আমি আসলে অনেক মানুষের ধার করা একজন মানুষ
আমার সকল লেখাই দীর্ঘ। আমি যা বোঝাতে চাই সেটা আড্ডার ছলে বোঝাতে চাই আর আড্ডা অল্প কথায় জমে না। তাই পড়ার আগে সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ।
আমি আসলে অনেক মানুষের ধার করা একজন মানুষ। মাঝে মাঝে নিজের দিকে তাকিয়ে আমার একটা অদ্ভুত সন্দেহ হয়। এই যে আমি, এর মধ্যে আসলে আমার নিজের কতটুকু?
প্রশ্নটা শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি এখনও নিজের পাসপোর্ট অন্য কারও নামে করে দিইনি। আয়নায় তাকালে মোটামুটি আমাকেই দেখা যায়। যদিও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়নাও মাঝে মাঝে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে সন্দেহ হয়। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠে।
কিন্তু মানুষ হিসেবে আমার ভেতরে যেসব জিনিসকে আমি খুব আপন বলে মনে করি, সেগুলোর বেশির ভাগই তো কোথাও না কোথাও থেকে ধার করা।
এখন সমস্যা হচ্ছে, এত ধারদেনা নিয়ে মানুষটি দাঁড়িয়েছে কে?
আমি?
নাকি আমার ভেতরে বসবাসরত একটা ছোটখাটো জাতিসংঘ?
মানুষ সম্ভবত এমনই।
আমরা ভাবি আমাদের ব্যক্তিত্ব একটা নিজস্ব সম্পত্তি। দলিল আছে, পর্চা আছে, খাজনা দেওয়া। কেউ হাত দিতে পারবে না।
আসলে ব্যক্তিত্ব অনেকটা পুরোনো ঢাকার একটা বাড়ির মতো। এক ঘর বাবা বানিয়েছেন, বারান্দাটা মা, ছাদের কার্নিশে দাদুর হাত, জানালার নকশাটা কোনো এক শিক্ষকের, উঠোনের আমগাছটা বন্ধুর দেওয়া, আর রান্নাঘরের পাশে যে বেঞ্চে বসে বিকেলের আলো দেখি সেটাও হয়তো বহু বছর আগে পড়া কোনো লেখকের কাছ থেকে চুরি করেছি।
চুরি কথাটা একটু খারাপ শোনায়।
ধার বলি।
আমি ধার করেছি।
এবং যত বয়স বাড়ছে, তত বুঝছি, ভালো ধার করতে পারাও একটা যোগ্যতা।
সবকিছু ধার করা যায় না।
কাউকে দেখে তার পোশাক ধার করা যায়, কথাবার্তার ভঙ্গি ধার করা যায়, স্টাইল ধার করা যায়, এমনকি আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া দেখে জীবনদর্শনও ধার করা যায়। সোমবার Stoicism, মঙ্গলবার Nietzsche, বুধবার Rumi, বৃহস্পতিবার dopamine detox, শুক্রবার আবার প্রেমে পড়ে সব দর্শন গঙ্গায় বিসর্জন।
এই ধার নিয়ে আমার বিশেষ আপত্তি নেই।
মানুষ তো নকল করতে করতেই শেখে।
শিশু প্রথমে শব্দ নকল করে।
ছাত্র শিক্ষককে।
যুবক তার প্রিয় হিরোকে।
লেখক তার প্রিয় লেখককে।
অভিনেতা অভিনয় দেখে অভিনয় শেখে।
তারপর একদিন এত লোকের ছাপ নিজের মধ্যে মিশে যায় যে আলাদা করে আর বোঝা যায় না কোনটা কার।
আমি কবিদের কাছ থেকে প্রথম যে জিনিসটা ধার করতে চেয়েছি, সেটা কবিতা নয়।
আত্মা।
Poet’s soul.
