I wish good essays could pay rent on their own. Until they learn how, paid subscriptions keep this publication alive.
ঠাকুরমার ঝুলির রাজকন্যা মরে না, ঘুমোয়। শিয়রে সোনার কাঠি, পায়ের কাছে রুপোর কাঠি, অদলবদল করে দিলেই চোখ মেলে হাই তোলে, যেন পাক্কা একশো বছর দুপুরঘুম দিয়েছে। ডায়ানার শিয়রে কোনও কাঠি ছিল না। ছিল ফ্ল্যাশবাল্বের ঝাঁক, মোটরবাইকে ধাওয়া করা লেন্স, আর প্যারিসের একটা সুড়ঙ্গ, ১৯৯৭-এর অগস্টের শেষ রাতে। তার পর থেকে গোটা দুনিয়া সেই রাজকন্যাকে জাগিয়ে তোলার কাজে নাওয়াখাওয়া ভুলেছে। তথ্যচিত্র, বায়োপিক, ধারাবাহিক, বর্ষপূর্তির ক্রোড়পত্র, স্মারক থালা, চায়ের কাপে মুখ, চাবির রিঙে হাসি। জাগানো যায়নি, তবে ঘুমন্ত মুখটা বেচে দিব্যি সংসার চলেছে অনেকের। প্রায় তিন দশক গড়িয়ে গেল। এ বার সোনার কাঠি হাতে শিয়রে এসে দাঁড়ালেন তাঁর ভাই, চার্লস স্পেনসার। বইয়ের নাম ‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’। পেঙ্গুইন প্রেস ছেপেছে, ৩৮৪ পাতা, দাম ৩৫ ডলার। হিসেব কষলে উনত্রিশ বছরের শোক, মোটামুটি বছরপিছু তেরো পাতা। কম না বেশি, সে বিচার শোকের পাল্লায় হয় না, হয় প্রকাশকের খাতায়।
‘সোয়ান সং’ কথাটার পেছনে একটা দীর্ঘ কিংবদন্তি ঘাপটি মেরে বসে আছে। রাজহাঁস নাকি সারা জীবন প্রায় বোবা, কিন্তু মরার ঠিক আগে একটিবার গলা খুলে এমন গান গায় যে শ্রোতার বুক ফালাফালা। প্লেটোর ‘ফিডো’-তে সক্রেটিস, হেমলকের পেয়ালা হাতে নেওয়ার আগে, এই মিথটাকে উল্টে ধরেছিলেন। বলেছিলেন, মানুষ নিজের মৃত্যুভয়টা হাঁসের ঘাড়ে চাপিয়ে ভাবে বেচারা দুঃখে কাঁদছে, অথচ হাঁস গায় আনন্দে, কারণ সে তার দেবতার কাছে ফিরে যাচ্ছে। দার্শনিকরা মরার আগেও তর্ক থামান না, সেটাই তাঁদের সোয়ান সং।
কিন্তু এই বইয়ে একটা গোলমেলে প্যাঁচ আছে। হাঁস তো উনত্রিশ বছর আগেই উড়ে গেছে। গানটা গাইছেন ভাই। তা হলে এ কার শেষ গান? যে চলে গেছে তার, না যে রয়ে গেছে তার? বইটাকে বলা হচ্ছে বোনের প্রতি এক শেষ অর্ঘ্য, ভাইয়ের তরফে শেষ কথা। মানে গায়ক ঘোষণা করেই মঞ্চে উঠেছেন, এই শেষ, আর গাইব না। বাঙালি জানে, ‘শেষ বারের মতো’ বলে যাঁরা মঞ্চে ওঠেন, তাঁদের অন্তত তিনটে ফেয়ারওয়েল কনসার্ট হয়। তবে স্পেনসারকে সে খোঁটা দেওয়ার আগে মনে রাখতে হবে, এ গানের সুর তিনি বাঁধছেন সেই নার্সারি থেকে, যেখানে দুই ভাইবোন একসঙ্গে বড় হয়েছিলেন, আর বাকি দুনিয়া তখনও ডায়ানার নামটুকুও জানত না।
