I wish good essays could pay rent on their own. Until they learn how, paid subscriptions keep this publication alive.
টনি মরিসনের Sula উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। নামটি লক্ষ করুন। সুলা। মাত্র দুটি অক্ষরাংশের একটি নাম। অথচ বইটি পড়া শেষ হলে এই নামের মধ্যে কতগুলো মানুষ, কত রকম সম্পর্ক, কত অপরাধ, কত ভালোবাসা, কত অপমান এবং কত অমীমাংসিত প্রশ্ন এসে জমা হয়, তার হিসাব রাখা কঠিন। একজন মানুষের নাম দিয়ে একটি উপন্যাসের নামকরণ করলে স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়, লেখক সেই মানুষটিকে আমাদের চিনিয়ে দেবেন। তাঁর চরিত্র, কাজকর্ম, ভালো-মন্দ, সুখদুঃখ সব মিলিয়ে একটা স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যাবে। মরিসন সেই প্রত্যাশাই জাগিয়ে রাখেন। তারপর ক্রমশ এমন সব ঘটনা আমাদের সামনে উপস্থিত করেন যে, সুলাকে চেনার পরিবর্তে নিজেদের মানুষ চেনার ক্ষমতা সম্পর্কেই সংশয় জন্মায়।
কেন?
কারণ আমরা সাধারণত মানুষকে কয়েকটি পরিচিত বিশেষণে চিনতে অভ্যস্ত। কেউ ভালো, কেউ মন্দ। কেউ বিশ্বস্ত, কেউ বিশ্বাসঘাতক। কেউ চরিত্রবতী, কেউ স্বেচ্ছাচারিণী। একজন নারী বিবাহিত হলে, সংসার করলে, সন্তান প্রতিপালন করলে তাঁর সামাজিক পরিচয় নিয়ে বিশেষ গোলমাল হয় না। কিন্তু তিনি যদি বিবাহ না করেন, সন্তান না চান, নিজের যৌনজীবন নিয়ে অন্যের অনুমোদনের অপেক্ষা না করেন, এমনকি সমাজের কাছে নিজের আচরণের কৈফিয়ৎ দিতেও অস্বীকার করেন, তখন তাঁকে কোন শ্রেণিতে রাখা হবে? সুলা এই অসুবিধাটিই সৃষ্টি করেন। অথচ তাঁর নিজের জীবনেও এমন অনেক অন্যায় আছে, যেগুলো স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে ক্ষমা করা চলে না।
প্রশ্নটা এখানেই।
উপন্যাসের ঘটনাস্থল আমেরিকার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কাল্পনিক শহর মেড্যালিয়ন। শহরের পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের বসতি। অথচ সেই উঁচু জায়গাটির নাম বটম, অর্থাৎ তলদেশ। নামের মধ্যেই একটি পুরোনো বর্ণবাদী পরিহাস। সমাজের যে মানুষগুলোকে নিচে রাখা হয়েছে, ভৌগোলিকভাবে তারা থাকে ওপরে। এখান থেকেই মরিসন নামের সঙ্গে বাস্তবের বিরোধ সৃষ্টি করতে শুরু করেন। বটমের অধিবাসীরা হাসে, নাচে, গান গায়, পরস্পরের সঙ্গে ঝগড়া করে, ভালোবাসে, সন্তান জন্ম দেয়, মরে। দূর থেকে দেখলে এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য। কিন্তু তাদের হাসির মধ্যে যে দুঃখ, সামাজিক অবমাননা এবং বেঁচে থাকার সংগ্রাম জমে আছে, বাইরের মানুষ তা কতটুকু বোঝে?
এই বটমেই বাস করেন শ্যাড্র্যাক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে ফিরে আসা এক সৈনিক। যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের শরীর মুহূর্তের মধ্যে ছিন্নভিন্ন হতে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর মনকে বিপর্যস্ত করেছে। মৃত্যু কখন আসবে, কীভাবে আসবে, তার কোনো নিয়ম নেই। অতএব তিনি মৃত্যুভয়কে নিয়মের মধ্যে আনতে চান। বছরে একটি দিন ঘোষণা করেন জাতীয় আত্মহত্যা দিবস। সেদিন ঘণ্টা বাজিয়ে, ফাঁসির দড়ি নিয়ে তিনি শহর প্রদক্ষিণ করেন। তাঁর ধারণা, মৃত্যুর জন্য একটি নির্দিষ্ট দিন রাখলে বছরের বাকি দিনগুলোয় মানুষ নিশ্চিন্তে বাঁচতে পারবে।
কী আশ্চর্য যুক্তি!
