বইয়ের বিরুদ্ধে জিহাদ
প্রতারক লেখকেরা চোরাগোপ্তা কনুই মেরে মেরে জীবিত ও মৃত সব লেখককেই বিস্মৃতির মধ্যে শুইয়ে দিয়েছেন। এঁদের এই কনুই মারার অভ্যেস অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার।
বইয়ের ভিড়ের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলা যে পাঠক, তাদের জন্য এই লেখাটি অনেকটা ধাক্কার মতো। উদ্দেশ্য বইকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়, পাঠের আনন্দকে নস্যাৎ করাও নয়। আঘাতটা পড়ে সেই ভুয়ো বইয়ের ওপর, যেগুলো কেবল ছাপার অক্ষর নিয়ে হাজির হয় কিন্তু চিন্তার কোনো দায় নেয় না; আর সেই ভুয়ো সাহিত্যিকতার ওপর, যা গভীরতার অভিনয় করে, অথচ পাঠককে দেয় কেবল শব্দের ফাঁপা আওয়াজ। এই লেখাটি আসলে এক ধরনের প্রতিবাদ, যেখানে পাঠককে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে সাহিত্য মানে শুধু প্রকাশনা নয়, বাজারে চলতি আলোচনাও নয়। সাহিত্য মানে বোধ, সততা, এবং পাঠকের সঙ্গে দায়বদ্ধ এক সম্পর্ক। সেই সম্পর্ককে ধোঁকা দেওয়ার বিরুদ্ধে এই লেখার অবস্থান স্পষ্ট, অনমনীয়, এবং সচেতনভাবে বিদ্রোহী।
প্রবন্ধটি শুরুই হয় পাঠকের ক্ষোভে; আমরা নাকি পরিকল্পিতভাবে ঠকছি, আর এই ঠকানোর নকশা করে পুস্তকশিল্পের মালিক, প্রচারক আর পুরস্কারবাজ মহল। মুদ্রণকর্মী বা বিপণনকর্মীরা না জেনেই শ্রম দিচ্ছেন, কিন্তু প্রকাশক আর লেখক সচেতনভাবে পাঠককে বইয়ের নামে পণ্য গছিয়ে দিচ্ছেন। এক নিরীহ লেখককে চাকরি, পুরস্কার, বিদেশ সফর আর সংবর্ধনার ঝলকে মুহূর্তে “কেউকেটা” বানিয়ে তোলা যায়, আর তার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে “মহালেখক” নামের এক নতুন ব্র্যান্ড তৈরি হয়। এই ব্র্যান্ডের আড়ালে তৃতীয় শ্রেণির বই পুরস্কার পায়, বেস্টসেলার হয়, কিন্তু বিদ্বৎসমাজের মুখে কোনো প্রতিবাদের শব্দ থাকে না; এখান থেকেই শুরু সর্বব্যাপী প্রতারণা।
একদিকে বিরামহীন যান্ত্রিক উৎপাদন, অন্যদিকে সাড়ে পাঁচ ফুটের একেকজন পাঠক; এ অসম লড়াইয়ে হারতে বাধ্য আমরা। লেখক হিসাব কষে দেখান, সারাজীবনে হাজার হাজার উপন্যাস পড়েও মনে থাকে হাতে গোনা কয়েকটা; শ্রীকান্ত’, ‘যোগাযোগ’, ‘পথের পাঁচালী’, ‘আরন্যক’, ‘জাগরী’, আর কয়েকশো প্রিয় গদ্য-পদ্য বই মিলে এক ছোট্ট ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারই যথেষ্ট হতে পারত। তবু সর্বজ্ঞ হওয়ার লোভে, “সাম্প্রতিকতম” থাকার হিড়িকে আমরা হোয়াইট প্রিন্টের শুকনো টানেলের মধ্যে দিয়ে দৌড়ে চলি, ঘরে তুলে আনি ছাপার কালি মাখানো বস্তার পর বস্তা।
