I wish good essays could pay rent on their own. Until they learn how, paid subscriptions keep this publication alive.
শুদ্ধ করার ক্ষমতা যাঁর হাতে, তাঁর মুখের দিকে একটু তাকানো দরকার। তিনি আপনার বানান ঠিক করে দিতে পারেন। আবার বানানের সঙ্গে আপনাকেও ঠিক করে দিতে পারেন। তখন নিজের নামটা পর্যন্ত চিনতে অসুবিধা হবে। হ্যারি থ্রিফটের সেই দশা হয়েছিল। জেমস জয়েসের ইউলিসিস উপন্যাসে লোকটি সাইকেল চালাচ্ছিলেন নিজের নামেই। সংশোধিত সংস্করণে দেখা গেল, তাঁর জায়গায় প্যাডেল মারছেন অন্য একজন। সম্পাদকের কলমে থ্রিফট হয়ে গেছেন শ্রিফট। লোক বদলাতে কখনো কখনো একটি অক্ষরই যথেষ্ট।
ঘটনাটি জন কিডের ‘দ্য স্ক্যান্ডাল অব ইউলিসিস’ প্রবন্ধে পাওয়া যাবে। লেখাটির তারিখ ৩০ জুন ১৯৮৮। তাঁর নিশানা হান্স ভাল্টার গ্যাবলারের নেতৃত্বে প্রস্তুত করা ইউলিসিসের পাঠ। ১৯৮৪ সালে গবেষণামূলক সংস্করণ, তারপর ১৯৮৬ সালে সাধারণ পাঠকের জন্য ‘দ্য কারেক্টেড টেক্সট’। দাবি ছিল, উপন্যাসটির পাঁচ হাজার ভুল সংশোধন করা হয়েছে। কিড প্রশ্ন তুললেন, ভুল সারাতে গিয়ে কত জায়গায় জয়েসের লেখাই বদলে ফেলা হলো? এই পুরোনো বিতর্কের ভেতরে সম্পাদনার ক্ষমতা নিয়ে বেশ তাজা একটা প্রশ্ন রয়ে গেছে।
পাঁচ হাজার ভুল সংশোধন। সংখ্যার একটা নিজস্ব গাম্ভীর্য আছে। সে ঢুকলেই সন্দেহগুলো চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন জিনিসকে ভুল বলা হচ্ছে? ছাপাখানায় একটি অক্ষর উল্টে যাওয়া, লেখকের শেষ মুহূর্তে শব্দ পাল্টানো, চরিত্রের মুখে ইচ্ছে করে ভুল কথা বসানো, আর সম্পাদকের অপছন্দের বিরামচিহ্ন একই ঝুড়িতে ফেললে সংখ্যা বাড়বে। নির্ভরযোগ্যতা বাড়ার নিশ্চয়তা নেই। কতগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে, সেই হিসাবের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবর্তনের যুক্তিও দরকার।
ইউলিসিসের মতো বইয়ে এই প্রশ্ন আরও জরুরি। সেখানে বাস্তব শহর, মানুষের নাম, স্মৃতি, কথার খেই হারানো, ভাষার খেলা পরস্পরের গায়ে লেগে থাকে। যে শব্দটিকে দূর থেকে আগাছা মনে হচ্ছে, সেটি কাছ থেকে দেখলে গল্পের শিকড় হতে পারে। পরিষ্কার করার লোকটি শিকড় আর আগাছা আলাদা করতে না পারলে বাগান খুব পরিচ্ছন্ন হবে। গাছগুলো থাকবে কি না, বলা শক্ত। সাহিত্যের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহের এই হলো বিপদ।
থ্রিফটের কথাই ধরা যাক। কিড জানান, হ্যারি থ্রিফট বাস্তব মানুষ; ১৯০৪ সালের ১৬ জুন ট্রিনিটির ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তাঁর অংশ নেওয়ার নথিও আছে। উপন্যাসের পুরোনো পাঠে নামটি ছিল ঠিক। নতুন পাঠে সেটিই পাল্টে গেল। এখানে ভুলের ক্ষতি বুঝতে সাহিত্যতত্ত্বের ডিগ্রি লাগে না। একটা নামের সঙ্গে যে মানুষটির যোগ ছিল, তা কেটে গেছে। শ্রিফট বানান দেখে পাঠক জানবেন কী করে, তাঁকে আসলে কাকে খুঁজতে হবে?