কবি একটা গাছ দেখেন, আমি-আপনি গাছ দেখি। এখানেই বিপদ।
আমরা দেখি আমগাছ।
কবি দেখেন, এক বৃদ্ধ মানুষ সারাজীবন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সন্তানদের দূরে চলে যেতে দেখছে। ওই দেখার ক্ষমতাটাই আমার লোভ হয়।
কবির আত্মা হচ্ছে পৃথিবীর কোনো জিনিসকে পুরোপুরি মৃত মনে না করা।
একটা পুরোনো চেয়ারেও ইতিহাস আছে।
একটা ব্যবহৃত বইয়ের মধ্যে আগের পাঠকের আঙুলের ছাপ আছে।
কারও মুখের হাসির পেছনে হয়তো পাঁচ বছরের কান্না দাঁড়িয়ে আছে।
রাস্তার পাশে যে বৃদ্ধ লোকটা একা বসে আছে, তার জীবনেও একদিন নিশ্চয়ই এমন কেউ ছিল যার জন্য সে রাত জেগেছে।
এইসব ভাবার রোগটা কবিদের কাছ থেকে আমার ধার করা।
এরপর পাঠক। Reader’s mind.
আমার ধারণা, ভালো পাঠকের মাথা একটু বিপজ্জনক।
কারণ সেখানে শুধু একজন লোক থাকে না।
Plato বসে আছেন একদিকে।
Nietzsche তাঁকে দেখে মুখ বাঁকাচ্ছেন।
Virginia Woolf জানালার পাশে দাঁড়িয়ে।
Dostoevsky নিচতলায় কারও অপরাধের কারণ খুঁজছেন।
Kafka দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, দরজাটা খোলা, কিন্তু সে ঢুকতে পারছে না।
আর Joyce কী করছেন, সেটা Joyce নিজেও হয়তো পরিষ্কার করে বলবেন না।
আপনি বই পড়তে পড়তে আস্তে আস্তে বহু মানুষের মস্তিষ্কে ভাড়া থাকেন।
আমার কাছে পড়ার এই জায়গাটা ভয়ানক আকর্ষণীয়।
আমি আমার একটা জীবন নিয়ে জন্মেছি। কিন্তু বইয়ের কারণে কয়েক হাজার জীবন দেখে যেতে পারি।
আমি রাশিয়ায় জন্মাইনি, তবু রাশিয়ান মানুষের দুঃখের পাশে বসতে পারি।
আমি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৯০৪ সালের ১৬ জুন হাঁটিনি, তবু Leopold Bloom-এর সঙ্গে রাস্তা পার হতে পারি।
আমি ট্রয়ের যুদ্ধে যাইনি, তবু Odysseus-এর বাড়ি ফেরার ক্লান্তি বুঝতে চেষ্টা করি।
অন্য মানুষের মাথার ভেতরে কিছুক্ষণ বাস করার এই ক্ষমতা পাঠক আমাকে দিয়েছে।
তাই পাঠকের মন আমি ধার নিতে চাই।
কারণ নিজের মতামতের মধ্যে সারাক্ষণ বসে থাকলে মানুষ শেষ পর্যন্ত নিজেরই echo শুনতে থাকে।
একসময় মনে হয়, আহা, পৃথিবীতে কী বুদ্ধিমান একজন মানুষ জন্মেছে!
লোকটা নিজে।
এই রোগের ওষুধ বই।
একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আমি ধার করতে চাই তার preparation.
আমরা ফলাফল দেখি।
লোকটা একশ মিটার দৌড়াল দশ সেকেন্ডে।
আমরা বলি, বাহ!