দামি নিউজপ্রিন্ট, মোটা কাগজ, উত্তেজক ইলাস্ট্রেশন আর যৌন ইঙ্গিত মেশানো ভাষা; সব মিলিয়ে বইকে বানানো হচ্ছে আরেক ধরনের ভোগ্যপণ্য, যার কাজ পাঠকের মানসিক শান্তি ভেঙে দিয়ে তাকে অস্থির আর নেশাগ্রস্ত করে রাখা। দ্রুত খেয়ে ফেলার মতো এই নষ্ট সাহিত্য মনের ভিতরের জমাট শক্তিটা খরচ করে দেয়, ফলে গভীর কোনো বইয়ের সঙ্গে আমাদের মন আর জুড়ে বসতে চায় না। রুক্ষ, কটু স্বাদের খাবারে যেমন জিভ ভোঁতা হয়ে যায়, তেমনি আধাপর্নো আর সস্তা উত্তেজনার বই পড়তে পড়তে রুচি নষ্ট হয়ে যায়, ‘জাগরী’র মতো বই তখন আর গলেই না। লেখক-প্রকাশকেরা এই আচ্ছন্ন, কুয়াশাচ্ছন্ন মানসিক অবস্থাই চান, কারণ তখনই আমরা বার বার একই ধরনের বই কিনে, চুটিয়ে, ফেলে, আবার কিনতে থাকব।
আমেরিকান ইন্ডিয়ান, জেন বৌদ্ধবাদ, তিব্বতি শাস্ত্র, ফ্যারাও, পলিনেশীয় যৌনজীবন; কোথায় নেই তাদের বিস্তার! প্রচুর নোট, টেপরেকর্ড, সাক্ষ্যপ্রমাণ জড়ো করে বই লেখা হয়, কিন্তু ভেতরে থাকে অর্ধশিক্ষা আর বাইরে থেকে মাপজোক করা এক ধরনের বস্তুনিরপেক্ষ দূরত্ব। কার্লোস কাস্তানেদার মতো জনপ্রিয় লেখকের বইও শেষ পর্যন্ত অস্পষ্ট। জ্ঞান সমুদ্রের মতো রহস্য নয়, বরং সমাধান; যা বাহুল্যবর্জিত, স্পষ্ট, প্রত্যক্ষ; আর অধিকাংশ বই সেই সমাধানকে ধোঁয়াটে করে দেয় মাত্র।
নিচের লেখাটি লিখেছেন মণীন্দ্র গুপ্ত। আসুন পড়ি, অনুধাবন করি।
বইয়ের বিরুদ্ধে জিহাদ
মণীন্দ্র গুপ্ত
বার বার মনে হয়, পাঠক হিসেবে অনেক দিন ধরে মনে একটা ক্ষোভ জমেছে প্রতারিত হচ্ছি। সারা পৃথিবী ভরে পুস্তকশিল্পের মালিকেরা একদল লোক পুষে রেখেছে, যাদের কাজ হচ্ছে বই তৈরি করা, আর তার বাজার বানিয়ে বিক্রি করা। এরা সবাই সংগঠিতভাবে ঠকাচ্ছে আমাদের। তবে না জেনে ঠকাচ্ছেন মুদ্রণকর্মীরা, দপ্তরীরা, বিপণনকর্মীরা; আর জেনে ঠকাচ্ছেন প্রকাশন সংস্থার মালিক, উপদেষ্টা, প্রচার কর্তা। এবং ঠকের শিরোমণি হচ্ছেন লেখক স্বয়ং। এই মুখ্য প্রতারকটিকে কর্তা নিজের তাঁবে রাখেন অসময়ে দাদন দিয়ে, রয়ালটি দিয়ে, নির্দিষ্ট চাকরি দিয়ে, পুরস্কারের বন্দোবস্ত করে দিয়ে, নানা সূত্রে বিদেশ ভ্রমণ ঘটিয়ে দিয়ে এবং তাঁর ফাঁকা বিমর্ষ সন্ধেগুলো নানা বর্ণচোরা এজেন্সির মাধ্যমে রঙিন সংবর্ধনা ও আপ্যায়নে ভরে দিয়ে। কর্তা যদি চান তবে এক সপ্তাহে নিরীহ বেচারি একটি সদ্যোজাত লেখককে একজন কেউকেটা বানিয়ে দিতে পারেন।
কিন্তু নিরীহ একটি লোককে ধরে এনে এত পয়সা খরচ করে, এত ফন্দি করে তাকে কেউকেটা বানিয়ে কর্তার কি লাভ? আছে লাভ। মালিকমহাজনেরা কোনো অর্থহীন কার্যে লিপ্ত হন না। শুধু আমরা তাঁদের দূরদর্শিতা ও উদ্দেশ্য বুঝতে পারি না। একটা দৃষ্টান্ত দিই। গান্ধীজীর গভীর ঘনিষ্ঠতা ছিল বিড়লাদের সঙ্গে। বিড়লারা গান্ধীর জন্য শুধু করেই গেছেন, প্রতিদানে কখনো নেতা বা মন্ত্রী হতে চান নি। কিন্তু বণিকবুদ্ধি সত্যিই কি অতটা স্বার্থশূন্য হয়? গান্ধী যখন অনশন আরম্ভ করতেন, ঘনিষ্ঠতার সুবাদে বিড়লারা তাঁকে কাছে এনে রাখতেন, সেবার ভার নিতেন। উপবাসে গান্ধীজীর জীবন যত অনিশ্চিত হত, রাজনৈতিক গোলমালের আশঙ্কায় শেয়ারের দাম তত পড়তে থাকত। শেষদিকে দ্রুত নেমে আসত দর। কিন্তু গান্ধীর উপবাস ভঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে শেয়ারের দাম আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেত। উপোস ভাঙার দিনক্ষণের গোপন খবরটি আগাম জানতে পেরে আশ্রয়দাতা বিড়লারা সেই মাহেন্দ্রক্ষণটির পূর্ণ সদব্যবহার করতেন। গোপন খবর পাওয়ামাত্র তাঁরা ন্যূনতম দামে শেয়ার কিনতে থাকতেন, আর খবর প্রকাশের পর ছেড়ে দিতেন চড়া দামে। বিড়লাদের ধনী হওয়ার মূলে এই ফাটকাগুলোর বিশেষ অবদান রয়ে গেছে।
