প্রেমকে শুধু অনুভূতি বলে ভাবলে আমার নিজেরই একটু সন্দেহ জাগে। অনুভূতি বড় অদ্ভুত জিনিস। সে অনুমতি চায় না, ঘরে ঢুকে পড়ে। আবার একদিন দেখি, যেভাবে এসেছিল সেভাবেই চলে গেছে, আলমারির উপর ধুলো, চায়ের কাপে শুকনো দাগ, আর বিছানার পাশে রাখা একজোড়া চপ্পলের মতো কিছু চিহ্ন রেখে। আমরা তখন বসে বসে ভাবি, এ কি সত্যিই প্রেম ছিল, না কি কিছুদিনের ঝড় বৃষ্টি মাত্র। মানুষের মনও একেক সময় বর্ষার নদীর মতো, কাল যেখানে জল ছিল আজ সেখানে পলি, কাল যেখানে পলি জমেছিল আজ সেখানে স্রোত। এই অনিশ্চিত জিনিসটির উপর সংসার, সম্পর্ক, জীবন, ভবিষ্যৎ, এমনকি নিজের আত্মসম্মানের মতো ভারী ভারী জিনিস তুলে দিলে মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা সবাই একটু শিশুসুলভ আশাবাদী। আশাবাদী না হলে মানুষ বাঁচেও কী করে?
আমি প্রেমকে খুব বেশি নিত্যদিনের কাজে চিনেছি। কথায় না, অঙ্গীকারেও না। প্রেমকে দেখেছি ভোরবেলায় কারও ওষুধের বাক্স খুলে ঠিক ট্যাবলেটটা বের করে দেওয়ায়। দেখেছি রাত জেগে কারও জ্বর মাপায়, যদিও পরদিন অফিস আছে, মিটিং আছে, পৃথিবীর সব জরুরি জিনিস আছে, আর ঘুমের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তখন অমৃতের সঙ্গে দেবতাদের সম্পর্কের মতো। দেখেছি একই গল্প দশমবার শুনেও বিরক্তি না দেখানোর চেষ্টায়, যদিও মুখের ভেতর তখন ধৈর্যের শেষ কণা দাঁত দিয়ে ধরে রাখতে হয়। দেখেছি বাজার থেকে ফিরে কেউ বলছে, “তোমার পছন্দেরটা পেয়েছি,” যেন সে কোনও মহাদেশ আবিষ্কার করে এসেছে। এইসব দৃশ্য বাইরে থেকে সামান্য। কিন্তু মানুষের জীবন শেষ পর্যন্ত সামান্য জিনিসের উপরই দাঁড়িয়ে থাকে। বড় বড় বাক্য সাধারণত দেয়ালে ঝোলানো ফ্রেমে থাকে; সংসার টিকে থাকে রান্নাঘরের সিঙ্ক, ওষুধের ড্রয়ার, ফোনের ওপারের দীর্ঘশ্বাস, আর দরজায় ফিরে আসার অভ্যাসে।
অনুভূতি প্রেমের শুরু হতে পারে, তা অস্বীকার করার সাহস বা প্রয়োজন আমার নেই। প্রথম আলো না থাকলে সকালও হয় না। মানুষের বুকের ভেতরে যে আকস্মিক কাঁপুনি, কারও নাম শুনলে যে অনুচ্চারিত আলোড়ন, ভিড়ের মধ্যে এক মুখের জন্য আলাদা মনোযোগ, এগুলোকে অবজ্ঞা করা অন্যায়। যৌবনে আমরা অনেকেই ভেবেছি, এই কাঁপুনিই শেষ কথা। তখন মনে হত, হৃদয় যখন নিজে নিজে এক নাম উচ্চারণ করছে, তখন আর যুক্তি, আচরণ, দায়িত্ব এসব মধ্যবিত্ত শব্দের কী প্রয়োজন। পরে বুঝেছি, হৃদয় কখনও কখনও কবির মতো সত্য বলে, আবার কখনও কখনও নাট্যদলের নায়কের মতো অতিরঞ্জন করে। তার কাজ অনুভব করা, কিন্তু জীবন চালানোর হিসাব সে সবসময় জানে না।
প্রেম কাজ হয়ে ওঠে যখন মানুষ নিজের অনুভূতির উপর একটু নজরদারি বসায়। আজ মন নেই, তবু খোঁজ নেওয়া। আজ অভিমান আছে, তবু অপমান না করা। আজ ক্লান্তি আছে, তবু অন্যজনের ক্লান্তির দিকে তাকানো। আজ নিজের কথাই বলতে ইচ্ছে করছে, তবু আরেকজনের অসমাপ্ত বাক্যের পাশে বসে থাকা। এই বসে থাকাও এক ধরনের শ্রম। সমাজে শ্রমের এত হিসাব আছে, মজুরি, বোনাস, ছুটি, পেনশন; কিন্তু সম্পর্কের শ্রমের কোনও পে-স্লিপ নেই। কেউ দেখে না, LinkedIn-এ কেউ লেখে না, “Congratulations on completing ten years of emotional steadiness.” অথচ এ কাজের ব্যর্থতা মানুষকে এমনভাবে ভেঙে দেয়, যার অডিট কোনও প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা অসম্ভব।