ক্যাপ্টেন বুলারের ঘটনাটিও কিডের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সংস্করণে তিনি হয়েছেন ক্যাপ্টেন কালার। কিডের বক্তব্য, মূল প্রুফে জয়েসের লেখা বুলার স্পষ্ট, কিন্তু প্রতিলিপিতে কাছাকাছি থাকা ছাপাখানার পেনসিলের দাগ বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। তিনি পুরোনো ডাবলিনের নামের তালিকাও মিলিয়েছেন। বুলারের ঠিকানার সঙ্গে বায়রন নাম জড়িয়ে আছে; সেখান থেকে উপন্যাসের সাহিত্যিক ইঙ্গিত নিয়ে কিড নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেই ব্যাখ্যা নিয়ে তর্ক চলতে পারে। নামটি পড়ার সময় মূল নথি মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন অবশ্য তাতে কমে না।
এই দুটো স্তর আলাদা রাখা জরুরি। হাতে লেখা অক্ষর কোনটি, তা যাচাই করার এক ধরনের প্রমাণ আছে। সেই অক্ষর দিয়ে তৈরি নামের আড়ালে লেখক কী ইশারা রেখেছেন, সেখানে ব্যাখ্যার জায়গা অনেক বড়। দুটোকেই একই আত্মবিশ্বাসে ঘোষণা করলে গবেষণা আর বক্তৃতার পার্থক্য ঘুচে যায়। কিডের লেখার শক্তিশালী উদাহরণগুলো গ্রহণ করতে গিয়েও তাঁর সব সাহিত্যিক অনুমানে সই করে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। পাঠকের নিজের কলমটাও সচল থাকা ভালো।
প্রতিলিপি নিয়ে কিডের অভিযোগ বেশ নির্দিষ্ট। বেশি বৈপরীত্যে তোলা ছবিতে জয়েসের কালি আর ছাপাখানার পেনসিল কাছাকাছি চেহারা পেয়েছে। রঙিন পেনসিলের রং হারিয়েছে। কোথাও মুছে দেওয়ার চিহ্ন বোঝা যায়নি, কোথাও চিহ্ন আছে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পাদকেরা এই সীমাবদ্ধতা যথেষ্ট যাচাই করেননি। ছবি কাজ সহজ করে, দূরের নথি কাছে এনে দেয়। কিন্তু ছবিতে যে তথ্য নেই, সেটি ছবির দিকে আরও গম্ভীর হয়ে তাকালেই পাওয়া যাবে না।
এখানে প্রযুক্তিকে গাল দিয়ে লাভ নেই। দোষটা যন্ত্রের ওপর চাপালে মানুষটি বেশ আরামে বেঁচে যান। একটি সাদাকালো প্রতিলিপি রঙের পার্থক্য দেখাবে না, এ তো তার স্বাভাবিক সীমা। সমস্যার শুরু তখন, যখন সেই সীমা ভুলে যাওয়া হয় এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর পূর্ণ নিশ্চয়তার সিল মারা হয়। গবেষণার যন্ত্র যত শক্তিশালী হোক, তার ব্যবহারকারীর সন্দেহ করার ক্ষমতাটা চালু রাখতে হবে। সুইচ বন্ধ করে দিলে খুব উন্নত যন্ত্র দিয়েও খুব সাধারণ ভুল করা সম্ভব।
আরও সূক্ষ্ম সমস্যা আছে লেখকের কোন সময়ের সিদ্ধান্তকে মানা হবে, তা নিয়ে। কিড দেখান, উপন্যাসের প্রথম পাতাতেই কয়েকটি শব্দ বদলে পুরোনো পাণ্ডুলিপির পাঠ গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ পরের সংশোধিত টাইপকপিটি হারিয়ে গেছে। জয়েস সেখানে নিজেই শব্দ পাল্টেছিলেন কি না, নিশ্চিত জানা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় আগের শব্দ ফিরিয়ে দেওয়া একটি সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত। তাকে অবিসংবাদিত উদ্ধার বলে চালাতে গেলে অনুপস্থিত কাগজটিকেও সাক্ষী বানাতে হয়। বেচারা কাগজ হারিয়েছে, সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ পায়নি।