চাইকোভস্কির ‘সোয়ান লেক’-এর কথাও এখানে আপসে মনে পড়ে যায়। রাজকুমারী ওডেট অভিশাপে হাঁস হয়ে গেছে, মুক্তি পাবে একমাত্র সত্যি ভালবাসার শপথে। রাজপুত্র শপথ করেন ঠিকই, কিন্তু ভুল মেয়েকে, কালো পালকের ওডিলকে দেখে ভুলে। ডায়ানা নিজেই এক বার টিভির সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁর বিয়েতে তিন জন মানুষ ছিলেন, একটু ভিড় হয়ে গিয়েছিল। ব্যালের মঞ্চ আর বাকিংহামের বারান্দা, দুটোতেই আলো বেশি, আর দুটোতেই শেষ দৃশ্যে জলে ঝাঁপ।
বাঙালি বোন ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেয়, ছড়া কাটে, ‘যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা’। অর্থাৎ ভাইয়ের আয়ু বাড়ুক, যম দরজায় কাঁটা বিঁধে খোঁড়া হয়ে বসে থাকুক। এখানে পুরো অনুষ্ঠানটা উল্টো। বোন নিজেই চলে গেছে যমের দুয়ারে, আর কাঁটাটা বিঁধে আছে ভাইয়ের বুকে। তাই এ বার ফোঁটা দিচ্ছেন ভাই, চন্দনের বদলে ছাপার অক্ষর দিয়ে, মৃত বোনের কপালে। আর আশীর্বাদের জায়গায় একটা অদ্ভুত প্রার্থনা: লোকে যেন তোমাকে ঠিকঠাক মনে রাখে।
বইটা ফিরে গেছে সেই শৈশবে। দুই ভাইবোনের ঘনিষ্ঠতা, একটা ভাঙাচোরা পরিবার, যেখানে ছোট বয়সেই মা সংসার ছেড়ে চলে গেছেন, আর বাচ্চাদের বড় হতে হয়েছে বড় বাড়ির লম্বা করিডরে, প্রতিধ্বনির সঙ্গে খেলে। স্পেনসারের মতে ওই গোড়ার ক্ষতি ডায়ানাকে গড়ে দিয়েছিল ভেতর থেকে। কথাটা শুনতে যত সরল, আসলে তত প্যাঁচালো। যে শিশু খুব কম বয়সে টের পায় যে বড়রাও কথা রাখে না, সে দুটো রাস্তার একটা ধরে। হয় সে নিজেকে গুটিয়ে ফেলে শামুকের খোলে, নয়তো সে বাকিদের আগলানোর দায় কাঁধে তুলে নেয়, যাতে তার মতো আর কারও বুকে ঠান্ডা হাওয়া না ঢোকে। স্পেনসারের ডায়ানা দ্বিতীয় রাস্তার পথিক।
জনগণ যে ডায়ানাকে চেনে, সে মাথা একটু নিচু করে, চোখ তুলে তাকায়, গালে গোলাপি আভা, ট্যাবলয়েড যার আদুরে নাম দিয়েছিল ‘শাই ডাই’। এই ছবিটা এত বার ছাপা হয়েছে যে ওটাই আসল মানুষ হয়ে গেছে, আর আসল মানুষটা হয়ে গেছে তার পাদটীকা। আমরা মহান লোকদের মূর্তি বানাতে ভালবাসি, কারণ মূর্তি হাসে না, চিমটি কাটে না, বেয়াড়া রসিকতা করে না। রবীন্দ্রনাথকে আমরা দাড়ি আর জোব্বায় আটকে রেখেছি, তাঁর হাসির গান আর ‘চিরকুমার সভা’-র ঠাট্টা চেপে গেছি, পাছে ঋষির ভাবমূর্তিতে টোল পড়ে। ডায়ানার বেলাতেও তাই। ভিড় তাঁকে বানিয়েছে করুণ, নরম, একটু বিপন্ন এক পুতুল, যাকে দেখলে বুকের ভেতর মায়া উথলে ওঠে এবং পরের দিনের কাগজটা কিনে ফেলতে ইচ্ছে করে।