ভালোবাসাকে কাজ হিসেবে সবচেয়ে বেশি বোঝা যায় যখন অনুভূতি খুব একটা মসৃণ থাকে না। রাগ আছে, তবু ভাঙচুর নেই। বিরক্তি আছে, তবু অবজ্ঞা নেই। মতভেদ আছে, তবু মানুষের মর্যাদাকে দরজার বাইরে ফেলে দেওয়া নেই। সম্পর্কের প্রথম দিকে সবাই কোমল হতে পারে; তখন মানুষ নিজের সেরা সংস্করণটি নিয়ে মঞ্চে ওঠে। চুল আঁচড়ানো, ভাষা মাপা, হাসি নিয়ন্ত্রিত, স্মার্টনেস সামান্য বেশি, দয়া সামান্য প্রদর্শনযোগ্য। বছর পেরোলে আসল মানুষ বেরিয়ে আসে। তার অস্থিরতা, ভয়, ঈর্ষা, অলসতা, আত্মরক্ষা, পুরনো ক্ষত, অকারণ নীরবতা, সব নিয়ে। তখন প্রেম যদি শুধু অনুভূতি হয়, সে অনেক সময় জানালা দিয়ে পালাতে চায়। কাজ হিসেবে প্রেম তখন দরজা বন্ধ করে বসে বলে, আচ্ছা, দেখি, এই মানুষটিকে আজ কীভাবে বোঝা যায়।
আমি এমনও দেখেছি, মানুষ প্রেমের নামে অন্য মানুষকে নিজের আবেগের আবহাওয়া দপ্তরে পরিণত করে। আজ রোদ, তাই তোমাকে চাই। আজ মেঘ, তাই তোমাকে দূরে সরাই। আজ ঝড়, তাই তোমাকে চাই, তারপর বলে আমি তো তোমাকে ভালোবাসি। এই ভালোবাসার ভিতরে কাজের শৃঙ্খলা নেই, শুধু দাবির শব্দ আছে। প্রেম কাজ হলে সেখানে নিজের আচরণের দায় নিতে হয়। সেখানে বলা যায় না, “আমি এমনই।” মানুষ “এমনই” বলে জীবনের অনেক অপরাধ মাফ করিয়ে নিতে চায়। যেন চরিত্র জন্মসনদের মতো, একবার লেখা হয়ে গেলে আর সংশোধন অসম্ভব। অথচ ভালোবাসার মধ্যে মানুষ একটু বদলায়, বা অন্তত বদলানোর চেষ্টা করে। পুরো বদলায় না, সে আশা করাও নিষ্ঠুর; কিন্তু যে মানুষ একেবারেই চেষ্টা করে না, তার প্রেম অনেক সময় নিজের সুবিধার আরেক নাম হয়ে দাঁড়ায়।
প্রেমের কাজ মানে সব সহ্য করা নয়। এ ভুল আমাদের সমাজ অনেকদিন ধরে খুব যত্নে শিখিয়েছে, বিশেষ করে নারীদের, আর যারা স্বভাবত বেশি নরম তাদের। সহ্য করো, চুপ করো, মানিয়ে নাও, পরিবার বাঁচাও, সম্পর্ক রাখো। যেন সম্পর্ক রক্ষার দায় সবসময় সেই মানুষের, যার গলায় দড়িটা একটু বেশি টানছে। প্রেম কাজ হলে সীমারেখাও তার অংশ। কাউকে ভালোবাসা মানে তাকে নিজের উপর অন্যায় করার লাইসেন্স দেওয়া নয়। বরং কখনও কখনও প্রেমের সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো বলা, এইখানে থামো। আমি আছি, কিন্তু আমার ভিতরটাকে ভেঙে তোমার ঘর বানাতে দেব না। এই কথাটা বলতে আমাদের অনেকের অর্ধেক জীবন কেটে যায়। কেউ কেউ পুরো জীবনেও শেখে না। তাদের দেখে আমার মায়া হয়, কারণ বিনয় আর আত্মবিলোপের তফাত না বুঝে মানুষ কত সুন্দরভাবে নিজেকে নষ্ট করে।