কিন্তু একটু ভেবে দেখলে বুঝি, এই অদ্ভুত আয়োজনের ভিতরে মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি কাজ করছে। আমরা যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, তার জন্য নিয়ম তৈরি করি। মৃত্যুকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তার একটি দিন নির্দিষ্ট করি। শ্যাড্র্যাকের মন যে বিশৃঙ্খলা সহ্য করতে পারে না, সে কারণেই তাঁর ঘর অস্বাভাবিক পরিচ্ছন্ন। পাগল বলে পরিচিত মানুষটি নিজের মতো করে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন। সমাজ তাঁকে পাগল বলে মেনে নিয়েছে বলেই তাঁর জন্য একটা জায়গাও বরাদ্দ করেছে।
এই সমাজেই জন্ম সুলা মে পিসের। আর তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেল রাইট।
দুজনের সংসার সম্পূর্ণ আলাদা। নেলের মা হেলেন সামাজিক শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং ভদ্রতার প্রতি এমন অনুরক্ত যে, তাঁর বাড়িতে যেন মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিরও অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হয়। হেলেনের নিজের মা রোশেল ছিলেন সামাজিক নিয়মের বাইরে চলা নারী। সেই মাতার জীবনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়েই হেলেন নিয়মের প্রতি অতিরিক্ত অনুগত হয়েছেন। অর্থাৎ এক নারীর স্বাধীনতা তাঁর কন্যার মধ্যে জন্ম দিয়েছে স্বাধীনতার ভয়।
সুলার বাড়িতে ঠিক বিপরীত ব্যবস্থা। তাঁর দিদিমা ইভা পিস সংসারের একচ্ছত্র অধিষ্ঠাত্রী। স্বামী পরিত্যাগ করার পরে সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখতে তিনি যে সংগ্রাম করেছেন, তার মধ্যে সাহস আছে, কৌশল আছে, নির্মমতাও আছে। তাঁর একটি পা নেই। প্রচলিত ধারণা, বিমার টাকা পাওয়ার জন্য তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে পা হারিয়েছেন। ঘটনা সত্য কি না আমরা জানি না। কিন্তু সংসার বাঁচাতে নিজের শরীর পর্যন্ত বিসর্জন দেওয়ার সম্ভাবনা তাঁর চরিত্রের সঙ্গে অসংগত মনে হয় না।
ইভার পুত্র প্লাম যুদ্ধ থেকে ফিরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। একসময় ইভা নিজেই তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এই ভয়াবহ কাজের ব্যাখ্যা কী? ইভা মনে করেন, ছেলে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে না, ক্রমশ শিশুর মতো অসহায় হয়ে যাচ্ছে। তাঁকে সেই অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়াই যেন মাতৃকর্তব্য।
কিন্তু ছেলের জীবন শেষ করে দেওয়ার অধিকার মা পেলেন কোথা থেকে? যে নারী সন্তানকে বাঁচানোর জন্য নিজের শরীরের ক্ষতি স্বীকার করতে পারেন, সেই নারীই আবার নিজের হাতে তাকে হত্যা করেন। মাতৃত্বের কোন সংজ্ঞায় এই দুটি কাজ পাশাপাশি রাখা যাবে? ইভার ভালোবাসা নিয়ে সন্দেহ না থাকলেও তাঁর সিদ্ধান্তের মধ্যে যে ক্ষমতার নির্মম প্রয়োগ আছে, সেটি অস্বীকার করবার উপায় নেই।
সুলার মা হান্না আবার অন্য ধরনের নারী। বহু পুরুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, অথচ তিনি সংসারের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী কোনো অপরাধবোধে আক্রান্ত নন। সুলা একদিন মাকে বলতে শোনে, তিনি সুলাকে ভালোবাসেন, কিন্তু মেয়েটিকে তাঁর ভালো লাগে না।
একটি শিশুর কাছে কথাটির অর্থ কী হতে পারে?