আগে লেখা শব্দ সব সময় বেশি খাঁটি হবে কেন? একজন লেখক প্রথমে একটা বাক্য লেখেন, পরে বিরক্ত হয়ে অর্ধেক কেটে দেন। আবার কোনো দিন কাটা অংশ ফিরিয়েও নেন। তাঁর এই দ্বিধা, নির্বাচন, পরিবর্তন মিলিয়েই লেখার ইতিহাস। কেবল তাঁর হাতের লেখা বলেই সব পর্যায়ের সব শব্দ একত্র করলে এমন এক পাঠ তৈরি হতে পারে, যা তিনি কোনো পর্যায়েই অনুমোদন করেননি। রান্নার খসড়া আর পাতে দেওয়া খাবারের পার্থক্য এখানে মনে রাখা দরকার। দুটোর উপাদান এক হলেও পরিমাণ এক হয় না।
কিডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় উদাহরণগুলোর একটি অবশ্য ভুলের জন্মপরিচয় নিয়ে। তাঁর বর্ণনায়, একটি জায়গায় টাইপ করতে গিয়ে ‘insatiable’, অর্থাৎ অতৃপ্ত, বদলে ‘indubitable’, অর্থাৎ সন্দেহাতীত, হয়েছিল। পরে জয়েস তার কাছেই ‘unquestionably’, অর্থাৎ নিঃসন্দেহে, বসান। ‘নিঃসন্দেহে’ আর ‘সন্দেহাতীত’ পাশাপাশি থেকে একই নিশ্চয়তার কথা দুবার বলে; তৈরি হয় হাস্যকর পুনরুক্তি। কিডের যুক্তি, টাইপের ভুলটি জয়েস নিজের সংশোধনের মধ্যে কাজে লাগিয়েছিলেন। নতুন সংস্করণ আগের শব্দ ফিরিয়ে দিয়ে সেই সম্পর্কটাই নষ্ট করেছে। ভুলটি কোথায় জন্মেছিল, তার চেয়ে লেখক পরে তাকে কী কাজে লাগিয়েছেন, সেটিও দেখতে হয়।
সৃষ্টিশীল কাজের এই ব্যাপারটা শুদ্ধতার দপ্তরে বোঝানো মুশকিল। সেখানে ভুলের জন্মনিবন্ধন দেখা হয়; পরবর্তী নাগরিকত্ব বিবেচনায় নাও পড়তে পারে। অথচ কোনো দুর্ঘটনা থেকে পাওয়া শব্দ লেখক গ্রহণ করলে তার ভূমিকা বদলে যায়। প্রত্যেক দুর্ঘটনাকেই মহৎ শিল্প বলে বাহবা দেওয়ার দরকার নেই। গ্রহণ করার প্রমাণটি দেখতে হবে। সম্পাদক যদি শুধু উৎপত্তির দোষ ধরে বসেন, লেখকের পরের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করার ঝুঁকি তৈরি হয়। লেখককেও নিজের বাক্য বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
তিনটে বিন্দুও এই ঝগড়ায় বাদ পড়েনি। কিডের হিসাবে, ‘ইউমেয়াস’ পর্বের তিরিশটি অসমাপ্তির চিহ্নের সাতাশটি নতুন পাঠে সরানো হয়েছিল, যদিও তাঁর দাবি অনুযায়ী সেগুলো জয়েসেরই সংযোজন। ক্লান্ত মানুষের কথা মাঝপথে থামে, ভাবনা একটু গিয়ে বসে পড়ে, বাক্য শেষ করার উৎসাহ থাকে না। ভাষার সেই হাঁপিয়ে যাওয়াকে লেখক বিরামচিহ্নে ধরতে পারেন। সম্পাদকের কাছে বিন্দুগুলো বাড়তি লাগলেই চরিত্রের ক্লান্তি দূর করার অধিকার তৈরি হয় না। মানুষটির রাত হয়েছে; তাঁকে দিয়ে সকালের ব্যাকরণ পরীক্ষা দেওয়ানো কেন?