বিড়লারা যেমন নেতা হতে চান নি, পুস্তকশিল্পের মহাজনরাও তেমনি লেখক হতে চান না। যাঁরা ক্ষীণসম্ভাবনাপন্ন লোকদের মহামহোপাধ্যায় লেখক বানাতে পারেন, এবং সেই মহালেখকদের নিঃশেষে বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা লুটতে পারেন, তাঁদের ঐ বোকা দুর্বলতা থাকবেই বা কেন! সুতরাং তাঁরা নিজেদেরই স্বার্থে, পোষা লেখকদের টাকা ছাড়াও উপহার দিতে থাকেন প্রতিষ্ঠা ও খ্যাতি। অপ্রতিষ্ঠ অযশস্বী লেখকের বইয়ের চাহিদা সীমাবদ্ধ হতে বাধ্য। প্রতিষ্ঠান-পোষ্য লেখকদের যে এত ছবি, এত বিজ্ঞাপন তার কারণটি এই ব্যবসাবুদ্ধি। সবাই সব বোঝেন, কিন্তু রা কাড়েন না। এই মহাজনদের প্রতাপে বা দাক্ষিণ্যে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়। বেশির ভাগই তৃতীয় শ্রেণীর বই যখন পুরস্কার বগলদাবা করে বা বীরবিক্রমে বছরের পর বছর বেস্ট-সেলার থেকে যায় তখনও দেশের বিদ্বৎসমাজের বাক্যস্ফূর্তি হয় না। বরং সাহিত্য-সংস্কৃতির অগণিত মিটিংয়ে বা পুরস্কার সভায় দেখা যায় এদের সৌভ্রাত্র ও সহাবস্থান। সর্বব্যাপী প্রতারণার শুরু হয় এই বিন্দু থেকেই।
আমাদের পরমায়ু অতি দীর্ঘ নয়। পড়ুয়াদের পড়ার ঘণ্টা আরও কম। আমরা আয়ু থেকে যে ছিনিয়ে আনি এই দুর্মূল্য সময় সে কি এই ফোতো অক্ষরগুলোর পিছনে ছুটিয়ে চোখের জ্যোতিকে ম্লান করবার জন্যে।
কদিন পরেই পুজো আসছে। পুজোর সম্ভারের কথাই ধরা যাক। বন্যায় ডোবা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা নামক দ্বীপ থেকে এই অসময়ে কিন্তু পঞ্চাশখানা উপন্যাস আর হাজারখানেক কবিতা বেরুবে। যাক। কবিতাগুলো উড়ো খই গোবিন্দায় নমঃ, ভেসে চলে যাক বানভাসি অঞ্চলে, দুর্গত তরুণ কবিদের কাছে। ছোট গল্প আর নিবন্ধ কতিপয় নিয়ে এক্ষুনি কথা বলতে হবে এমন তাড়াতাড়ি কিছু নেই। এখন তিরিশ- পঁয়তিরিশ টাকা দামের পত্রিকাগুলি বিক্রি হবে উপন্যাসের ভারে, লেখকদের নামের জোরে।
শান্তি ও ভদ্রতার খাতিরে সবই না হয় মেনে নিলাম। কিন্তু প্রশ্ন হল যে, এ বছরের শ খানেক, গত দশকের হাজার খানেক, আর এই রেটে আমার সারা জীবনের পাঁচ-সাত হাজার এই এত উপন্যাসকে সামলাব কি করে? সেই যবে থেকে ইস্কুলের বইয়ের নিচে লুকিয়ে রেখে পড়তে শুরু করেছিলাম তবে থেকে তারা আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। অবশেষে মনে হচ্ছে, আমি দুঃস্বপ্নে হোয়াইট প্রিন্টের শুকনো খরখরে অন্তহীন টানেলের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে তলিয়ে যাচ্ছি এক অতল ছাপার কালির হ্রদে।