ওই দশ সেকেন্ডের পেছনে দশ বছর দেখতে পাই না।
সকাল পাঁচটার অ্যালার্ম দেখি না।
একই ব্যায়াম হাজারবার করার বিরক্তি দেখি না।
হারার পরে পরদিন আবার মাঠে নামা দেখি না।
শরীর ব্যথা করছে, তবু প্রস্তুতি চলছে, সেটা দেখি না।
জীবনের অনেক বড় সফলতার একটা সমস্যা হলো, তার applause খুব শেষে।
প্রস্তুতিটা নিঃশব্দে করতে হয়।
লেখালেখিও তাই।
একটা বই লেখার সময় কেউ পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন হাততালি দেয় না।
আজ তিন পৃষ্ঠা লিখলাম।
কেউ এসে বলল না, বাহ রিটন, মানবসভ্যতা আজ তিন পৃষ্ঠা এগিয়ে গেল।
বরং নিজেরই মনে হয়, তিন পৃষ্ঠা লিখে কী হল?
কাল আবার বসতে হবে।
এই জায়গায় খেলোয়াড়ের দরকার।
সে বলে, আজকের practice আগামীকালের performance-এর অংশ।
বয়স্ক মানুষের সব কথাই যে মহাজ্ঞান, তা বলছি না। অনেক দাদু-নানাও জীবনে এমন সব উপদেশ দিয়েছেন যে শুনে মনে হয় তাঁদের নিজের যৌবনটা সম্ভবত তাঁরা ভুলে গেছেন।
কিন্তু বয়সের একটা জিনিস আছে।
সময় কিছু অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা ছেঁটে দেয়।
যে ঘটনাকে তিরিশ বছর বয়সে পৃথিবীর শেষ মনে হয়েছিল, সত্তর বছর বয়সে মানুষ সেটার কথা বলতে বলতে হাসে।
যে প্রেম চলে গেলে মনে হয়েছিল জীবন শেষ, চল্লিশ বছর পরে তার নামও কখনও মনে করতে সময় লাগে।
যে অপমানের প্রতিশোধ নেব বলে রাত জেগেছিলাম, একসময় বুঝি লোকটার কথাই ঠিকমতো মনে নেই।
বয়স্ক মানুষের কাছ থেকে এই distance-টা ধার করতে চাই।
একটু দূরে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনকে দেখা।
আজকের ঝড়কে আজই মহাপ্রলয় না বলা।
সব যুদ্ধ লড়তে হয় না।
সব কথার উত্তর দিতে হয় না।
সব মানুষকে বোঝাতে হয় না।
এ জ্ঞান বইয়ে লেখা সহজ।
জীবনে শিখতে সময় লাগে।
স্টিভ জবসের মতো মানুষদের আমার খুব ভালো লাগে।
উদ্যোক্তাদের একটা অদ্ভুত রোগ আছে।
যেখানে সবাই বলে, হবে না, সে বলে, দেখি তো।
লোকটা হয়তো শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।
তবু ওই দেখি তো কথাটা সভ্যতাকে অনেক দূর নিয়ে গেছে।
একটা দোকান খোলার আগে কোন দোকান থাকে না।
একটা কোম্পানি তৈরির আগে কোন কোম্পানি থাকে না।
একটা বই লেখার আগে বইটাও থাকে না।
প্রথমে থাকে একজন মানুষের মাথায় একটা অদ্ভুত বিশ্বাস।
সে এমন একটা জিনিস দেখতে পায় যা তখনও বাস্তবে নেই।
এই ক্ষমতাটা আমার খুব পছন্দ।
বাস্তবতার প্রতি সম্মান থাকবে, কিন্তু বাস্তবতার কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ নয়।
পৃথিবী যেমন আছে সেটুকুই যদি সত্য হতো, নতুন কিছুই তৈরি হত না।
কেউ উড়োজাহাজ বানাত না।
কেউ উপন্যাস লিখত না।
কেউ নতুন ব্যবসা শুরু করত না।
কেউ প্রেমের প্রস্তাবও দিত না।
কারণ প্রেমের প্রস্তাবের চেয়ে বড় startup pitch আর কী আছে?
দুই পক্ষের একজন বলছে, ভবিষ্যতে একটা যৌথ enterprise চালাইবেন?
অন্যজন বলছে, business model দেখান।
তারপর child’s curiosity.
এইটা আমার খুব দরকার।
শিশুরা ভয়ংকর প্রশ্নবাজ।
কেন?