প্রেম কাজ মানে মনোযোগ। মনোযোগ আজকাল দুর্লভ বস্তু। আমরা সবাই কথোপকথনের মাঝখানে ফোন দেখি, ফোনের মাঝখানে অন্য ফোনের কথা ভাবি, আর মানুষের সামনে বসে থেকেও অদৃশ্য বাজারে ঘুরি। মনোযোগ দিতে খরচ আছে। নিজের অহং একটু সরাতে হয়, নিজের জরুরি ভাব কমাতে হয়, আরেকজনের অভ্যন্তরীণ ঋতু চিনতে হয়। সে আজ চুপ কেন, সে হাসছে কিন্তু চোখে সেই হাসি পৌঁছাচ্ছে কি না, সে ক্লান্ত না আহত, সে সত্যিই “ভালো আছি” বলছে নাকি কথাটা সামাজিক ট্রাফিক সিগন্যাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এইসব দেখতে জানতে হয়। প্রেমের দৃষ্টিশক্তি কেবল মুখ দেখে না, বিরতি দেখে, স্বর দেখে, অনুপস্থিতি দেখে। কানে শোনা কথার পাশাপাশি না-বলা কথার ওজনও টের পায়।
আর আছে উপস্থিত থাকার কাজ। উপস্থিতি শব্দটি শুনতে সহজ। বাস্তবে এর চেয়ে কঠিন কিছু কম আছে। বিপদের সময় মানুষ এসে দাঁড়াবে, এই আশায় আমরা সম্পর্ক করি। কিন্তু মানুষের বিপদ সবসময় হাসপাতালের করিডর, মৃত্যুসংবাদ, বা অর্থকষ্টের মতো দৃশ্যমান নয়। অনেক বিপদ নিঃশব্দে আসে। মানুষ ধীরে ধীরে নিজের ভিতর থেকে সরে যায়, টেবিলে বসে খায়, কথাও বলে, কিন্তু তার ভিতরের ঘরে কেউ থাকে না। এমন সময়ে পাশে থাকা কঠিন, কারণ নাটক নেই, ঘোষণা নেই, করুণ সঙ্গীত নেই। শুধু এক দীর্ঘ ক্লান্তি, যা বাইরের লোককে বিরক্ত করে। প্রেম তখন বলে, আমি তোমার এই কম-আকর্ষণীয় দিনগুলোর মধ্যেও তোমাকে চিনি। তুমি আজ আলো ছড়াচ্ছ না, তবু তুমি আমার কাছে বাতিল নও।
বছরের পর বছর আরেকজনের কাছে পাঠযোগ্য থাকা, এটাও প্রেমের কাজ। মানুষ বদলায়, দুঃখ বদলায়, শরীর বদলায়, অর্থনৈতিক চাপ বদলায়, সন্তান আসে, মৃত্যু আসে, দেশ বদলায়, ঘর বদলায়, বন্ধুত্ব কমে, উচ্চাশা ক্ষয় হয়, বিশ্বাসের রং পাল্টায়। এই সবের মধ্যে কেউ যদি নিজের দরজায় তালা মেরে বসে থাকে, অন্যজন কতদিন বাইরে দাঁড়াবে? প্রেম মানে নিজের ভিতরের মানচিত্র মাঝে মাঝে খুলে দেওয়া। বলার মতো ভাষা না থাকলেও চেষ্টা করা। “আমি জানি না কেন এমন লাগছে” বাক্যটিও এক ধরনের দরজা। মানুষের কাছে অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া সহজ; স্পষ্ট থাকার জন্য চরিত্র লাগে। আমরা অনেকেই নিজেদের রহস্যময় ভাবতে পছন্দ করি। বেশির ভাগ সময়ে সেটা রহস্য নয়, যোগাযোগের আলস্য।
প্রেম কাজ হলে ক্ষমাও তার মধ্যে থাকে, কিন্তু সেই ক্ষমা অন্ধ নয়। মানুষ ভুল করবে, আমিও করেছি, করব। এই স্বীকারোক্তি ছাড়া প্রেমের আলোচনাই ভণ্ডামি। কখনও আমরা ভুল শব্দ বেছে নিই, কখনও নীরবতা দিয়ে আঘাত করি, কখনও নিজের আঘাতকে অন্যের অপরাধ বলে চালিয়ে দিই। ক্ষমা তখন দরকার। কিন্তু ক্ষমা যদি বারবার একই ক্ষতের উপর ব্যান্ডেজ বদলানোর অনুষ্ঠান হয়ে দাঁড়ায়, আর কেউ ক্ষত তৈরির অভ্যাস বদলাতে না চায়, তবে সেটি প্রেমের মহত্ত্ব নয়, আত্মপ্রবঞ্চনা। কাজ হিসেবে প্রেম ভুলের পরে মেরামত চায়। শুধু “sorry” নয়; কী বদলাবে, কীভাবে বদলাবে, সেই নীরব কিন্তু দৃশ্যমান চেষ্টা।