একদিকে এই বিশাল যান্ত্রিক উৎপাদন, অন্যদিকে মাত্র সাড়ে পাঁচ ফুট আমি। তবু প্রতিআক্রমণ করার সময় হয়েছে। সারা জীবন লেখকেরা ঢিল ছুঁড়েছেন, এবার আমিও পাটকেলটি মারব।
সেই পাঁচ-সাত হাজার উপন্যাস আর শ তিনেক লেখকের মধ্যে আজ কখানা বই আর কজন লেখক মনে রয়ে গেছেন? শ্রীকান্ত, যোগাযোগ, পথের পাঁচালী, আরণ্যক, কবি, জাগরী, ঢোঁড়াই চরিত মানস, নীলাঙ্গুরীয়, জননী, মাসি, মহাস্থবির জাতক, খড়কুটো, কারুবাসনা.... ব্যস। খুবই উঁচকপালে বা প্রাচীনপন্থী মনে হতে পারে আমাকে। কিন্তু আর তো খুঁজে পাচ্ছি না। কবিতা, সেই চর্যাপদের সময় থেকে, আমি টুকে রেখেছি হাজার খানেক। তার বাইরে আপাতত যাবার দরকার দেখছি না। আর প্রবন্ধ, আত্মকথা, গল্প, ব্যক্তিগত লেখা লিখে আমার মনে চিরস্থায়ী আসন করে রয়ে গেছেন যেসব অনিবার্য লেখক তাঁদের সংখা কোনক্রমেই পঁচিশের বেশি হবে না। এবং ধর্ম সাহিত্য থেকে চুটকি সাহিত্য পর্যন্ত বাছাই করে নিলে গদ্য বইয়ের সংখ্যা পাঁচশোর বেশি না। এই পাঁচশো বইয়ের ছোট্ট সংসারে প্রত্যেকটি বইয়ের প্রতি অনুচ্ছেদকে চিনে চিনে, বারংবার উপভোগ করে, সুখে, ভালোবেসে কালাতিপাত করতে পারতাম। কিন্তু তা হবার নয়। সর্বজ্ঞ হবার তাড়নায়, সাম্প্রতিকতম হবার লোভে ছাপার কালি মাখানো ঐ সাদা কাগজের দুর্বহ বস্তাগুলোকে ঘরে এনে তুলেছি।
তাহলে প্রত্যেক বছর ক্রমাগত কেন এই বস্তুপিণ্ডের আগমন। শুধু লেখক পেশা নেওয়া কিছু লোকের আর পুস্তকশিল্পের কর্তাদের আরো আর্থিক সমৃদ্ধি, এবং পাঠকদের বোকা বানানো ছাড়া এই বস্তুনিচয়ের আর কোন্ সার্থকতা আছে! তার চেয়ে ঐ নিউজ-প্রিন্টের রোলগুলো যদি তাদের পূর্বাবস্থা বাঁশ বা গাছের রূপেই থাকত তবে আকাশ, বায়ু ও পৃথিবী আর একটু নির্মল থাকত। বিজ্ঞাপন দিয়ে, ইলাস্ট্রেশনের নামে উত্তেজক রেখাচিত্র জুড়ে, যৌন নষ্টামির বর্ণনা মিশিয়ে, একধরনের ইমপোর্ট কোয়ালিটি- মার্কা পালিশ লাগিয়ে এই ভোগ্যপণ্যগুলি বাজারে আনা হচ্ছে আমাদের মানসিক স্নিগ্ধতা ও সুস্থিতি নষ্ট করার জন্যে। এই অস্থিরতার বশবর্তী হয়েই আমরা ঐ নষ্ট সাহিত্য কিনি, দ্রুত চেখে যাই, এবং তার পর পরিত্যাগ করি। প্রতি বছর একই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি।
আপাতদৃষ্টিতে এই অভিজ্ঞতা খুব নির্দোষ মনে হলেও এর দূরবিসারী কুফল আছে। পাঠকের মনের বাজে খরচ হয়ে যায় এতে। মনের নিটোল পূর্ণতাটি নষ্ট হয়ে গেলে তার ধারণাশক্তিও ভঙ্গুর হয়ে যায়। তখন মন কোনো গভীর বইয়ের ভাবনা বা তত্ত্বের সঙ্গে লগ্ন হতে পারে না। এছাড়া একটা স্থূল নেশার ব্যাপারও আছে - রুক্ষ তীব্র কটু স্বাদের খাবার খেতে খেতে যেমন জিভের ক্ষমতা ভোঁতা হয়ে যায়, স্নিগ্ধ সূক্ষ্ম সুগন্ধে ভরা অন্নের আর স্বাদ পাওয়া যায় না, তেমনি ঐ বইগুলো পড়তে পড়তে আমাদের রুচিবিকার ঘটে, সত্যিকারের ভালো বইকে মনে হয় পানসে, নীরস বা দুর্ভেদ্য। দশখানা আধাপর্নো পড়ার পর একখানা জাগরী পড়া আর সম্ভব না। জেট প্লেনের পুরীষ-ধোঁয়ার মতো সেই নষ্টামি পাঠকের মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। এভাবে অনেক কাল কাটলে, কোনো বৃষ্টি বা বাতাসের সাধ্য থাকে না সেই কালি ধুয়ে দেবার। বই বাজারের কর্তারা ও তাঁদের দাদন নেওয়া লেখকেরা নিজেদের স্বার্থে, পাঠকদের এই আচ্ছন্ন অবস্থাটাই আকাঙ্ক্ষা করেন।
