই নির্বাচনের ক্ষমতা অর্জন হিসেবেও পড়া সম্ভব। যে শরীরকে অন্যেরা বিশেষ নামে ডাকে, সেই শরীরের অধিকারীও পৃথিবীর ছবি তৈরি করতে পারে। তবু একটি ছবি সম্পূর্ণ সত্যের নিশ্চয়তা দেয় না। ফ্রেমের বাইরেও জীবন থাকে। ফলে শিল্প তাকে নিজের দৃষ্টি ব্যবহারের সুযোগ দেয়, সেই দৃষ্টির সীমাও বহাল রাখে। এই দ্বৈত অভিজ্ঞতার মধ্যে কারসনের শিল্পভাবনার একটি সজীব রূপ দেখা যায়।
উপন্যাসটির নামও পাঠকের প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করে। আত্মজীবনী শব্দটি দেখলে আমরা একটি জীবনের ধারাবাহিক বিবরণ আশা করি। গেরিয়নের লাল রং সেই প্রত্যাশার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে। জীবনের পরিচয় তার ঘটনাক্রমের সঙ্গে শরীরের অনুভূতি দিয়েও তৈরি হয়। নিজের কথা বলার অধিকার পাওয়া মাত্রই কথাগুলো সুবিন্যস্ত হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো অভিজ্ঞতার ভাষা পাওয়ার আগেই তার ছবি তৈরি হতে পারে। গেরিয়নের শিল্পীসত্তাকে এইভাবে ভাবলে কৈশোরের অসহায়তার ভিতরে একটি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও দেখা যায়। নিজের জীবন বোঝার জন্য সে ক্রমশ নিজস্ব মাধ্যম খুঁজছে। পাঠক সেই খোঁজের সঙ্গী হন; চরিত্রটির জন্য বাইরে থেকে একটি প্রস্তুত পরিচয় এনে দেওয়ার তাড়া সাময়িকভাবে কমে।
সৌন্দর্যের পক্ষে কতখানি সাক্ষ্য
The Beauty of the Husband বইয়ে সম্পর্কের আরেক অস্বস্তি অপেক্ষা করছে। ২০০১ সালের এই বইয়ের আকার উনত্রিশটি ট্যাঙ্গো। কিটসের সৌন্দর্য ও সত্যের সম্পর্কিত ভাবনা, একটি বিবাহের ভাঙন, আকর্ষণ এবং কৌতুক এর উপাদান। [৭] বইটি সেই বছরের টি এস এলিয়ট পুরস্কার পেয়েছিল; কারসন ছিলেন পুরস্কারটির প্রথম নারী বিজয়ী। [৯] স্বীকৃতির ইতিহাসের বাইরে এর জরুরি প্রশ্নটি সহজ: কারও সৌন্দর্য তার আচরণের বিচারে কতখানি অতিরিক্ত সুবিধা আদায় করে?
আমরা প্রায়ই সৌন্দর্যের সঙ্গে এমন কিছু গুণ জুড়ে দিই, যাদের পক্ষে সৌন্দর্য কোনো সাক্ষ্য দেয়নি। একটি মুখ, একটি কণ্ঠস্বর, একটি সুন্দর বাক্যকে বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ মনে হয়। আকর্ষণ বিচারকে নিজের পক্ষে কাজ করায়। প্রেমের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বিশেষ ঘন, যদিও শিল্পের পাঠকও এর বাইরে থাকেন না। একটি বাক্যের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার দাবি যাচাই করা স্থগিত রাখি। কারসনের বই নিয়ে ভাবতে গেলে পাঠকের নিজের এই অভ্যাসটিও পরীক্ষার মধ্যে পড়ে। ভালো লেখা পড়ার আনন্দ এবং তার নৈতিক নির্ভরযোগ্যতা বিচার করার কাজ পাশাপাশি চলতে পারে।
