রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ নিয়ে লেখা হয়েছে। আরও লেখা হবে। এমন ভাব করারও উপায় নেই যে আমরা আজ এমন একটি গোপন সুড়ঙ্গ আবিষ্কার করতে যাচ্ছি যার মুখে এতদিন শান্তিনিকেতনের মালি টব বসিয়ে রেখেছিলেন। গল্পগুচ্ছ নিয়ে প্রবন্ধ আছে, গবেষণা আছে, থিসিস আছে, বই আছে, অধ্যাপকের বক্তৃতা আছে, পরীক্ষায় দশ নম্বরের প্রশ্ন আছে, এবং সেই প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় ছাত্রও আছে যেন রবীন্দ্রনাথ ব্যক্তিগত শত্রুতা করে ‘পোস্টমাস্টার’ লিখে গেছেন।
তার পরেও গল্পগুচ্ছ নিয়ে আবার কথা বলতে হয়। অন্তত আমি না বলে পারি না। কারণ কিছু বই আছে, যাদের সম্পর্কে সমস্ত কথা বলা হয়ে যাওয়ার পরেই আসল কথাবার্তা শুরু হয়।
ভাবুন একটু।
একজন বর্তমান গল্পলেখক বসেছেন। নিজের তিনটি গল্পগ্রন্থ আছে, দুটো পুরস্কারও হয়েছে, একটি গল্প নিয়ে শর্ট ফিল্ম হয়েছে, দুজন গবেষক ফোন করে বলেছেন আপনার গল্পে ‘urban alienation’-এর ব্যাপারটা খুব interesting। মানুষটির আত্মমর্যাদা মোটামুটি সুস্থ।
তার সামনে টুপ করে গল্পগুচ্ছ রাখা হল।
এ বার?
এই জায়গাটাতেই কৌতূহল।
শ্রদ্ধা তো আছেই। রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে শ্রদ্ধা বাঙালির মোটামুটি জন্মগত সাবস্ক্রিপশন। নামতা শেখার আগে থেকেই রবিঠাকুর মহামানব, ফলে যাঁরা পড়েননি তাঁরাও শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু একজন গল্পকার যখন আর একজন গল্পকারকে পড়ছেন, তখন শুধু প্রণাম করে পালানো যায় না। একই ব্যবসার লোক। তাঁকে একটু দেখতে হয়, লোকটা কী করল? কী করে করল? কোথায় হাত দিল? কোথায় থামল? যে জায়গায় আমি তিন পৃষ্ঠা লিখে চরিত্রের psychological complexity প্রতিষ্ঠা করছি, সেখানে ভদ্রলোক তিনটে বাক্য লিখে চরিত্রটাকে বাপের নাম-সহ আমার মাথার মধ্যে বসিয়ে দিলেন কী করে?
এই মুখোমুখি হওয়াটাই আসল।