স্পেনসার সেই পুতুলের চাবি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন, ভেতরে অন্য যন্ত্র। তাঁর ডায়ানা নির্ভীক, ডাকাবুকো, হাসিয়ে পেট ব্যথা করিয়ে দেওয়া মেয়ে, আর যাদের ভালবাসে তাদের জন্য ঢাল তুলে দাঁড়াতে এক সেকেন্ডও ভাবে না। সুকুমার রায় হলে বলতেন, ‘হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না), হয়ে গেল হাঁসজারু কেমনে তা জানি না।’ বাইরে রাজহাঁসের মসৃণ পালক, ভেতরে সজারুর কাঁটা। রাজপরিবার পেয়েছিল হাঁস, খুশিও হয়েছিল, তারপর যখন কাঁটায় আঙুল ছড়ে গেল, তখন আবিষ্কার করল প্রাণীটা ক্যাটালগের সঙ্গে মিলছে না। মুশকিল হল, জনতা আজও শুধু পালকটাই দেখতে চায়, কারণ কাঁটাওলা নায়িকার জন্য চোখের জল ফেলা ঢের বেশি খাটুনির কাজ।
যে রাতে ডায়ানা মারা গেলেন, তার পরের সকালে ব্রিটেনের তখনকার প্রধানমন্ত্রী টোনি ব্লেয়ার তাঁকে বললেন ‘পিপল’স প্রিন্সেস’, জনগণের রাজকন্যা। কথাটা শুনতে মধুর, কিন্তু ষষ্ঠী বিভক্তির একটা বদঅভ্যেস আছে। ‘জনগণের’ বললেই জিনিসটা জনগণের হয়ে যায়, আর জনগণ তার নিজের জিনিস নিয়ে যা খুশি করে। তার জন্য কেনসিংটন প্যালেসের সামনে ফুলের সমুদ্র বানায়, আবার তার শেষ মুহূর্তের ঝাপসা ছবি ছাপা কাগজও লাইন দিয়ে কেনে। ভালবাসা আর মালিকানার মধ্যে পাঁচিলটা খুব নিচু, এক লাফে টপকানো যায়।
স্পেনসার এই মালিকানাকে সোজা আঙুল তুলে দেখিয়েছেন। বইয়ের সবচেয়ে ধারালো পাতাগুলো বরাদ্দ সংবাদমাধ্যমের জন্য, রাজপরিবারের সাবেক পারিষদদের জন্য, আর আরও কিছু লোকের জন্য, যাদের তিনি দায়ী করেন ডায়ানাকে ছোট করার, বা তাঁকে ভাঙিয়ে খাওয়ার জন্য। এ রাগ নতুন নয়। ১৯৯৭-এ ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে বোনের শেষকৃত্যে দাঁড়িয়েও তিনি প্রেসকে তুলোধোনা করেছিলেন, রাজপরিবারের দিকেও ইঙ্গিতের তির ছুড়েছিলেন, আর বাইরে দাঁড়ানো ভিড়ের হাততালি গড়িয়ে গড়িয়ে ঢুকে পড়েছিল গির্জার ভেতরে, যেখানে সাধারণত কেউ হাততালি দেয় না। তার পর উনত্রিশ বছর কেটেছে, ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী বদলেছে বহু বার, রাজমুকুট পর্যন্ত মাথা বদলেছে, কিন্তু এই রাগের উনুনে আঁচ কমেনি একচুলও।