ট্যাঙ্গোর আকার সেই সম্পর্ককে আরও জটিল করে। নাচে কাছাকাছি থাকা, সাড়া দেওয়া, টান ও বিরতির একটা ছন্দ রয়েছে। সম্পর্কের পুনরাবৃত্তিকেও এমন ছন্দে পড়া যায়। একই আকর্ষণ আবার কাজ করে, পরিচিত আঘাতের পরেও শরীর পরিচিত গতিতে ফেরে। বাইরে দাঁড়ানো দর্শক সহজে জানতে চান, মানুষটি চলে যায় না কেন। নাচের ভিতরের সময় অন্যরকম। তার প্রতি মনোযোগ দিলে সিদ্ধান্তের জট খুলে যায় এমন নিশ্চয়তা নেই; তবু বিচার করার আগে অভিজ্ঞতার ঘনত্ব বোঝার সম্ভাবনা বাড়ে। এই বইয়ের দাম্পত্যকে লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করলে সাহিত্য যে বোঝার জায়গা তৈরি করেছে, তা গুজবের সুবিধায় নষ্ট হয়।
শোকের অভিধান
Nox-এ ফিরে গেলে জানার প্রশ্নটির ভার বদলে যায়। বইটি কারসনের ভাই মাইকেলের স্মৃতিতে নির্মিত। ক্যাটুলাসের মৃত ভাইকে নিয়ে লেখা ১০১ নম্বর কবিতার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। লাতিন শব্দের অনুসন্ধান, ব্যক্তিগত স্মৃতির উপকরণ এবং মৃত ভাইয়ের জীবন বোঝার চেষ্টা এখানে পাশাপাশি চলে। [৮, ১০]একটি শব্দের সম্ভাব্য অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। মানুষের জীবনের প্রতিটি ঘটনার পাশে তেমন নির্ভরযোগ্য অর্থ বসানো কঠিন। শোকের সময় এই অসমতা বিশেষ তীব্র। যাঁর কাছে জিজ্ঞেস করা যেত, তিনি আর উত্তর দেবেন না।
অভিধান আমাদের একটি আশ্বাস দেয়। অচেনা শব্দের পাশে পরিচিত শব্দ পাওয়া যাবে, বোঝার দিকে কিছুটা এগোনো যাবে। মৃত মানুষের জীবনও কখনও আমরা এমনভাবে পড়তে চাই। এই চিঠির মানে এই, এই নীরবতার কারণ ওই, এই ছবিতে মুখের ভাব থেকে বোঝা যাচ্ছে তিনি সুখী ছিলেন। উপকরণগুলো যত্ন করে সংরক্ষণ করা জরুরি। তাদের কাছ থেকে কতটা সাক্ষ্য দাবি করছি, সেটাও জরুরি। একটি আলোকচিত্র জীবনটির নির্দিষ্ট মুহূর্ত ধরে রাখে। সেই মুহূর্তের ভিতরের অনুভব সম্পর্কে আমাদের অনুমানকে আলাদা করে চেনা দরকার। স্মৃতি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, স্মৃতির নির্বাচন তাকে আমাদের সুবিধামতো সাজিয়েও নিতে পারে।
এইখানে শুধু ‘কাউকে পুরো জানা যায় না’ বলে থেমে গেলে কারসনের বইয়ের অনেক কাজ অদৃশ্য হবে। সমালোচক কেটি পিটারসন Nox আলোচনা করতে গিয়ে বইটিতে জানার প্রকৃত চেষ্টা এবং যত্নের সম্পর্কগুলোর গুরুত্ব দেখিয়েছেন। [১০] তাঁর দৃষ্টিটি মূল্যবান। অসম্পূর্ণতা মেনে নেওয়ার মধ্যেও আলস্য ঢুকে পড়তে পারে। যেহেতু সব জানা অসম্ভব, তাই খোঁজ নেওয়ার আর দরকার কী, এমন সিদ্ধান্ত যত্নকে ছুটি দেয়। Nox পড়ে বরং এমন এক দায়ের কথা ভাবা যায়, যেখানে সীমা জেনেও অনুসন্ধান চলতে থাকে। মানুষটির অস্তিত্ব আমাদের মনগড়া সমাপ্তির চেয়ে বড় বলেই উপকরণগুলো আবার পরীক্ষা করি।