আমাদের সময়ে প্রেম নিয়ে প্রকাশ খুব বেড়েছে। ছবিতে, পোস্টে, ক্যাপশনে, বার্ষিকীর ঘোষণায়, হৃদয়ের ইমোজিতে। এগুলোর বিরুদ্ধে আমার কোনও মৌলিক আপত্তি নেই। মানুষ আনন্দ পেলে জানাক, ছবি তুলুক, ফুল দিক, গান পাঠাক। জীবনে আনন্দের জিনিস এত অল্প যে সেগুলো নিয়েও যদি আমরা নীতিবাগীশ হয়ে বসি, তবে পৃথিবী আরও মলিন হবে। কিন্তু প্রকাশের বাজার যত বড় হয়েছে, কাজের শৃঙ্খলা তত বড় হয়েছে কি না জানি না। অনেকে ভালোবাসা প্রদর্শনে পারদর্শী, কিন্তু ভালোবাসা বহনে অক্ষম। বহন করা আলাদা কাজ। সেখানে ক্যামেরা নেই, সাউন্ডট্র্যাক নেই, দর্শক নেই। আছে বাসন মাজা, বিল দেওয়া, চিকিৎসার রিপোর্ট বোঝা, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ফোন ধরা, সন্তানের ভাঙা মন সামলানো, এবং মাঝরাতে ঘুম ভেঙে পাশে থাকা মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ করে উপলব্ধি করা, এই মানুষটির সঙ্গে আমার জীবনের কতটা জড়িয়ে গেছে।
প্রেমের ভিতরে আনন্দ থাকবে, কামনা থাকবে, বন্ধুত্ব থাকবে, অভিমানও থাকবে। কিন্তু এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজ দরকার। যে গাছে জল দেওয়া হয় না, তার ছায়া নিয়ে কবিতা লেখা যায়, কিন্তু দুপুরে সেখানে বসা যায় না। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাই। একদিনের উচ্ছ্বাস সুন্দর, কিন্তু দীর্ঘ জীবনের জন্য পুনরাবৃত্ত যত্ন দরকার। একই মানুষকে বারবার নতুন করে গ্রহণ করা দরকার। একই কথোপকথন আবার শুরু করার ধৈর্য দরকার। কখনও নিজের জয় ছেড়ে সম্পর্কের সুস্থতা বেছে নেওয়া দরকার। তর্কে জেতা সহজ; মানুষের পাশে থাকা কঠিন। আমি নিজে সবসময় পেরেছি এমন দাবি করলে সেটা আত্মপ্রশংসার সেই পুরনো রোগে পড়া হবে, যার চিকিৎসা বাঙালি সমাজে এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। আমি বরং বলি, যতবার বুঝেছি, ততবার দেরিতে বুঝেছি।
তবু এই দেরিতে বোঝার মধ্যেই হয়তো মানুষের শিক্ষা। প্রেম প্রথমে অনুভূতির দরজা দিয়ে আসে, আমাদের ভেতর আলোড়ন তোলে, গান শোনায়, পৃথিবীকে সামান্য বদলে দেয়। তারপর একসময় সে জিজ্ঞেস করে, এখন তুমি কী করবে? এই প্রশ্নের উত্তর কবিতায় দেওয়া যায়, কিন্তু জীবনে দিতে হয় আচরণে। তুমি কি থাকবে? তুমি কি শুনবে? তুমি কি নিজের রাগকে শাসন করবে? তুমি কি আরেকজনের অসম্পূর্ণতাকে মানুষ হিসেবে বুঝবে, আবার নিজের ক্ষতিও চিনবে? তুমি কি বছরের পর বছর ধরে এমনভাবে নিজেকে প্রকাশ করবে যাতে অন্যজন অন্ধকারে হাতড়ে না বেড়ায়?
অনুভূতি থেকে প্রেমের জন্ম হতে পারে, তবে জন্ম নেওয়া আর টিকে থাকা এক বিষয় নয়। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন গভীর যত্ন, সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত এবং কখনো কখনো নিজের স্বার্থকে দূরে সরিয়ে অন্যের জন্য স্থান করে দেওয়ার সাহস। ভালোবাসা প্রকাশ পায় প্রাত্যহিক হাতের কাজে, পরিমিত কথায়, ধৈর্যের প্রতীক্ষায়, ক্ষমার পর নিজের ইতিবাচক পরিবর্তনে কিংবা ক্লান্ত দিনের শেষে এক গ্লাস জল বাড়িয়ে দেওয়ার মাঝে। প্রেম মূলত সেই সাহসেরই এক দীর্ঘ অনুশীলন। প্রতিদিন আমরা শিখি যে, মুখে ভালোবাসি বলার চেয়ে কোনো মানুষের পাশে থাকা কতটা জটিল এবং ঠিক এই কারণেই তা এতটা মূল্যবান।
রিটন খান


