হানিফ কুরেশি'র সাক্ষাৎকার দ্য আর্ট অফ ফিকশন
হানিফ কুরেশি'র সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন হ্যারি কুনযুরু
হানিফ কুরেশি, দ্য আর্ট অফ ফিকশন নং ২৬৫
দ্য প্যারিস রিভিউ
হানিফ কুরেশি'র সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন হ্যারি কুনযুরু
ভাষান্তরঃ রিটন খান
১৯৫৪ সালে হানিফ কুরেশি লন্ডনের ব্রোমলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব কেটেছিল মায়ের দাদু-দাদির চালানো মুদি দোকানের উপরে সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁর মা-বাবা, অড্রে বাস ও রফিউশান কুরেশি, ছিলেন তখনকার ব্রিটেনে এক বিরল দম্পতি—একজন শ্বেতাঙ্গ ইংরেজ কর্মজীবী নারী এবং আরেকজন লন্ডনের পাকিস্তানি দূতাবাসে কর্মরত এক ভারতীয় সিভিল সার্ভেন্ট। কুরেশি কিশোর বয়স থেকেই লেখালেখি শুরু করেন এবং বিশের কোঠায় পৌঁছে রয়্যাল কোর্ট থিয়েটারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেখানে তাঁর লেখা বেশ কয়েকটি নাটক মঞ্চস্থ হয়, যেগুলোতে ব্রিটিশ এশীয় অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছিল—বিষয়টি সে সময়ে প্রায় উপেক্ষিত ছিল।
১৯৮৭ সালে তাঁর প্রথম চিত্রনাট্য মাই বিউটিফুল লন্ড্রেট (১৯৮৫) একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে এবং দশকের অন্যতম আলোচিত ব্রিটিশ চলচ্চিত্রে মনোনীত হয়। এই চলচ্চিত্রে এক স্কিনহেড (ড্যানিয়েল ডে-লুইস) ও এক দক্ষিণ এশীয় উদ্যোক্তার (গর্ডন ওয়ার্নেকি) সম্পর্ক দেখানো হয়, যা শুধু সমকামী প্রেম তুলে ধরার জন্যই নয়, বরং তখনকার থ্যাচারপন্থী লোভী সংস্কৃতিকে বিদ্রূপ করার জন্যও বিতর্কিত হয়।
তাঁর প্রথম উপন্যাস, দ্য বুদ্ধা অব সাবার্বিয়া (১৯৯০), একজন কুরেশি-সদৃশ যুবকের আটের দশকের লন্ডনের শিল্প জগতে নিজের ঠাই করে নেওয়ার কাহিনি, তাঁকে জাতীয় ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এই উপন্যাস দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্রিটিশ এশীয়দের সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের সময়ে লেখা হয়েছিল।
হানিফ কুরেশির তিন সন্তান—কার্লো ও সচিন, যাদের মা ট্রেসি স্কোফিল্ড, একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক; এবং কিয়ার, যার মা মনিক প্রাউডলাভ। স্কোফিল্ডের সঙ্গে বিচ্ছেদকে তিনি তাঁর ১৯৯৮ সালের নভেল্লা ইনটিমেসি-তে কাল্পনিক রূপ দেন, যা পুরুষের কামনা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অনুসন্ধানের কারণে বিতর্কের জন্ম দেয়। কুরেশির ব্যক্তিত্বের মোহনীয় অথচ দুঃসাহসী প্রকাশ্য রূপ এই বিতর্ককে হয়তো আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।
তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস দ্য ব্ল্যাক অ্যালবাম (১৯৯৫)-এ তিনি তরুণ ব্রিটিশ মুসলমানদের বিচ্ছিন্নতা ও উগ্রপন্থার দিকে ঝোঁকার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। এর পরবর্তী উপন্যাস ও ছোটগল্পগুলোতে তিনি মধ্যবিত্ত পিতাদের সংগ্রাম ও উদ্বেগকে কেন্দ্র করে লিখতে শুরু করেন। তাঁর জনপ্রিয় চিত্রনাট্যগুলোর মধ্যে পরিচালক রজার মিশেলের সঙ্গে তিনটি বহুল প্রশংসিত। এই চিত্রনাট্যগুলোতে মানব সম্পর্কের জটিলতা, ঘনিষ্ঠতা, আকাঙ্ক্ষা এবং বার্ধক্যের অনিবার্য সংগ্রামকে অনুসন্ধান করা হয়েছে। বিষয়গুলিকে তিনি এমন এক সৎ কিন্তু সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মে গভীর প্রভাব ফেলে। ৯/১১ প্রসঙ্গে তিনি একবার বলেছিলেন, "যখন এই ঘটনা ঘটল, আমি দ্য মাদার (২০০৩)-এর চিত্রনাট্য লিখছিলাম। এতে সন্ত্রাসবাদ ছিল না, অথচ ড্যানিয়েল ক্রেগকে তার প্যান্ট খুলে রাখা অবস্থায় দেখানো হয়েছিল”।