এমন পাঠে শোকেরও একটি নৈতিক মাত্রা স্পষ্ট হয়। মৃত মানুষকে স্মরণ করার অধিকার জীবিতের আছে। সেই অধিকার তাঁর জীবনকে নিখুঁত গল্পে পরিণত করার সীমাহীন ছাড়পত্র কতটা দেয়? আমরা শোকের মধ্যে অর্থ খুঁজি, কারণ অর্থ নিয়ে বেঁচে থাকা সহজ। কখনও অর্থ তৈরির তাড়ায় মানুষটির এলোমেলোতা মুছে ফেলি। কারসনের বইয়ের ভাঁজ, খণ্ড, দৃশ্যমান জোড়া এই তাড়ার গতি কমাতে পারে। পাঠক উপকরণকে জোড়া দিতে পারেন, জোড়ার দাগও দেখতে পান। যে জীবন সম্পর্কে পড়ছেন, সেটি তাঁর তৈরি বিবরণের বাইরে নিজের অনুপস্থিত স্থান ধরে রাখে।
বন্ধনীর মধ্যে ইতিহাস
সাফোর কবিতার অনুবাদ If Not, Winter-এ অনুপস্থিতির আরেক ইতিহাস। টিকে থাকা গ্রিক কবিতার খণ্ডগুলোর পাশে ইংরেজি অনুবাদ রেখেছেন কারসন। বন্ধনী ও বিস্তৃত সাদা জায়গার সাহায্যে হারানো অংশের উপস্থিতি অনুভব করা যায়। [১১, ১২] এখানে একটি সতর্কতা দরকার। পাণ্ডুলিপির ক্ষয়, প্রেমের দূরত্ব এবং ভাইয়ের মৃত্যু আলাদা অভিজ্ঞতা। একই ‘শূন্যতা’ শব্দে তাদের পার্থক্য মুছে দিলে বিশ্লেষণ খুব সুন্দর এবং খুব অস্পষ্ট হয়ে যাবে। কারসনের বিভিন্ন বই পড়ার লাভ সেই পার্থক্যগুলো ধরে রেখেও তাদের মধ্যে কথোপকথন শুনতে পারা।
অনুবাদের ক্ষেত্রে বন্ধনী পাঠককে জানায়, যে বাক্যটি তিনি পড়ছেন তার ঐতিহাসিক শরীর ক্ষতিগ্রস্ত। অনুবাদক সহজপাঠ্যতার জন্য ফাঁক ঢেকে দিলে একটি মসৃণ পাঠ তৈরি হতে পারে। সেই মসৃণতার দাম কী, কারসনের পৃষ্ঠা তা ভাবতে বাধ্য করে। একটি হারিয়ে যাওয়া শব্দের স্থানে সুন্দর শব্দ বসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা অনুবাদকের আছে। ক্ষমতাটি ব্যবহার করার আগে পাঠকের কাছে নিজের অনুমান চিহ্নিত করার দায়ও আছে। অনুবাদের বিশ্বস্ততা নিয়ে এইভাবে ভাবলে সততা ভাষার বাইরেও পৃষ্ঠার বিন্যাসে প্রকাশ পায়। সাদা জায়গা তখন বইয়ের সক্রিয় অংশ।
অন্যদিকে Autobiography of Red-এ প্রাচীন খণ্ডের সৃজনশীল ব্যবহার আলাদা নিয়মে চলে। [৬] অনুবাদ ও পুনর্লিখনের এই পার্থক্য মনে রাখা দরকার। সব স্বাধীনতাকে ভুল অনুবাদ বলা যায় না; প্রতিটি স্বাধীনতার ধরন ও দাবি দেখতে হয়। একটি বই মূলের ক্ষতি চিহ্নিত করছে, আরেকটি সেই মূলের সঙ্গে নতুন কাহিনির সম্পর্ক গড়ছে। পাঠকের প্রয়োজন কোন ধরনের কাজ পড়ছেন তা বোঝা। বাংলা ভাষায় কারসনকে নিয়ে কাজ করতে গেলেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বাক্যের অর্থের সঙ্গে বিরতি, সাদা জায়গা, উদ্ধৃতির অবস্থান এবং স্বরের পরিবর্তনকে কতখানি রাখা যাবে, সে প্রশ্ন অনুবাদকের প্রকৃত সৃজনশীল শ্রম দাবি করবে।
বই খুলে দেওয়ার স্বাধীনতা
কারসনের রচনায় বইয়ের আকার নিয়ে পরীক্ষা আরও দূর যায়। Float-এ বাইশটি আলাদা পুস্তিকা একটি বাক্সে রাখা; কবিতা, অনুবাদ ও নাট্যধর্মী উপাদানের মধ্যে পাঠের ক্রম বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। [১৩] এমন স্বাধীনতাকে খেলনা ভাবার কারণ নেই। কোন লেখা আগে পড়লাম, তার প্রভাব পরের লেখায় পড়ে। পাঠক ক্রম বেছে নিলে অর্থের সম্পর্ক তৈরিতেও অংশ নেন। লেখকের কর্তৃত্বের কিছু কাজ পাঠকের হাতে যায়, সঙ্গে যায় সিদ্ধান্তের দায়। সব রাস্তা একই জায়গায় পৌঁছাবে, এমন প্রতিশ্রুতি এই আকার দেয় না।