তারপর?
কীভাবে?
আকাশ নীল কেন?
মাছ পানির মধ্যে শ্বাস নেয় কী করে?
মানুষ মরে কেন?
ঈশ্বর কোথায় থাকে?
আমি কোথা থেকে এলাম?
এই শেষ প্রশ্নটার পরে সাধারণত বাবা-মায়ের দর্শনচর্চা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
বড় হওয়ার সবচেয়ে বড় বিপদগুলোর একটা হচ্ছে আমরা প্রশ্ন করা কমিয়ে দিই।
কারণ উত্তর জানি বলে ধরে নিই।
অথবা প্রশ্ন করলে বোকা দেখাবে।
শিশুর এই ভয় নেই।
সে না জানাকে লজ্জা মনে করে না।
এই গুণটা মানুষের সারাজীবন থাকা দরকার।
আমি যত পড়ি, তত বুঝি জানার পরিমাণ বাড়ছে না, বরং অজানার আয়তন বড় হচ্ছে।
একটা বই দশটা প্রশ্নের উত্তর দিলে বিশটা নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়।
একসময় মনে হয় পৃথিবীটা একটা বিশাল library, আর আমার লাইব্রেরি কার্ডের মেয়াদ খুবই ছোট।
ভালো জিনিস তাড়াহুড়ো পছন্দ করে না।
একজন কাঠমিস্ত্রি কাঠের ওপর হাত বুলিয়ে বোঝে কোথায় কাটতে হবে।
একজন ঘড়ি মেরামতকারী ছোট একটা spring নিয়ে আধঘণ্টা বসে থাকে।
একজন কুমোর একই মাটিকে বারবার হাতে ঘুরিয়ে আকার দেয়।
একজন লেখকও তো তাই।
একটা বাক্য লিখলাম।
ভালো লাগল না।
আবার লিখলাম।
একটা শব্দ বাদ দিলাম।
আবার বসালাম।
পাঁচ পৃষ্ঠা লিখে তিন পৃষ্ঠা ফেলে দিলাম। এ.আইয়ের এই দোষটি নেই। সে নিরপেক্ষ।
বাইরে থেকে দেখে মনে হয় লোকটা বসে বসে কী করছে?
কারিগর জানে।
কাজ এখনও কাজের মতো হয়নি।
এই patience এখন ক্রমশ দুর্লভ জিনিস।
আমরা দ্রুত ফল চাই।
দ্রুত পড়তে চাই।
দ্রুত শিখতে চাই।
দ্রুত সফল হতে চাই।
দ্রুত প্রেমে পড়ি।
দ্রুত বিরক্ত হই।
দ্রুত block করি।
তারপর দ্রুত একটা quote পোস্ট করি, “Protect your peace.”
আমার মনে হয় শান্তি বেচারিও এখন খুব confused.
এত মানুষ তাকে protect করছে, সে কোথায় থাকে কে জানে।
যা বলছিলাম।
আমি এই সব মানুষের কাছ থেকে ধার করতে চাই।
কবির কাছ থেকে আত্মা।
পাঠকের কাছ থেকে তার মন।
খেলোয়াড়ের কাছ থেকে প্রস্তুতি।
দাদি নানীর বুদ্ধি।
উদ্যোক্তার আগুন।
শিশুর প্রশ্ন।
কারিগরের ধৈর্য।
তারপর একটা প্রশ্ন থেকে যায়।
এত ধার নিয়ে ঋণ শোধ করব কীভাবে?