শোক আর রাগের স্বভাব আলাদা। শোক জলের মতো। সে গড়িয়ে যায়, ছড়িয়ে পড়ে, মাটি ভিজিয়ে একসময় পাতলা হয়ে আসে। লোকে বলে সময় সব সারিয়ে দেয়, আসলে সময় শোককে জলে গুলে দেয়, যাতে গলায় আটকে না যায়। রাগ বরফের মতো। সে জমে থাকে, আকার বদলায় না, উনত্রিশ বছর পরে ফ্রিজ খুললেও ঠিক সেই কোণওলা টুকরোটাই পাওয়া যায়। স্পেনসারের বইয়ে এই দুটো একসঙ্গে আছে, এক পাতায় কোমল স্মৃতি, পরের পাতায় দাঁতচাপা নালিশ। পাঠক হিসেবে আমাদের অস্বস্তি হতে পারে, কারণ আমরা শিখেছি মৃতের কথা বলতে হয় ধূপের গন্ধে, নরম গলায়। বাঙালির শ্রাদ্ধবাসরে সবাই মৃতকে দেবতা বানায়, বেঁচে থাকতে যে লোকটাকে মেজোমামা দু’চোখে দেখতে পারতেন না, সেই মেজোমামাই কাঁদতে কাঁদতে বলেন, অমন মানুষ হয় না। স্পেনসার শ্রাদ্ধবাসরে দাঁড়িয়ে জ্যান্তদের নামে নালিশ ঠুকছেন। এটা অশালীন, না সৎ?
হয়তো দুটোই। মানুষ তো একটা চাকতি, যার এক পিঠে ভালবাসা, অন্য পিঠে সেই ভালবাসাকে যারা চোট দিয়েছে তাদের প্রতি ঘেন্না। শুধু একটা পিঠ দেখালে ছবিটা পরিপাটি হয়, কিন্তু চাকতিটা আর গড়ায় না। যে ভাই বোনের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কোনও রাগ অনুভব করে না, তাকে আমরা হয় সাধু বলব, নয় উদাসীন। স্পেনসার দুটোর কোনওটা হতে চাননি। তিনি ঠিক করেছেন, তাঁর শোকের থালায় রাগের লঙ্কাটা থাকবে, যার ঝাল লাগার লাগুক।
কুরোসাওয়ার ‘রাশোমন’-এ একটা খুনের ঘটনা চার জন চার রকম বলে, আর প্রত্যেকের গল্পে সে নিজে একটু বেশি সাহসী, একটু বেশি নির্দোষ। ডায়ানারও অন্তত ছ’টা সংস্করণ বাজারে চালু। রাজপ্রাসাদের ডায়ানা, যে প্রোটোকল বোঝে না এবং নাটক করে। ট্যাবলয়েডের ডায়ানা, যার প্রতিটা ছুটি এক একটা ক্রোড়পত্র। জনতার ডায়ানা, হাসপাতালে এডস রোগীর হাত ধরে বসে থাকা করুণাময়ী। টেলিভিশন ধারাবাহিকের ডায়ানা, যার সংলাপ লেখেন চিত্রনাট্যকার আর যার চোখের জল নেন অভিনেত্রী। এবং এখন, ভাইয়ের ডায়ানা।
প্রশ্ন হল, এর মধ্যে সত্যি কোনটা? ভাইয়ের দাবি সবচেয়ে জোরালো, কারণ তিনি ছিলেন শৈশবের সেই ঘরে, যেখানে ক্যামেরা ঢোকেনি। কিন্তু ভাই নিরপেক্ষ সাক্ষী হতে পারেন না, তাঁর নিজের ক্ষত আছে, নিজের পুরনো হিসেব আছে, নিজের পরিবারের ভাঙনের দায় কার ঘাড়ে কতটা, সে নিয়ে নিজের মত আছে। ডায়ানাকে কবর দেওয়া হয়েছে স্পেনসার পরিবারের বাড়ি অলথর্পে, একটা হ্রদের মাঝখানে ছোট্ট দ্বীপে, যাতে কেউ চট করে কাছে যেতে না পারে। বইটাও যেন সেই দ্বীপ। ভাই চারপাশে জল কেটে রেখেছেন, পাড়ে দাঁড়িয়ে দুনিয়াকে বলছেন, এই আমার বোন, দূর থেকে দেখো, ছুঁয়ো না, আর যারা আগে ছুঁয়ে ময়লা করেছে, তাদের নাম এই রইল।