লেখকেরা আদিকাল থেকে কামনা করে আসছেন অমরতা। এখন তাঁরা অমরতার বদলে চান টাকা ও ভোগ। ঈশ্বরেচ্ছায় তাঁদের টাকা ও ভোগ হোক। কিন্তু তাঁদের এই সমৃদ্ধির মাশুল আমরা গুনব কেন? তাঁরা বাংলাদেশে নতুন বাজার খুঁজছেন, যান।
খুঁজে খুঁজে আরও কোথায় পিছিয়ে থাকা উপনিবেশ আছে, দেখুন। কিন্তু সত্যিকারের পড়ুয়ার কাছে এই লেখকদের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।
কুড়ি-পঁচিশ বছরের সাহিত্যিক জীবনের মধ্যে কোনো কোনো ধুরন্ধর লেখক দুশো আড়াইশো বই লিখে ফেলেছেন, ভাবা যায়? প্রত্যেক হালখাতায়, প্রত্যেক পুজোয়, প্রত্যেক বইমেলায় এক-একজন এক থেকে পাঁচখানা পর্যন্ত উপন্যাস নামাতে পারেন। এগুলো কি বই না কারখানার মাল!
তুলনা করে দেখা যাক এ প্রসঙ্গে একজন পৃথিবীবিখ্যাত ঔপন্যাসিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ কি বলছেন। মার্কেজের কথার আরো বিশেষ মূল্য আছে কেননা তিনিও সংবাদপত্রের আপিসে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন, আমাদের বিখ্যাত সাহিত্যিকদের মতো। ‘এখন আমার উপন্যাস লেখা এবং সাংবাদিক রচনা দুটোই আগের চেয়ে অনেক কঠিন মনে হয়। যখন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতাম তখন রচনার প্রত্যেকটি শব্দের বিষয়ে সচেতন ছিলাম না। কিন্তু এখন খুবই খুঁতখুঁতে হয়ে উঠেছি।.... যেদিন বেশি ভালো কাজ হয়, সেদিন সকাল নটা থেকে বিকেল দুটো কি তিনটে পর্যন্ত কাজ করে আমি লিখতে পারি বড় জোর একটি অনুচ্ছেদ মাত্র। এবং তাও আমি পরদিন প্রায়ই ছিঁড়ে ফেলি।’
এই বছর পৃথিবীর জনসংখ্যা পাঁচশো কোটিতে পৌঁছল। খবরটা জেনে আমরা চিন্তিত হয়ে পড়ি। কিন্তু বইয়ের সংখ্যা কততে পৌঁছল? এইটুকু একটা পৃথিবীগ্রহের কত যে বন প্রেতাত্মা হয়ে আছে বইয়ের কাগজে, হিসেব শুনলে আঁতকে উঠতে হয়। একটা বড় লাইব্রেরির বইঠাসা ঘরগুলোর মধ্যে দিয়ে একবার ঘুরে এলেই বুঝতে পারবেন, এই বিরাট নিরেট আয়তনের কাছে আমাদের ছোট্ট মস্তিষ্কটি কত অসহায়। কত বই! কত বিষয়ের উপর বই। একই বিষয়ে আবার কত বই। এদের আয়ত্ত করা দূরের কথা, কোনোদিন এদের ক্যাটালগও মনে রাখতে পারব না। ভেবে পাই না, মানুষ সবজান্তা হতে গিয়ে কেন এই অথৈ জলে নিজের চেতনাকে ভাসিয়ে দিল। জ্ঞান কিন্তু বাহুল্যবর্জিত, সংশয়হীন, স্পষ্ট এবং প্রকাশিত। জ্ঞান সমুদ্র নয়, রহস্য নয়। জ্ঞান হচ্ছে সমাধান, পেরিয়ে যাওয়া, বিষয়টিকে করামলকবৎ প্রত্যক্ষ করা। অথচ বেশির ভাগ বই কেবলি বাজ্জাল বিস্তার করছে, ধানাইপানাই গাইছে, যেহেতু সেগুলো অনধিকারীর লেখা – অর্থ, যশ বা কিছু একটা করার ইচ্ছা থেকে প্রণীত।