মা ভালোবাসেন, অথচ পছন্দ করেন না। ভালোবাসা তবে কী? কর্তব্য? শরীরের সম্পর্ক? অভ্যাস? নাকি মায়ের মনেও এমন কোনো অপূর্ণতা আছে, যার জন্য সন্তানকে দায়ী করতে ইচ্ছে হয়? সুলা কথাটি শুনে চলে যায়। পরে তাঁর আচরণের মধ্যে যে আবেগিক দূরত্ব দেখতে পাই, তার সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক থাকা অসম্ভব নয়।
এই দুই সংসারের দুই মেয়ে পরস্পরের মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পায়, যা নিজেদের পরিবারে পায়নি। নেলের নিয়ন্ত্রিত জীবন সুলার সংসারের স্বাধীনতায় আকৃষ্ট হয়। সুলা নেলের মধ্যে পায় এমন একজন মানুষকে, যার সঙ্গে নিজের মন বিনা দ্বিধায় প্রকাশ করা যায়। তাদের বন্ধুত্ব এত নিবিড় যে, একজনের পরিচয়ের মধ্যে অন্যজন ক্রমশ জড়িয়ে যায়।
নেল একদিন নিজের মধ্যে এক আশ্চর্য উপলব্ধি অনুভব করে। সে নিজের মনে বলে, আমি আমি। আমি আমার মায়ের মেয়ে নই, আমি নেলও নই, আমি আমি।
এই কথার অর্থ সহজ বলে মনে হলেও তেমন সহজ নয়। আমরা প্রত্যেকে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে নাম বলি, পিতামাতার পরিচয় বলি, পেশা বলি, সামাজিক অবস্থান বলি। কিন্তু এসব পরিচয় সরিয়ে দিলে যে মানুষটি অবশিষ্ট থাকে, সে কে? নেলের এই প্রশ্নের উত্তর সে নিজেও জানে না। তথাপি প্রশ্নটি উচ্চারণ করতেই তার মধ্যে শক্তি, আনন্দ এবং ভয়ের মিশ্র অনুভূতি জন্মায়। নিজের স্বাতন্ত্র্য উপলব্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নিজের একাকিত্বও বুঝতে পারে।
সুলা আর নেলের বন্ধুত্বের প্রথম বড়ো বিপর্যয় ঘটে চিকেন লিটল নামে একটি ছোট ছেলের মৃত্যুতে। নদীর ধারে খেলার সময় সুলা তাকে হাত ধরে ঘোরাচ্ছিল। হঠাৎ হাত ফসকে ছেলেটি জলে পড়ে যায়। জল আবার শান্ত হয়ে আসে। শিশুটি আর ওঠে না।
ঘটনাটি দুর্ঘটনা। কিন্তু দুর্ঘটনার পর দুই মেয়ের আচরণ? তারা সত্য প্রকাশ করে না। সুলা ভীত হয়ে শ্যাড্র্যাকের কাছে যায়। নেল চুপ করে থাকে। তাদের নীরবতা একটি শিশুর মৃত্যুকে গোপন করে দেয়।
এখানে আর একটি বিষয় লক্ষ করার মতো। মৃত শিশুটিকে যে শ্বেতাঙ্গ মাঝি উদ্ধার করে, তার চোখে কৃষ্ণাঙ্গ শিশুটির মানবিক পরিচয় প্রায় অনুপস্থিত। সে ধরে নেয়, কৃষ্ণাঙ্গ পিতামাতার অবহেলাতেই এমন মৃত্যু ঘটেছে। মৃতদেহ নিয়ে তার প্রধান উদ্বেগ, গরমে পচে গিয়ে নিজের মালপত্র নষ্ট করবে কি না।
একটি শিশু মারা গেছে। অথচ তার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করার আগে তার বর্ণপরিচয়ই অপরাধের ব্যাখ্যা হয়ে দাঁড়াল। মৃতদেহের প্রতি এই অবমাননা দেখায়, বর্ণবৈষম্য মানুষের মৃত্যুর পরেও শেষ হয় না।
কিন্তু সুলা আর নেলের ভূমিকা কী? একটি শিশুর মৃত্যু তারা দেখেছে। দুর্ঘটনার জন্য সুলা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, নেল উপস্থিত সাক্ষী। তবু নিজেদের নিরাপত্তার জন্য উভয়েই নীরব থেকেছে। পরবর্তীকালে নেল নিজেকে সুলার তুলনায় নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ মনে করবে। সেই শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তি কতখানি দৃঢ়?