আমাদের প্রাথমিক বৈঠকগুলো হয়েছিল কুরেশির শেফার্ডস বুশে তাঁর ভিক্টোরিয়ান বাড়িতে। সিঁড়ির বদলে সামনের র্যাম্পটি ছিল তাঁর জীবনের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রথম চিহ্ন—২০২২ সালের বক্সিং ডে-তে ভয়াবহ মেরুদণ্ডের আঘাতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারানোর পরের জীবন। ২০২৩ সালের বেশিরভাগ সময় তিনি রোমের একটি আইসিইউতে এবং পরে লন্ডনের তিনটি হাসপাতালে কাটান। দুর্ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি তাঁর নতুন শারীরিক অবস্থার ওপর লিখতে শুরু করেন, পরিবারের সদস্যরা তখন তাঁর হয়ে লেখালেখি করতেন। এখনও তিনি সাপ্তাহিক নিউজলেটার প্রকাশ করেন, কার্লোর সহায়তায়, তাঁর সাবস্ট্যাক প্ল্যাটফর্মে, যার পাঠক সংখ্যা ত্রিশ হাজারেরও বেশি। আমার এই সফরের কিছু আগে প্রকাশিত একটি নিউজলেটারে কুরেশি লজ্জা নিয়ে তার চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেন—যেখানে একজন পূর্ব পরিচিত তাঁকে বৈদ্যুতিক হুইলচেয়ারে এবং জয়স্টিক পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হাতের স্প্লিন্টসহ দেখে, তাঁর মাথায় তিনবার হাত বুলিয়ে দেন।
আমরা সামনের ঘরে বসে কথা বলেছিলাম, চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বোহেমিয়ান জিনিসপত্রের মাঝে। এক কোণে একটি হাসপাতালের বিছানা, পাশে একটি কম্পিউটার ও বড় মনিটর রাখা ছিল। দেওয়ালের পাশে ঠেস দেওয়া ছিল কুরেশির প্রাথমিক নাটক বর্ডারলাইন (১৯৮১)-এর একটি পোস্টার, আর অন্য দেওয়ালে ছিল এম. সি. এসচারের ছবি, ল্যারি ক্লার্কের সিনেমার সেটে তোলা একটি ফটো, এবং বোর্হেস ও ম্যাক্সিম গোর্কির প্রতিকৃতি। ম্যান্টেলপিসে রাখা ছিল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ম্যানেজার অ্যালেক্স ফার্গুসনের একটি প্লাস্টিকের আবক্ষ মূর্তি।
একজন নার্স আমাদের কথোপকথনের সময় দূর থেকে নজর রাখছিলেন এবং কুরেশির অনুরোধে তাঁকে স্ট্র দিয়ে কফি পান করাচ্ছিলেন, মগটির গায়ে ছিল কুরেশির নিজের ছবি—ফ্যাশন ডিজাইনার পল স্মিথের দেওয়া উপহার। মাঝে মাঝে তাঁর সঙ্গী ইসাবেলা দ্য অ্যামিকো ঘরে ঢুঁ মারতেন, একবার তো স্কটল্যান্ড থেকে একজন বন্ধুর পাঠানো তিনটি বড় কিপার আসার খবর শেয়ার করতে এলেন।
কুরেশি তখন তাঁর স্মৃতিকথা শ্যাটারড (২০২৪) প্রকাশ উপলক্ষে দুর্ঘটনার পর প্রথমবারের মতো একটি জনসমাগমে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ভেন্যু থেকে পাঠানো একটি প্রশ্নের জবাবে—তিনি কি শ্রোতারা আসার আগেই মঞ্চে উপস্থাপকসহ বসবেন?—কুরেশি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ তীক্ষ্ণ রসিকতায় উত্তর দিলেন। বললেন, "না, আমি গাধার মতো সেখানে বসে থাকতে চাই না। রোলিং স্টোনস কি আগে মঞ্চে উঠে বসে, তারপর দর্শক আসে?"
Keep reading with a 7-day free trial
Subscribe to Riton Khan to keep reading this post and get 7 days of free access to the full post archives.