সাহেব লেখকরা এই ব্যাপারটা একটা অদ্ভুত উৎসাহ নিয়ে করে থাকেন। এমন বহুারম্ভে লঘুক্রিয়ার দৃষ্টান্ত কম আছে। ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় বইগুলো সরিয়ে রেখেই বলছি, সাহেবদের যেন বিষয়ের আর শেষ নেই। আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের অধ্যাত্মচিন্তা ও গুহ্য সাধনপ্রণালী, জাপানের সামুরাই কাল্ট, গাছের বিচিত্র জীবন, জেন বৌদ্ধবাদ, তিব্বতী প্রাচীন শাস্ত্র, মধ্য এশিয়ার জনগোষ্ঠী, ফেমিনিস্ট মতবাদ, পলিনেশীয় যৌনজীবন, মিশরের ফ্যারাও, বহিঃপৃথিবীতে প্রাণের সম্ভাবনা, বাইবেলের জগৎ, ডাইনীবিদ্যা, জাপানী শয্যাশিল্প: বালিশযুদ্ধ – কি আছে আর কি নেই! আর এক এক বিষয়ে কত না লেখক! একই বিষয়ে কত আর নতুন কথা বলা যায়? অবাক হয়ে দেখি, এত যে উদ্যোগ, এত যে বিনিয়োগ, তবু এদের গবেষণা আর শেষ হয় না। শেষ হলে ব্যবসা থাকে না। ব্যাপারটার একটু দৃষ্টান্ত দিই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যবন গবেষক ও অনুসন্ধানীদের মধ্যে যেন একটা জ্ঞানস্পৃহার জোয়ার এসেছিল। নৃতত্ত্ব, পুরাতত্ত্ব, ভূতত্ত্ব, সমুদ্রতত্ত্ব ইত্যাদি নিয়ে এক এক দল মেতে উঠলেন। কয়েক বছর পরে ঐ বিচিত্র বিষয়ে তাঁদের লেখা নানারকম টাটকা বই বাজারে আসতে লাগল। আমার মনে আছে এইভাবে হিস্পানী কংকিস্তাদোরদের হাতে আমেরিকার যে আদি সভ্যতাগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল সেই মায়া, ইনকা, আজটেক কিংবা আরো আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া টলটেকদের উপরে কিছু নতুন বই এসেছিল। কিন্তু সেই যে শুরু হল, তারপর থেকে সেই একই বিষয়ের কত যে উপবিষয় বেরুল, কত বিস্তৃতি, কত বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, তাদের অতি দীন উত্তরপুরুষদের মধ্যে সেই আদি কথা যেটুকু ছিন্নছেঁড়া রয়ে গেছে তাকে পুনর্গঠন করা। এই ভিন্ন দেশে বসে আমিই অন্তত শ দুয়েক বই দেখেছি এই বিষয়ে। এমনকি আজকের দৈন্যদশাগ্রস্ত ইন্ডিয়ান তান্ত্রিকেরা গুহ্যপ্রক্রিয়ার অভ্যাসে ও রহস্যময় গুণসম্পন্ন ভেষজ ব্যবহারে যে অতিবাস্তব আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা ও অষ্টসিদ্ধি লাভ করেন সে সম্বন্ধেও একাধিক লেখকের বই দেখেছি। এসব বই খুব আটঘাট বেঁধে লেখা - মন আর কল্পনাকে খুব টান দেয়। বিষয়টার অতলে গভীর এক সত্য আছে, তারও যেন আভাস পাই। কিন্তু গোড়ায় গলদ। সাহেবদের চেতনা কোনো অতিবাস্তব বিষয় ধরবার পক্ষে অনুপযুক্ত। কার্লোস কাস্তানেদা নামক এক লেখকের এ রকম ছখানা বই পড়ার পরেও আমার কাছে ব্যাপারটা অস্পষ্ট রয়ে গেল।
বেশির ভাগ সাহেব লেখকেরই ঐ দোষ – বিষয়কে আচার্যের মতো সম্যক আত্মস্থ না করে, ছাত্রাবস্থাতেই, বাইরে থেকে মাপজোক নিয়ে, যতদূর সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করে, নোট, টেপ রেকর্ড, সাক্ষ্য-প্রমাণাদি নিয়ে, পরিশ্রম করে একটি বই নামিয়ে ফেলেন। ফলত, অর্ধশিক্ষিত ইংরেজি বইয়ে বাজার ছেয়ে আছে।