এরপর হান্নার মৃত্যু। উঠোনে আগুন লেগে তাঁর শরীর জ্বলতে শুরু করে। ইভা নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতা অগ্রাহ্য করে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। সুলা দাঁড়িয়ে দেখে। তার এই দেখা নিয়ে ইভার মনে সন্দেহ জন্মায়। মেয়েটি কি ভয়ে অবশ হয়ে গিয়েছিল, না কি দৃশ্যটি তার কৌতূহল জাগিয়েছিল?
আমরা নিশ্চিত জানি না। মরিসনও নিশ্চিত উত্তর দেন না। কিন্তু ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। সুলার মধ্যে মানুষকে দেখার যে অদ্ভুত দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে এই দর্শকের ভূমিকা সম্পর্কিত। সে অন্যের যন্ত্রণা প্রত্যক্ষ করতে পারে, অথচ সেই যন্ত্রণায় নিজেকে সমর্পণ করে না।
এই প্রবণতার মধ্যেই সুলার নৈতিক বিপদের সূচনা।
কয়েক বছর পরে নেলের বিবাহ হয় জুড গ্রিনের সঙ্গে। সুলা মেড্যালিয়ন ছেড়ে কলেজে যায়, অন্যত্র জীবন কাটায়। দশ বছর পরে ফিরে আসে নিজের শহরে। পোশাক-পরিচ্ছদ, চলাফেরা, কথাবার্তা, সবকিছুতেই তার স্বাধীনতার ঘোষণা। প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে রবিন পাখির অস্বাভাবিক উপদ্রব জুড়ে দিয়ে মরিসন যেন শহরের মানুষের অশুভ আশঙ্কাকে দৃশ্যমান করে তোলেন।
সুলা ফিরে এসেই দিদিমাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়। ইভা যে সংসার নিজের ইচ্ছাশক্তিতে তৈরি করেছিলেন, সেই সংসারে তাঁর কর্তৃত্ব শেষ হয়। যিনি একসময় অন্যদের জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁর নিজের বাসস্থানও এখন অন্যের সিদ্ধান্তের অধীন।
পাঠক সুলার প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারেন। কিন্তু এই কাজকে কীভাবে বিচার করবেন? ইভার কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে সুলার বিদ্রোহের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আছে। তদ্ব্যতীত, আছে নিষ্ঠুরতা। যে নারী তাঁকে মানুষ করেছেন, তাঁর ইচ্ছাকে সুলা কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছেন? সম্ভবত একেবারেই দেননি।
আরও কঠিন প্রশ্ন আসে জুডকে নিয়ে।
সুলা নিজের বহু যৌনসম্পর্কের মধ্যে জুডের সঙ্গেও শয্যায় যায়। জুড নেলের স্বামী। নেল তাদের একসঙ্গে দেখতে পায়। জুড তাকে ছেড়ে চলে যায়। সুলার সঙ্গেও বন্ধুত্ব ছিন্ন হয়।
এখানে সুলার আচরণের পক্ষে স্বাধীনতার যুক্তি দেওয়া সহজ। বিবাহের সামাজিক প্রতিষ্ঠানে তার আস্থা নেই, যৌনতার সঙ্গে মালিকানার সম্পর্ক সে মানে না। কিন্তু নেল? যে নারী তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যার সঙ্গে নিজের অস্তিত্ব জড়িয়ে আছে, তার অনুভূতির কথা সুলা ভাবল না কেন?
