আমাদের ছেলেটা যখন এই দুনিয়ার আলো দেখেনি, মায়ের পেটের ভেতর অন্ধকার, উষ্ণ, জলের মতো এক গোপন ঘরে ভেসে আছে, তখন থেকেই আমরা তার দিকে বই খুলে বসতাম। কে শুনছে, কতটুকু শুনছে, আদৌ শব্দ আলাদা করতে পারছে কি না, সেসব নিয়ে খুব বড়ো কোনো বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা ছিল না, কিন্তু রাতের শেষে বিছানার ধারে বাতি একটু ম্লান করে, কখনো আমি, কখনো তার মা, পাতা উল্টে উল্টে তাকে পড়ে শোনাতাম, যেনো ভাষা আগে আসে, পৃথিবী পরে; যেনো মানুষের ঘরে জন্মাতে হলে আগে শব্দের ঘ্রাণ চেনা দরকার, বাক্যের ওঠানামা, স্বরের ভেতরের স্নেহ, বিরক্তি, হাসি, বিস্ময়, থেমে যাওয়া, আবার শুরু করা, এইসব। তারপর সে জন্মালো, কোলে এলো, কাঁদলো, ঘুমালো, দুধ খেলো, রাত জাগালো, আর সেই সঙ্গে বই পড়ে শোনানোর অভ্যাসটাও ঘরের একটা নিয়মের মতো থেকে গেলো। ঘুম পাড়ানোর আগে বই, বিকেলের অবসরে বই, জ্বরের দিনেও বই, বাইরে বৃষ্টি হলে বই, বিদ্যুৎ গেলে টর্চ জ্বেলে বই। অনেক বাবা-মা বোধহয় এই জায়গায় এসে থামে, ভাবে বাচ্চা নিজে পড়তে শিখলেই কাজ শেষ, কিন্তু আমাদের আসল কাজটা যেনো সেখান থেকেই শুরু হলো। কারণ পড়তে শেখা আর পড়ুয়া হয়ে ওঠা এক কথা না। অক্ষর মিলিয়ে শব্দ পড়া এক জিনিস, আর বইয়ের ভেতর ঢুকে থাকা, বইকে নিজের আনন্দ, আশ্রয়, সঙ্গী, খেলা, অভ্যাস, কখনো গোপন জায়গা বানিয়ে নেওয়া আরেক জিনিস। সেই দ্বিতীয় পথটাই আমরা ধরতে চেয়েছিলাম।
পড়তে শেখার গল্প
আমাদের ছেলেটা যখন এই দুনিয়ার আলো দেখেনি, মায়ের পেটের ভেতর অন্ধকার, উষ্ণ, জলের মতো এক গোপন ঘরে ভেসে আছে, তখন থেকেই আমরা তার দিকে বই খুলে বসতাম। কে শুনছে, কতটুকু শুনছে, আদৌ শব্দ আলাদা করতে পারছে কি না, সেসব নিয়ে খুব বড়ো কোনো বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা ছিল না, কিন্তু রাতের শেষে বিছানার ধারে বাতি একটু ম্লান করে, কখনো আমি, কখনো তার মা, পাতা উল্টে উল্টে তাকে পড়ে শোনাতাম, যেনো ভাষা আগে আসে, পৃথিবী পরে; যেনো মানুষের ঘরে জন্মাতে হলে আগে শব্দের ঘ্রাণ চেনা দরকার, বাক্যের ওঠানামা, স্বরের ভেতরের স্নেহ, বিরক্তি, হাসি, বিস্ময়, থেমে যাওয়া, আবার শুরু করা, এইসব। তারপর সে জন্মালো, কোলে এলো, কাঁদলো, ঘুমালো, দুধ খেলো, রাত জাগালো, আর সেই সঙ্গে বই পড়ে শোনানোর অভ্যাসটাও ঘরের একটা নিয়মের মতো থেকে গেলো। ঘুম পাড়ানোর আগে বই, বিকেলের অবসরে বই, জ্বরের দিনেও বই, বাইরে বৃষ্টি হলে বই, বিদ্যুৎ গেলে টর্চ জ্বেলে বই। অনেক বাবা-মা বোধহয় এই জায়গায় এসে থামে, ভাবে বাচ্চা নিজে পড়তে শিখলেই কাজ শেষ, কিন্তু আমাদের আসল কাজটা যেনো সেখান থেকেই শুরু হলো। কারণ পড়তে শেখা আর পড়ুয়া হয়ে ওঠা এক কথা না। অক্ষর মিলিয়ে শব্দ পড়া এক জিনিস, আর বইয়ের ভেতর ঢুকে থাকা, বইকে নিজের আনন্দ, আশ্রয়, সঙ্গী, খেলা, অভ্যাস, কখনো গোপন জায়গা বানিয়ে নেওয়া আরেক জিনিস। সেই দ্বিতীয় পথটাই আমরা ধরতে চেয়েছিলাম।