বাংলা বইয়ে এ রকম বিসমিল্লায় গলদ প্রায় ঘটে না। তার কারণ বাঙালি লেখকদের সাহস কম। যেখানে তাঁদের প্রবেশাধিকার নেই সেখানে তাঁরা যান না। যদি বা যান, জাঁদরেল যবন পণ্ডিতদের আড়ালে আড়ালে যান। যা হোক, জ্ঞান ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বাঙালি লেখকের ভীরু অনুপস্থিতিকে কাটিয়ে দিয়েছে একালের বাঙালি ঔপন্যাসিকদের যদৃচ্ছাগতি, বিশাল পটভূমি। কোথায় নেই তাঁদের নায়ক নায়িকা – পূর্ব পশ্চিম, আফ্রিকা আমেরিকা, মহাকাশ মহাপাতাল সর্বত্র। শুধু একটা জায়গাতেই একটু খেদ থেকে যায়। নারী পুরুষ যেখানকারই হোক, সবাই যেন গড়িয়াহাটের সিকি মাইল ব্যাসার্ধের বৃত্ত থেকে আহৃত।
কথাটা যদি উঠলই, তবে বলে রাখা ভালো, বিদেশি উপন্যাসেও বাজে মালের অভাব নেই। কিন্তু তার সঙ্গে এমন কিছু লেখাও আছে যা সাহিত্যের দিগন্তকে প্রসারিত করে দিয়েছে, জীবনকে অন্য রকম আলোয় দেখিয়েছে, বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গ দুদিক থেকেই। তবে যত দিন যাচ্ছে, সব সাহিত্যেই, পাঠককে পূর্ণ করে দেবার মতো বা তাকে ভয়ংকরভাবে শূন্য করে দেবার মতো লেখা কমে গিয়ে তাৎক্ষণিক সুখ দেবার লেখা, তৃষ্ণা মেটাবার লেখা, উত্তেজিত করার লেখা, ভূতেরা যেভাবে মনে মনে ভোগ করে পাঠকও যাতে সেইভাবে ভোগ করতে পারে তেমন লেখা অগণিত সংখ্যায় তৈরি হচ্ছে। এত কাঠখড় পুড়িয়ে বাজার তৈরি হয়েছে, চাহিদা তৈরি হয়েছে, আর যোগান আসবে না!
তাহলে পাঠক কি করবেন? ব্যবসায়ীরা যেমন চাইছে তেমনি প্রতারিত হতে দেবেন নিজেকে? কোটি কোটি বই থেকে, কিছু না বুঝে, এখানে এক খাবলা ওখানে এক খাবলা গিলে, একটা বিষয়ও হৃদয়ঙ্গম না করে সাধনোচিত ধামে চলে যাবেন? আর ওদিকে লেখক পনটিয়াক আর তার মালিক রোলস রয়েসের ভেঁপু বাজাবেন। এই অনাচারের বিরুদ্ধে আমার কয়েকটা প্রতিষেধক আছে।
১। কোনো বইয়ের বিজ্ঞাপন দেওয়া চলবে না, শুধু জ্ঞাপন করা হবে তার প্রকাশ, পাত্রপাত্রী কলামের ধাঁচে। সেখানে রবীন্দ্রনাথের পুত্র এবং আমার কন্যা সমপংক্তিতে বসবেন।
২। কুম্ভিলকবৃত্তি, পৌনঃপুনিকতা ও রোমন্থন একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। অর্থাৎ যদি কোনো লেখকের নিজস্ব, নতুন, যা আর কেউ কখনো বলেন নি, এমন কিছু বলার না থাকে তবে তিনি নীরব থাকবেন। অন্য স্বদেশী বা বিদেশি লেখকের লেখা থেকে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই চুরি করবেন না। নিজের বইকেও অনুসরণ করবেন না। একই কথা (তা স্মৃতিকথা হলেও) বার বার পেট থেকে বার করে চিবুবেন না।