জুডের দায়ও কম নয়। বিবাহের প্রতিশ্রুতি তিনিই দিয়েছিলেন। অথচ সমাজের নিন্দা প্রধানত সুলার দিকে ধাবিত হয়। পুরুষটির বিশ্বাসভঙ্গ আর নারীর বিশ্বাসভঙ্গ একই মাপে বিচার করা হয় না।
তবে সুলার নিজের দায়ও এখান থেকে মুছে যায় না। নেলের প্রতি ভালোবাসা থাকলে তার ক্ষতির সম্ভাবনাটি বিবেচনা করার কথা। সুলা তা করেনি। অথবা করেছে, কিন্তু গুরুত্ব দেয়নি। মানুষের প্রতি এই ঔদাসীন্য তাকে এমন অবস্থায় পৌঁছে দেয়, যেখানে নিজের স্বাধীনতা অন্যের জীবনে আঘাত করার অনুমতি হয়ে ওঠে।
মরিসন সুলাকে যে শিল্পীসুলভ সম্ভাবনা দিয়ে নির্মাণ করেছেন, তার মধ্যেও একটি দুর্ভাগ্য আছে। সুলার অসীম কৌতূহল, কল্পনাশক্তি, সৌন্দর্যবোধ এবং মানুষের স্বভাব পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা আছে। কিন্তু সৃষ্টির কোনো শিল্পমাধ্যম সে আয়ত্ত করেনি। রং, সংগীত, নৃত্য কিংবা লেখার মধ্যে নিজের অস্থিরতাকে প্রকাশ করার পথ তার জানা নেই। ফলে তার পরীক্ষার প্রধান উপাদান হয়ে ওঠে নিজের জীবন এবং অন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক।
সে নিজেকে তৈরি করতে চায়। নিজের ইচ্ছানুযায়ী বাঁচতে চায়। কিন্তু মানুষকে নিয়ে পরীক্ষা করার মধ্যে বিপদ আছে। শিল্পী যেমন রং বদলাতে পারেন, মাটি ভাঙতে পারেন, তেমনি মানুষের জীবনকে ইচ্ছেমতো ভেঙে আবার গড়া যায় না। অন্য মানুষের যন্ত্রণা, ক্ষতি এবং অপমান বাস্তব।
সুলার জীবনে অ্যাজ্যাক্সের আগমন এই সমস্যাটিকেই নতুনভাবে সামনে আনে। অ্যাজ্যাক্স তার স্বাধীন স্বভাবের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাদের সম্পর্কের মধ্যে প্রচলিত দাম্পত্যের দাবি নেই। অথচ সুলা যখন তাকে নিজের জীবনে স্থায়ীভাবে চাইতে শুরু করে, তখন অ্যাজ্যাক্স চলে যায়।
এখানে সুলা প্রথম বুঝতে পারে, ভালোবাসার মানুষের স্বাধীনতা নিজের প্রত্যাশার সঙ্গে না-ও মিলতে পারে। যাকে ধরে রাখতে চায়, সে থাকতে বাধ্য নয়। নিজের স্বাধীনতা রক্ষা করতে গিয়ে অন্যের কাছে যে দাবি অস্বীকার করেছে, নিজের আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠলে সেই দাবির প্রয়োজন তারও হয়।
আর একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে অ্যাজ্যাক্সের নাম নিয়ে। সুলা জানতে পারে, যে নামে এতদিন তাকে চিনেছে, সেটি তার প্রকৃত নামের সংক্ষিপ্ত, পরিবর্তিত রূপ। মানুষটিকে সে ভালোবেসেছে, অথচ তার নামটিই ঠিক জানত না।
নামের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে মরিসনের অনুসন্ধান এখানে আবার ফিরে আসে।
ইভার বাড়িতে আশ্রিত তিনটি শিশু, যাদের প্রত্যেকের নাম তিনি রেখেছিলেন ডিউয়ি, এই প্রশ্নটি আগেই তুলেছিল। তিনটি শিশুর চেহারা, বর্ণগত পরিচয় এবং পারিবারিক পটভূমি আলাদা। অথচ একই নামের মধ্যে তারা ক্রমশ এক অভিন্ন দল হয়ে ওঠে। তাদের পৃথক পরিচয় সমাজের চোখে হারিয়ে যায়। শেষে নিজেদের মায়েরাও তাদের আলাদা করে চিনতে পারেন না।
নাম কি তবে মানুষের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে পারে? একজনকে একই নামে বারবার ডাকলে সে কি নিজের পৃথক অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে? আর একজনের নাম পরিবর্তন করলে তার ব্যক্তিত্বের কতখানি পরিবর্তন ঘটে?
সুলার নামের শেষাংশ পিস, অর্থাৎ শান্তি। কিন্তু পিস পরিবারের জীবন আগুন, মৃত্যু, পরিত্যাগ এবং হিংসায় পরিপূর্ণ। তাদের সমাধিফলকে পুনরাবৃত্ত পিস নামটি তাই অস্বস্তিকর। শান্তির নাম বহন করলেই কি শান্তি লাভ করা যায়?