সম্ভবত ঋণদাতাকে জিনিস ফেরত দিয়ে নয়।
আমি কবিকে তার আত্মা ফেরত দিতে পারব না।
শিশুকে তার curiosity ফেরত দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
কারিগরের patience ফেরত দিলে সে বলবে, নিজের কাছে রাখেন ভাই, আমার আরও আছে।
ঋণ শোধ করার একটাই উপায় দেখি।
যা নিয়েছি, তার যোগ্য হওয়া।
যদি বই আমাকে গভীর করে, আমাকে আরও মনোযোগ দিয়ে মানুষ দেখতে হবে।
যদি কবিতা আমাকে কোমল করে, সেই কোমলতা অন্য মানুষের কাজে লাগাতে হবে।
যদি শিশুর কাছ থেকে প্রশ্ন করতে শিখি, বয়স বাড়লেও বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাটা বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
যদি একজন কারিগর আমাকে ধৈর্য শেখায়, নিজের কাজটা একটু যত্ন করে করতে হবে।
যদি কোনো উদ্যোক্তার সাহস দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই, অন্তত আমার নিজের অসম্ভব মনে হওয়া একটা কাজে হাত দিতে হবে।
আমরা সবাই সম্ভবত well-kept borrower.
ভালো করে রাখা ধারকৃত মানুষের সমষ্টি।
আমার মধ্যে আমার মা-বাবার কিছু কথা আছে।
কিছু শিক্ষক আছেন।
কিছু লেখক আছেন।
কিছু বন্ধু আছেন।
কিছু প্রেম আছে।
কিছু বিচ্ছেদ আছে।
কিছু ভুল মানুষও আছে, তাদের কাছ থেকেও কম শেখা হয়নি।
যারা কষ্ট দিয়েছে, তারাও একরকম শিক্ষক। অবশ্য তাদের হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে গিয়ে Teacher’s Day পালন করার দরকার নেই। এতটা উদার মানুষ এখনও হতে পারিনি।
একজন মানুষকে সম্পূর্ণ হতে হলে একটাই জিনিস হতে হবে, এমন কোনো নিয়ম আমি দেখি না।
আমি একই সঙ্গে পাঠক হতে চাই, লেখক হতে চাই, ছাত্র হতে চাই, প্রেমিক হতে চাই, বাবা হতে চাই, বন্ধু হতে চাই, কাজের মানুষ হতে চাই, আবার বিকেলে জানালার পাশে বসে কোনো কারণ ছাড়াই আকাশ দেখতেও চাই।
আর একটা ঘর সম্ভব হলে ফাঁকা রাখব।
কারণ সামনে কাকে পাব, তার কাছ থেকে কী ধার করব, কে জানে।
কিন্তু আমার জীবনের বেশির ভাগ ভালো জিনিসের শুরুই তো আগে মাথার ভেতরে হয়েছে।
বই পড়ার আগে বইটার দিকে তাকিয়েছি।
লেখার আগে বাক্যটা ভেবেছি।
ভালোবাসার আগে মানুষটাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি।
কোনো কাজ করার আগে কল্পনায় তার একটা অসম্পূর্ণ ছবি এঁকেছি।
মানুষ আগে একটু স্বপ্নই দেখে।
তারপর হাতা গুটায়।
তারপর ধার করা সাহস, ধার করা বুদ্ধি, ধার করা ধৈর্য সব এক জায়গায় জড়ো করে বলে,
দেখি, কী হয়।
এই ধারদেনার হিসাব শেষ পর্যন্ত কে রাখবে জানি না।
তবে জীবনের শেষে যদি দেখা যায় অনেক মানুষের কাছ থেকে অনেক কিছু নিয়েছি, আর সেই জিনিসগুলো নষ্ট না করে নিজের মধ্যে একটু ভালোভাবে রেখে যেতে পেরেছি, আমার কাছে সেটাই মন্দ কি?
সম্পূর্ণ মানুষ হওয়ার অর্থ হয়তো পৃথিবীর অসংখ্য ভালো মানুষের কাছ থেকে একটু একটু করে নিয়ে এমন একজন হয়ে ওঠা, যাকে দেখে পরের কোনো মানুষও হয়তো একদিন মনে মনে বলবে,
এই লোকটার কাছ থেকে এইটুকু আমি ধার নিলাম।
তখন বুঝব ঋণের কিস্তি একটু হলেও শোধ হয়েছে।