৩। যেসব বিদ্যা ও তাদের শাখাবিদ্যা নিয়ে বিভিন্ন দেশের পণ্ডিত সমাজ ও অসমসাহসীরা ক্রমাগত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন যেমন ধরা যাক, বাইবেলের জগৎ বা দক্ষিণ মেরু বা জিপসি জীবন বা পিকিং মানুষ - সেসব বিষয়ে বই লিখবেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি নির্ধারিত কমিটি, যে পদ্ধতিতে বাইবেলের নতুন নিয়মের আধুনিক ইংরেজি অনুবাদ হয়েছে সেই স্টাইলে। এসব বই হবে সুনিশ্চিত ও সম্পূর্ণ, তপস্বীদেহের মতো মেদহীন ও উজ্জ্বল।
৪। যথেষ্ট হয়েছে, নতুন ধর্মগ্রন্থ কাউকে আর লিখতে দেওয়া হবে না – ব্যাখ্যা, টীকা, টিপ্পনী, কিছু না। শুধু সব ধর্মের মৌলিক যে নির্দিষ্ট বইগুলি আছে তার শুদ্ধ পাঠ, প্রয়োজনে সঠিক ভাষান্তরসহ, সর্বদা সহজলভ্য থাকবে।
৫। আত্মজীবনী লেখার উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এর সত্যমিথ্যার উপরেও কোনো মিটার বসানো অসম্ভব। কিন্তু অন্যের লেখা জীবনচরিতে মিথ্যা ঢুকে গেলে সে বই বাজেয়াপ্ত হবে।
৬। তত্ত্ব বিষয়ে বই লিখবেন শুধু তত্ত্বদর্শী পুরুষেরা। কপিল বা কান্ট অবশ্যই লিখবেন, কিন্তু রাধাকৃষ্ণণ বা বারট্রান্ড রাসেলে কি প্রয়োজন।
৭। যে উপন্যাস/গল্প অন্তত দশ বার পড়া যায় না, কিংবা পৌগণ্ড থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত পড়া যায় না, কিংবা যে-কোনো পাতা খুলে পড়া শুরু করা যায় না সে উপন্যাস/গল্প ছাপা হবে না।
৮। একজন পর্যটক যখন ভ্রমণে গিয়ে কোনো দেশের মায়ায় পড়ে সেখানেই থেকে যান, কিন্তু সংসার পাতেন না, তখন তাঁর প্রাথমিক অধিকার জন্মায় সেই জায়গা সম্বন্ধে লিখবার। ভ্রমণকাহিনী পথ অতিবাহনের লগ-বুক না।
৯। কবিতার জোয়ারতরঙ্গ রোধিবে কে! আবালবৃদ্ধবনিতা এই মুক্ত বন্দরের বালুতীরে সারাদিন বসে যা-খুশি খেলুন। কালের ছাঁকনি তার কাজ করে যাচ্ছে।
১০। বই বাছাইয়ের ব্যাপারে সমস্ত বুক ক্লাব, সমস্ত পাঠকসংঘ, সমস্ত সাহিত্যসম্রাটের সুপারিশ বন্ধ। দৈনিক পত্রিকায় সাপ্তাহিক বেস্ট-সেলারের তালিকা বা কশ্চিৎ সাহিত্যবেত্তার এক বছরের ভালো লাগা বইয়ের নাম দেখে আক্কেলগুড়ুম হয়ে যায়।
এই দশটি নিয়ম অগৌণে চালু করে দেখুন কি মারাত্মক বিপ্লব ঘটে। প্রতারক লেখকেরা চোরাগোপ্তা কনুই মেরে মেরে জীবিত ও মৃত সব লেখককেই বিস্মৃতির মধ্যে শুইয়ে দিয়েছেন। এঁদের এই কনুই মারার অভ্যেস অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। অন্যথায় রামনাম আর ব্যবসাই শুধু সত্য হবে। আর আমরা সারাজীবন ধরে পড়ে যেতে থাকব, কিন্তু যেমন মূর্খ হয়ে এসেছিলাম, যাবার সময় শুধু তেমনি মূর্খ নয়, মূর্খ ও বোকা হয়ে ফিরে যাব।




আপনার এই আর্টিকেল আমার একদম মনে ধরেছে। বর্তমান যুগে প্রকাশনী এর জগতে এক ধরনের যুদ্ধ চলছে। প্রকাশকরা শুধু নিজেদের লাভের জন্য মানহীন লেখকদের বই ছাপাচ্ছে। যারা মানসম্মত লেখালেখি তাদের লেখা ছাপাচ্ছেই না। আমি আপনার আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়েছি যদিও অনেক কিছু বুঝতে পারিনি তবে আপনার রাগ খুব বেশ ভালোভাবে বুঝতে পারছি। আমি মনে করি প্রকাশনী এর জগতে এখন একটা বিপ্লব আনা দরকার। না হলে মানসম্মত লেখকরা এখানে টিকতেই পারবেনা।