সুলা মে নামটির সঙ্গেও শুলামিত কিংবা সালোমের সম্ভাব্য ধ্বনিগত যোগ খোঁজা হয়েছে। এই নামগুলোর সঙ্গে প্রেম, ধর্মীয় স্মৃতি, নারীর ইচ্ছা এবং সহিংসতার নানা আখ্যান জড়িত। কিন্তু কোনো একটিকে নিশ্চিত উৎপত্তি ধরে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ নেই। নামের ধ্বনি আমাদের ব্যাখ্যার সুযোগ দেয়, তার মধ্যে ব্যক্তির সমস্ত সত্য বন্দি থাকে না।
সুলার কপালের জন্মদাগটিও একইভাবে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। কেউ দেখে গোলাপ, কেউ সাপ, কেউ অন্য কোনো অশুভ আকৃতি। দাগটি একই থাকে। পরিবর্তিত হয় দর্শকের মন।
এখানে মরিসনের সমাজদর্শন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বটমের মানুষ সুলাকে অশুভ বলে মনে করতে শুরু করে। তার যৌনস্বাধীনতা, দিদিমাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো, সামাজিক বিধি অস্বীকার করা, সব মিলিয়ে সে হয়ে ওঠে সম্প্রদায়ের নৈতিক বিপদের প্রতীক। অথচ সুলাকে ঘৃণা করতে গিয়েই শহরের মানুষ নিজেদের মধ্যে নতুন সংহতি খুঁজে পায়। স্বামীরা স্ত্রীদের প্রতি মনোযোগী হয়, মায়েরা সন্তানদের যত্ন করতে শুরু করে, প্রতিবেশীরা পরস্পরের দুর্ভাগ্যে এগিয়ে আসে।
সুলা তাদের কাছে এমন একজন মানুষ, যার সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে তারা নিজেদের ভালো বলে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
কিন্তু এই ভালো হওয়ার ভিত্তি কী?
অন্য একজনকে মন্দ বলে চিহ্নিত করার মধ্যে যে আত্মতৃপ্তি আছে, তার কথা আমরা সাধারণত ভাবি না। সমাজে একজন অপরাধী, পাপিষ্ঠ অথবা চরিত্রহীন মানুষের পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হলে বাকিদের নৈতিক হিসাব অনেক সহজ হয়ে যায়। তার চেয়ে আমরা ভালো। অতএব নিজেদের আচরণের সূক্ষ্ম পরীক্ষার প্রয়োজনও কমে আসে।
সুলার মৃত্যুর পরে বটমের এই নৈতিক সংহতি দুর্বল হয়ে পড়ে। যে মানুষটিকে ঘৃণা করার মধ্যে সবাই এক হয়েছিল, সে আর নেই। অন্যের মন্দের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভালো রাখার ব্যবস্থাটিও ভেঙে যায়।
সুলার মৃত্যুতে শ্যাড্র্যাকের ভূমিকাও লক্ষ করার মতো। যে মানুষটি মৃত্যুভয়কে নিয়মের মধ্যে বেঁধে রাখতে চেয়েছিলেন, সুলার মৃত্যুর পরে তাঁর জাতীয় আত্মহত্যা দিবসের মিছিল এক অপ্রত্যাশিত পরিণতি লাভ করে। শহরবাসীরা দলে দলে তাঁর সঙ্গে যায় একটি সুড়ঙ্গের দিকে। সেই সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজে কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ক্ষোভ, উৎসব, প্রতিশোধ এবং উন্মত্ততা মিলে সুড়ঙ্গের কাঠামোতে আঘাত করা হয়। শেষে ধসে পড়ে সুড়ঙ্গ। বহু মানুষ মারা যায়।
এই মৃত্যুতে সামাজিক ইতিহাসের একটি নির্মম সত্য প্রকাশিত। যে নির্মাণকাজে কৃষ্ণাঙ্গদের শ্রমের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে, সেই নির্মাণই শেষ পর্যন্ত তাদের কবর হয়ে ওঠে। বর্ণবৈষম্য, অর্থনৈতিক বঞ্চনা এবং জমে থাকা ক্ষোভ একটি মুহূর্তে মিলে যায়। শ্যাড্র্যাক বেঁচে থাকেন। যে মানুষ মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলেন, তাঁর মিছিলেই ঘটে অনিয়ন্ত্রিত মৃত্যু।