তবে এখান থেকে লেখকের প্রতিটি দাগ পবিত্র বলে ঘোষণা করাও সহজ ফাঁকি। লেখক ভুল করেন। ছাপাখানায় ভুল হয়। এক সংস্করণে সারানো ভুল অন্য সংস্করণে নতুন গোলমাল তৈরি করতে পারে। কিডও জয়েসের জীবদ্দশার পাঠকে সম্পূর্ণ নির্ভুল বলেননি। অতএব সম্পাদনা দরকার। কঠিন কাজটি হলো, কোথায় নিশ্চিত ভুল, কোথায় যুক্তিসংগত অনুমান, আর কোথায় একাধিক গ্রহণযোগ্য পাঠ আছে, তা স্পষ্ট করে বলা। এই পার্থক্য লুকিয়ে সব পরিবর্তনের গায়ে একই শুদ্ধতার লেবেল লাগালে পাঠক ঠকবেন।
এমন কাজে টীকা খুব দরকারি। কোন নথিতে কী ছিল, কেন একটি পাঠ নেওয়া হলো, অন্যটি বাদ গেল কেন, সংশয় থাকলে তার পরিমাণ কতটুকু, এসব জানালে পাঠক সিদ্ধান্তটি পরীক্ষা করতে পারেন। সব পাঠক সব টীকা পড়বেন না। তাই বলে টীকার দরকার ফুরায় না। বাড়ির সবাই হিসাবের খাতা খোলেন না বলেই খাতা তুলে দেওয়া চলে না। যাচাই করার সুযোগ থাকা আর সারাক্ষণ যাচাই করা আলাদা ব্যাপার। সেই সুযোগটুকু রাখাই জবাবদিহির শুরু।
এই জবাবদিহির প্রশ্ন বইয়ের ভেতরেই আটকে নেই। কিড দেখিয়েছেন, নতুন সংস্করণের প্রশংসা করতে এগিয়ে আসা কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে প্রকল্পটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রিচার্ড এলম্যান পরামর্শক ছিলেন। মাইকেল গ্রোডেনও কাজটির সহযোগী ছিলেন। তাঁরা তাই বই সম্পর্কে অনেক কিছু জানতেন, এতে সন্দেহ নেই। সেই ঘনিষ্ঠতার কথাটাও পাঠকের জানা দরকার। নিজের তৈরি বাড়ির সৌন্দর্য নিয়ে বাড়ির নকশাকার লিখতে পারেন। পাঠক শুধু যেন তাঁকে পথ চলতে চলতে মুগ্ধ হয়ে থামা অপরিচিত লোক না ভাবেন।
স্বার্থের সম্পর্ক থাকলেই প্রতিটি প্রশংসা মিথ্যা হয়ে যায় না। আবার পণ্ডিতের খ্যাতি থাকলেই সম্পর্কটি অপ্রাসঙ্গিক হয় না। দুটো কথা একসঙ্গে মানতে পারলেই বিচার একটু পরিষ্কার হয়। নইলে আমরা পরিচিত দুই শিবিরে গিয়ে বসি। একদিকে সবাই ষড়যন্ত্রী, অন্যদিকে বড় নামের ভুল ধরা বেয়াদবি। মাঝখানের দরকারি কাজটি হলো বক্তব্যের পাশে প্রমাণ রাখা, ভূমিকা প্রকাশ করা, স্বাধীন যাচাইয়ের জায়গা ছাড়া। এতে কারও পাণ্ডিত্য কমে না; পাঠকের ভরসা রাখার কারণ বাড়ে।
এলম্যানের একটি পরিবর্তিত মত কিড বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। জয়েসের পাঠে ভালোবাসা সম্পর্কিত একটি অংশ ফিরিয়ে দেওয়াকে এলম্যান প্রথমে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পরে সেটি চূড়ান্ত পাঠে থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে আপত্তি জানান। কিড তাঁর এই মতবদলের সাহসের প্রশংসা করেছেন। এখানে সতর্কতা দরকার: একটি সংযোজন নিয়ে আপত্তিকে গোটা সংস্করণ সম্পর্কে সব সমর্থন প্রত্যাহার বলে বাড়িয়ে বলা ঠিক হবে না। তবু ঘটনাটি মূল্যবান। নতুন যুক্তি পেলে নিজের পুরোনো প্রশংসার পাশে সংশোধনী লেখা যায়। খ্যাতির এতে জাত যাওয়ার কথা নয়।