এই ধরনের বইকে একাকী প্রতিভার বিস্ময় হিসেবে দেখারও সীমা আছে। Antigonick-এর প্রকাশনায় বিয়াঙ্কা স্টোনের চিত্রকর্ম এবং রবার্ট কারির নকশার অবদান দৃশ্যমান। [১৪] অনুবাদ, অক্ষর, ছবি ও বস্তুগত নির্মাণ মিলিয়ে পাঠের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই বাক্যের লেখককে দেখি, বই হয়ে ওঠার সহযোগিতাগুলো পিছনে সরে যায়। কারসনের কাজ সে আলোচনাকে প্রসারিত করার সুযোগ দেয়। কে লিখেছেন প্রশ্নটির পাশেই কে এঁকেছেন, কে সাজিয়েছেন, কীভাবে পড়া হচ্ছে, এসবের জায়গা রয়েছে।
২০২৪ সালের Wrong Norma-তে পঁচিশটি গদ্যধর্মী রচনা ও কারসনের ছবি রয়েছে। প্রকাশকের পরিচিতিতে কনরাড, গুয়ানতানামো, দারিদ্র্য, পরিবার, তুষার ও ভাষার মতো বিচিত্র বিষয়ের উল্লেখ আছে; রচনাগুলোর পারস্পরিক অসংলগ্নতাও সেখানে সামনে রাখা হয়েছে। [১৫] এই পরবর্তী বইটির কথা মনে রাখা বিশেষ দরকার। একজন লেখকের কয়েকটি বিখ্যাত বই পড়ে তাঁর জন্য স্থায়ী ব্যাখ্যা বানিয়ে ফেলার অভ্যাস আমাদের আছে। তারপর নতুন বইতে সেই ব্যাখ্যার প্রমাণ খুঁজি। কারসনের বিচিত্র কাজ পাঠককে নিজের সারাংশের উপর সন্দেহ করতে শেখাতে পারে। অপূর্ণতা নিয়ে এই প্রবন্ধের প্রস্তাবিত পাঠসূত্রটিকেও সেই পরীক্ষার বাইরে রাখা চলে না।
নোবেলের পরে পড়ার কাজ
এত পাণ্ডিত্য ও পরীক্ষা সত্ত্বেও কারসনের প্রতিটি দুর্বোধ্য মুহূর্তকে গভীরতা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তাঁর লেখার কাছে পাঠকের প্রস্তুতি লাগে, কখনও গ্রিক সূত্র বা দার্শনিক প্রসঙ্গ খুঁজে দেখতে হয়। সেই শ্রম ফলপ্রসূ হচ্ছে কি না, প্রশ্ন করার অধিকার পাঠকের থাকে। কোনো সংযোগ আলোকিত করতে পারে, অন্য সংযোগ অতিরিক্ত চতুর মনে হতে পারে। নোবেল পুরস্কারের পরে এই স্বাধীন বিচার আরও প্রয়োজন। পুরস্কার একটি লেখককে বিপুল মনোযোগ দেয়। সেই মনোযোগের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় শ্রদ্ধার অভ্যাস জুড়ে গেলে পাঠের প্রাণ কমে।
কারসনের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁর কাজ সাহিত্যিক রূপের আলোচনা আর অনুভবের আলোচনাকে ঘনিষ্ঠ করে। একটি প্রেমের অভিজ্ঞতা কীভাবে লেখা যায়, সেই প্রশ্ন বাক্যের দৈর্ঘ্য বদলাতে পারে। মৃত ভাইকে মনে রাখার চেষ্টা বইকে ভাঁজ করা বস্তুতে পরিণত করতে পারে। প্রাচীন কবিতার ভাঙা ইতিহাস মেনে নেওয়া পৃষ্ঠায় সাদা জায়গা রাখার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। রূপের প্রতিটি পরিবর্তন সফল হয়েছে কি না, তা আলাদা করে বিচার করতে হবে। তবে রূপকে অনুভবের বাইরে রাখা কতটা সীমিত ধারণা, তাঁর রচনাভুবন তা স্পষ্ট করে।