এখানে একটা বেয়াড়া প্রশ্ন কুটকুট করে। যে প্রেস ডায়ানাকে ভাঙিয়ে খেয়েছে বলে ভাই রাগে ফুঁসছেন, তারাও তো ডায়ানাকে বেচত কাগজের দামে। আর এই বইও বিকোচ্ছে ৩৫ ডলারে। শোক বিক্রি হলে তাকে বলি বাণিজ্য, স্মৃতি বিক্রি হলে বলি সাহিত্য। তফাতটা কোথায়? তফাত সম্ভবত কলমটা কার হাতে, আর সেই হাত কোন দিন বোনের হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে নেমেছিল কি না। লেন্সওলা লোকটা ডায়ানার মুখ দেখেছিল জুম করে, ভাই দেখেছিলেন খালি চোখে, হামাগুড়ির বয়স থেকে। একজন ছবি তোলে, অন্যজন ছবিটা মনে রাখে। দুটোই বিক্রি হয়, তবে দ্বিতীয়টার দামের মধ্যে একটা ব্যক্তিগত রক্তক্ষরণ ঢুকে থাকে, যেটা ক্রেতা টের পান না, বিক্রেতা পান।
বইটাকে যতই শেষ অর্ঘ্য বলা হোক, একটা ব্যাপার পরিষ্কার: ডায়ানার জীবন আজও শেষ হয়নি। আবেগের দিক থেকে না, সংস্কৃতির দিক থেকেও না। তাঁর ছেলেরা বড় হয়ে গেছেন, নিজেদের সংসার, নিজেদের ঝগড়া, নিজেদের বই। প্রতি বছর অগস্ট এলে কাগজ ফের সেই সুড়ঙ্গে ঢোকে, ফের সেই গাড়ির দুমড়ে যাওয়া ছবি, ফের সেই প্রশ্ন, যদি সে রাতে সিটবেল্ট থাকত। একটা মানুষ মরে গেলে তার জীবন থেমে যায়, কিন্তু তার গল্পটা বাকিদের মুখে মুখে চলতে থাকে, আর প্রত্যেক মুখ গল্পে নিজের নুন মেশায়। যে মেয়েকে জীবদ্দশায় কেউ শান্তিতে এক কাপ চা খেতে দেয়নি, মৃত্যুর পরেও তার পাতে সবাই নিজের তরকারি তুলে দিচ্ছে।
স্পেনসার তাঁর ৩৮৪ পাতা দিয়ে একটা দাঁড়ি টানতে চেয়েছেন। বলতে চেয়েছেন, এই হল আমার বোন, ভিড়ের চেয়ে একটু বেশি হাসিখুশি, একটু বেশি সাহসী, আর যারা তাকে ঠকিয়েছে তারা এখনও ক্ষমা পায়নি। কিন্তু সক্রেটিসের হাঁস গেয়েছিল নিজের মৃত্যুর আগে, নিজের গলায়। ডায়ানার গান গাইছে গোটা পৃথিবী, উনত্রিশ বছর ধরে, অন্য লোকের গলায়, প্রত্যেকে আলাদা সুরে, প্রত্যেকে দাবি করছে তারটাই আসল স্বরলিপি। ভাই এসে বললেন, এই আমার শেষ অন্তরা। তা হলে প্রশ্নটা থেকেই যায়: যে হাঁসের গান অন্যেরা গেয়ে চলেছে, সেই গান আদৌ কোন দিন শেষ হবে, না কি শেষ গানটা গাওয়ার অধিকার শুধু সেই হাঁসেরই ছিল, যে আর গাইতে ফিরবে না?