সমস্যা হলো, প্রশংসার বিজ্ঞাপন খুব দ্রুত ছড়ায়; প্রশংসাকারীর পরের সংশয় তত দ্রুত ছড়ায় না। ফলে মানুষের কাছে থেকে যায় একটি মসৃণ সাফল্যের গল্প। কিডের লেখায় এই ব্যবধানের ক্ষোভ স্পষ্ট। তাঁর বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহগুলোকে আলাদা প্রমাণ ছাড়া প্রতিষ্ঠিত সত্য বানানোর দরকার নেই। প্রচারের ভাষা আর গবেষণার অনিশ্চয়তা যে সহজে এক খাতে চলে না, সেটি বোঝার জন্য সবার গোপন উদ্দেশ্য উদ্ধার করাও জরুরি নয়। প্রকাশ্যে করা দাবিটুকুর যথার্থতা যাচাই করলেই অনেক কাজ হয়।
কিডের সবচেয়ে বড় আপত্তির একটি ছিল বিকল্প পাঠকে একমাত্র পাঠ বানানো। তাঁর ১৯৮৮ সালের বিবরণ অনুযায়ী, সংশোধিত সংস্করণ বাজারে পুরোনো প্রচলিত সংস্করণগুলোর জায়গা নিয়েছিল। একটি নতুন ব্যাখ্যামূলক পাঠ গবেষণার কাজে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু তার মূল্য প্রতিষ্ঠা করতে পুরোনো পাঠের নাগাল বন্ধ করার যুক্তি কোথায়? পাঠকের সামনে পাশাপাশি কয়েকটি সংস্করণ থাকলে পার্থক্য বোঝা সম্ভব। একটিমাত্র সংস্করণকে চূড়ান্ত বলে হাজির করলে সম্পাদকীয় পছন্দ ধীরে ধীরে লেখকের স্বভাব বলে চালু হয়ে যেতে পারে।
এইখানেই পুরোনো সাহিত্যিক ঝগড়াটি আমাদের কাছের হয়ে ওঠে। শুদ্ধ ভাষার নামে আমরা কত সহজে অন্যের কথার হাঁটাচলা বদলে দিতে চাই। বাক্য একটু বেঁকেছে, পুনরুক্তি হয়েছে, কথা থেমে গেছে; সঙ্গে সঙ্গে শাসনের ইচ্ছে জাগে। অথচ মানুষ সিলেবাস মেনে চিন্তা করে না। অবশ্যই অসাবধান লেখা সম্পাদনা করতে হবে। শুধু আগে বুঝতে হবে, যে অস্বস্তি দূর করছি, লেখাটি সেই অস্বস্তিটুকুই তৈরি করতে চেয়েছিল কি না। সব ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে বাসিন্দাদেরও সরিয়ে ফেললে ঘর খুব ঝকঝকে দেখাবে।
সাহিত্যের প্রতি সম্মান দেখানোর একটি উপায় হলো তার বিষয়ে করা বড় দাবিগুলোকে ছোট ছোট প্রশ্নে পরীক্ষা করা। নামটা কোথায় পেলেন? এই কমাটি কার? শেষ সংশোধনটি দেখেছেন তো?
শেষ পর্যন্ত হ্যারি থ্রিফটের কাছেই ফেরা যাক। তিনি সাইকেল চালিয়েছিলেন, সম্পাদনার ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক করতে নামেননি। অথচ তাঁর নামের একটি অক্ষর আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শুদ্ধ করার কাজেও মানুষের পরিচয় হারাতে পারে, লেখকের স্বর চাপা পড়তে পারে। ভালো সম্পাদক নিজের হাতের কাজ দেখানোর পাশাপাশি হাত সরানোর সময়টাও চিনবেন। তাঁর কৃতিত্বে বইটি আরও পাঠযোগ্য হবে, যাচাইযোগ্য হবে, লেখকের সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্ট হবে। সংশোধনের উৎসাহ থাকুক। সঙ্গে কাউকে শোধরাতে বসার আগে তাঁকে ভালো করে পড়ার ধৈর্যটুকুও থাকুক।
সূত্র: জন কিড, “The Scandal of ‘Ulysses’”, The New York Review of Books, ৩০ জুন ১৯৮৮।