সুইডিশ একাডেমির ঘোষণায় ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে কথোপকথনের যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ভবিষ্যতের একটি প্রশ্নও রাখা যায়। ঐতিহ্যকে জীবিত রাখার অর্থ কী? নতুন লেখক পুরোনো রচনার সঙ্গে নিজের সময়ের অস্বস্তি নিয়ে কথা বললে সম্পর্কটি বদলায়। সেই বদলের মধ্যে শ্রদ্ধা, আপত্তি, ভুল বোঝা ও নতুন বোঝার বিভিন্ন সম্ভাবনা থাকে। কারসনের নির্বাচনের পরে যদি এই ধরনের কথোপকথনের সাহস বাড়ে, পুরস্কারটির প্রভাব একজন লেখকের বিক্রির হিসাব ছাড়িয়ে যাবে। পুরোনো বই পড়ার অভ্যাসেও তখন নতুন প্রশ্ন যোগ হতে পারে। অতীতকে যে চোখে দেখি, সেই চোখের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হওয়া তার একটি ফল।
বাংলার পাঠকের জন্য এই পুরস্কারের মূল্য শেষ পর্যন্ত নতুন পাঠের সুযোগে। আরও অনুবাদ, যত্নশীল আলোচনা, মূল বইয়ের সহজলভ্যতা সেই সুযোগকে বাস্তব করতে পারে। নোবেলের খবর দ্রুত ছড়াবে। কারসনের বই পড়ার গতি তার নিজস্ব হবে। একটি বন্ধনীর পাশে থামতে হবে, একটি চরিত্র সম্পর্কে নিজের তাড়াতাড়ি করা বিচার ফের দেখতে হবে, সুন্দর বাক্যের মোহের মধ্যেও প্রশ্ন ধরে রাখতে হবে। Nox-এর ভাঁজ আবার গুটিয়ে বাক্সে রাখার সময় ভাইয়ের জীবনটি সম্পূর্ণ উদ্ধার হয়ে যায় না। হাতে থেকে যায় মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস। অন্য মানুষকে জানার চেষ্টা তখন তাঁর অজানা অংশের জন্যও জায়গা রাখে।




সূত্র ও পাঠসহায়িকা
[১] NobelPrize.org, The Nobel Prize in Literature 2026, Press release, ৮ অক্টোবর ২০২৬।
[২] Will Aitken, Anne Carson, The Art of Poetry No. 88, The Paris Review, Fall 2004।
[৩] MacArthur Foundation, Anne Carson, Class of 2000।
[৫] Penguin Random House, Autobiography of Red, প্রকাশকের গ্রন্থপরিচিতি।
[৬] Poetry Foundation, Red Meat: Fragments of Stesichoros, আলোচনা।
[৭] Penguin Random House, The Beauty of the Husband, প্রকাশকের গ্রন্থপরিচিতি।
[৮] New Directions, Nox, প্রকাশকের গ্রন্থপরিচিতি।
[৯] T. S. Eliot Prize, Anne Carson wins the T. S. Eliot Prize 2001।
[১০] Katie Peterson, The Suffering World, Boston Review, 2012।
[১১] Penguin Random House, If Not, Winter, প্রকাশকের গ্রন্থপরিচিতি।
[১২] University of Arizona Poetry Center, If Not, Winter, প্রদর্শনীতে গ্রন্থপরিচিতি।
[১৩] John James, Astralize the Night, Boston Review, 2017।
[১৪] New Directions, Antigonick, প্রকাশকের গ্রন্থপরিচিতি ও সহযোগীদের পরিচয়।
[১৫] New Directions, Wrong Norma, প্রকাশকের গ্রন্থপরিচিতি, 2024।
[১৬] University of Waterloo, unlost, Autobiography of Red, প্রথম সংস্করণের গ্রন্থপঞ্জি।