এদিকে সুলা মারা গেছে। বহু বছর পরে নেল বৃদ্ধ ইভার সঙ্গে দেখা করতে যায়। সেখানে ইভা তাকে চিকেন লিটলের মৃত্যুর কথা জিজ্ঞাসা করেন। নেল সঙ্গে সঙ্গে দায় অস্বীকার করে। ছেলেটিকে জলে ফেলেছিল সুলা। সে নিজে কিছু করেনি।
ইভা প্রশ্ন করেন, দুজনের মধ্যে তফাত কোথায়? নেল তো সেখানে ছিল। দাঁড়িয়ে দেখেছিল।
এই প্রশ্ন নেলের বহু বছরের আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দেয়।
সে এতকাল নিজেকে সুলার তুলনায় ভালো মনে করেছে। বিবাহ করেছে, সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছে, অন্যের সংসার ভাঙেনি। অথচ চিকেন লিটলের মৃত্যুর স্মৃতিতে ফিরে গিয়ে তাকে নিজের এমন এক অনুভূতির মুখোমুখি হতে হয়, যা সে এতদিন স্বীকার করেনি। দুর্ঘটনার পরে তার মধ্যেও এক ধরনের অস্বস্তিকর তৃপ্তি ছিল। সেই অনুভূতিকে সে পরিণতবোধ, স্থিরতা কিংবা নির্দোষ দর্শকের প্রশান্তি বলে ভেবেছিল।
কিন্তু সে তো সেখানে ছিল।
দেখেছিল।
চুপ করেছিল।
সুলার অপরাধের সঙ্গে নিজের নীরবতার সম্পর্কটি এতকাল সে এড়িয়ে গেছে। এখন তার মনে হয়, অন্যকে বিচার করার অধিকার সে কত সহজে নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল। অথচ নিজের চরিত্রের অন্ধকার অংশটিকে পরীক্ষা করেনি।
এখানেই নেল আর সুলার বন্ধুত্বের গভীরতম তাৎপর্য।
একজন মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলে আমরা মনে করি, তাকে চিনি। তার স্বভাব, সীমাবদ্ধতা, ভালো-মন্দ সব জানা। কিন্তু মানুষকে চেনার এই দাবি অধিকাংশ সময়েই আমাদের নিজের প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িত। সে আমাদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেছে, আমাদের কোন প্রয়োজন পূরণ করেছে, আমাদের কোন বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখেছে, তার ভিত্তিতেই আমরা বিচার করি।
সুলার কাছে নেল ছিল সেই মানুষ, যার নাম সে সত্যিকার অর্থে জানত। আর নেলের কাছে সুলা ছিল এমন এক উপস্থিতি, যার মধ্যে সে নিজের অসম্পূর্ণ সত্তার পরিপূরক খুঁজে পেয়েছিল। একজনের স্বাধীনতা অন্যজনকে আকৃষ্ট করেছে, একজনের স্থিরতা অন্যজনকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু দুজনেই কি পরস্পরকে সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে গ্রহণ করতে পেরেছিল?
সুলা নেলের যন্ত্রণা বুঝতে পারেনি। নেল সুলার স্বাধীনতার ভিতরে থাকা একাকিত্ব, অসহায়তা এবং ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষাকে বুঝতে চায়নি। উভয়েরই বিচার অসম্পূর্ণ ছিল।
মৃত্যুর আগে সুলা নেলকে জিজ্ঞাসা করেছিল, সে কী করে জানে যে তাদের দুজনের মধ্যে নেলই ভালো?
প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া সহজ হলে উপন্যাসের এত আয়োজনের প্রয়োজন পড়ত না। আমরা তো জানি, সুলা অন্যায় করেছে। জুডের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেলের জীবনে গুরুতর আঘাত। দিদিমার প্রতি তার ব্যবহারও নিষ্ঠুর। কিন্তু নেল নিজের নিষ্ক্রিয়তা, নীরবতার মধ্যে লুকানো আনন্দ এবং অন্যকে বিচার করার প্রবণতা নিয়ে কতটা সচেতন ছিল?
মরিসন আমাদের এখানেই ফিরিয়ে আনেন। ভালো-মন্দের পরিচিত হিসাবের মধ্যে মানুষকে সম্পূর্ণ বিচার করা যায় কি না, সেই প্রশ্নে।
উপন্যাসের শেষদিকে নেল হঠাৎ উপলব্ধি করে, সে এতকাল জুডের জন্য যে শোক অনুভব করেছে বলে মনে করত, তার প্রকৃত কেন্দ্র সুলা। স্বামীকে হারানোর যন্ত্রণা পেরিয়ে আরও গভীরে ছিল বন্ধুকে হারানোর বেদনা। যে বন্ধুর সঙ্গে একদিন পৃথিবীকে আবিষ্কার করেছিল, নিজের পরিচয় খুঁজেছিল, অন্যের অনুমতির অপেক্ষা না করে আনন্দ করতে শিখেছিল, সেই মানুষটিকে সে আর কোনোদিন ফিরে পাবে না।
এই উপলব্ধি যখন হলো, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।
নেল কাঁদতে কাঁদতে সুলাকে ডাকে। তাদের একসঙ্গে মেয়ে হয়ে থাকার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। কত সামান্য সময়ের জন্য মানুষ একে অন্যের জীবনে আসে। অথচ সেই সময়টুকুই কখনো কখনো জীবনের বাকি সমস্ত সম্পর্কের চেয়ে বেশি স্থায়ী হয়ে থাকে।
উপন্যাসের শেষে এসে আমি আবার সুলা নামটির কথাই ভাবি। সুলা মে পিস। নামের মধ্যে শান্তির সম্ভাবনা, জীবনের মধ্যে অশান্তির ইতিহাস। সমাজ তাকে মন্দ বলেছে, তার বন্ধু নিজেকে ভালো ভেবেছে, আর মৃত্যুর পরে সেই বন্ধুই আবিষ্কার করেছে নিজের জীবনের এক বিরাট অংশ সুলার সঙ্গে চলে গেছে।
ভেবে দেখুন, আমরা যাদের ভালোবাসি, তাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা কতখানি তাদের প্রকৃত সত্তা থেকে তৈরি, আর কতখানি নিজেদের সুবিধা, নিরাপত্তা, সামাজিক শিক্ষা এবং নৈতিক অহংকার থেকে? একজন মানুষের কোনো আচরণে আহত হলে আমরা তাকে দোষী বলি। সে দোষ যথার্থও হতে পারে। কিন্তু সেই দোষের মধ্যেই কি তার সমস্ত মানুষটিকে শেষ করে দেওয়ার অধিকার জন্মায়?
সুলা আমাদের এই অস্বস্তির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
আর একটি প্রশ্ন থেকে যায়। নেল যদি সুলাকে তার মৃত্যুর আগে নতুন করে চিনতে পারত, নিজের মধ্যেও সেই একই অন্ধকারের কিছু অংশ দেখতে পেত, তাহলে কি তাদের বন্ধুত্ব বেঁচে থাকত?
সে কথা আর জানা গেল না।
সুলা মারা গেছে। নেল বেঁচে আছে। দুজনের মধ্যে যে দীর্ঘকালীন দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তার শেষ প্রান্তে এসে নেল আবিষ্কার করে, যে মানুষটিকে সে নিজের জীবন থেকে বাদ দিয়েছিল, তাকে বাদ দিলে নিজের পরিচয়েরও অনেকখানি অবশিষ্ট থাকে না।
তখন সুলা নামটি আর একজন মানুষের একক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তার সঙ্গে জড়িয়ে যায় নেলের সেই প্রথম উচ্চারণ, আমি আমি। জড়িয়ে যায় তাদের দুজনের মেয়েবেলা, অপরাধ, গোপন আনন্দ, ঈর্ষা, ভালোবাসা এবং হারানোর অভিজ্ঞতা।
আমরা অন্য মানুষকে বিচার করতে করতে নিজেরাই যে কতখানি অজ্ঞাত থেকে যাই, সুলা সেই সত্যটি প্রকাশ করে।
আর শেষ পর্যন্ত মনে হয়, মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেদনাদায়ক আবিষ্কার হয়তো এই যে, যাকে সমস্ত জীবন ভুল মানুষ বলে দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম, তাকে সম্পূর্ণ বুঝতে হলে নিজের সম্পর্কেও এমন কিছু সত্য স্বীকার করতে হবে, যা এতকাল জানার সাহস আমাদের ছিল না।
সুলা চলে গেছে।
এখন নেল কাকে দোষ দেবে?
আর কাকেই বা ফিরে পাবে?
—-
টনি মরিসনের এই উপন্যাস সুলা কে অনুবাদ করেছেন নাহার তৃণা। প্রকাশিত হয়েছে কবি প্রকাশনী থেকে।





