I wish good essays could pay rent on their own. Until they learn how, paid subscriptions keep this publication alive.
কোনো বই পড়তে বসে যদি প্রথম পাতাতেই মনে হয় ইংরেজি ভাষাটা গতকাল রাতেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছে, তবে ধরে নেওয়া যায় আপনি জেমস জয়েসের ‘ফিনেগানস ওয়েক’-এর মুখোমুখি হয়েছেন। পরিচিত অক্ষর আছে, বাক্যের মতো কিছু একটা আছে, কিন্তু অর্থকে ডেকে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিধান খুলে দেখা গেল, শব্দটা সেখানেও নেই। তখন সন্দেহ হয় নিজের শিক্ষাদীক্ষা নিয়ে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এতগুলো বছর কী করল?
আমাদের শিক্ষার সঙ্গে বোঝার একটা হিসাবি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। অনুচ্ছেদ পড়বে, মূলভাব লিখবে, লেখক কী বলতে চেয়েছেন জানাবে। লেখক নিজে দ্বিধায় থাকলেও পরীক্ষক দ্বিধায় থাকবেন না। সাহিত্যকে আমরা অনেক সময় এমন একটা প্রশ্নপত্র বানিয়ে ফেলি, যার উত্তরপত্র অন্য কারও কাছে জমা আছে। পাঠকের কাজ সেই উত্তর উদ্ধার করা।
১৯৩৯ সালে প্রকাশিত ‘ফিনেগানস ওয়েক’ এই অভ্যাসে বাধা দেয়। বইটি পড়ার আনন্দ অনেকখানি নির্ভর করে কতটা বুঝলাম তার পাশাপাশি কী শুনলাম, কী খেয়াল করলাম, কোথায় নিজের অনুমান বদলাতে হলো, সেসবের ওপর। সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা হাতে পাওয়ার আগেই পাঠ শুরু করা যায়। এই সামান্য অনুমতিটুকু নিজেকে দিতে পারলে বইটির ভীতিকর খ্যাতি একটু আলগা হয়।[1]
সাধারণ গদ্যে আমরা শব্দকে দ্রুত পার হয়ে যাই। ‘নদী’ পড়লে নদীর কথা ভাবি; ন, দ, ঈ-কারের দিকে মন পড়ে থাকে না। জয়েস বারবার সেই চলাচল থামিয়ে দেন। একটি শব্দের বানানে অন্য শব্দের ছায়া, উচ্চারণে অন্য ভাষার আওয়াজ, বাক্যের ভেতরে পুরোনো গান বা প্রার্থনার ভাঙা টুকরা ঢুকিয়ে দেন। অর্থ তখন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না।
বাংলাভাষী পাঠকের কাছে এর প্রাথমিক অভিজ্ঞতা একেবারে অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। আমরা ‘কাল’ বলেই গতকাল, আগামীকাল, সময়, কখনো মৃত্যুর দিকেও ইশারা করি। কোনটি বোঝাচ্ছি, বাক্য ও পরিস্থিতি তা ঠিক করে। কথার সুর বদলালেও অর্থ বদলায়। ‘বেশ করেছেন’ কথাটি প্রশংসা, বিরক্তি কিংবা বিপদের পূর্বাভাস হতে পারে। জয়েস এই পরিচিত সম্ভাবনাকে অস্বাভাবিক দূরত্ব পর্যন্ত টানেন। তাঁর শব্দে অনেক সময় একাধিক ইশারা একসঙ্গে সক্রিয় থাকে; প্রসঙ্গ দিয়েও সেগুলো পুরোপুরি আলাদা করা যায় না।
প্রথম শব্দটিই দেখা যাক: ‘riverrun’। নদী আর বয়ে চলা একসঙ্গে লেগে আছে। বইটি শুরু হচ্ছে ছোট হাতের অক্ষরে, যেন কথা আগেই শুরু হয়েছিল, আমরা মাঝপথে শুনতে পেলাম। প্রথম বাক্যে ‘Howth Castle and Environs’ পড়লে একটি জায়গার পরিচয় পাওয়া যায়। আবার শব্দগুলোর আদ্যক্ষর HCE, যা বইজুড়ে ঘুরে বেড়ানো এক প্রধান চরিত্রের পরিচয়ও বহন করে। একই অক্ষরে জায়গা ও মানুষের পরিচয় মিশে যাচ্ছে।[2]
এখানে পাঠকের কাজ শুধু গোপন সংকেত খুঁজে বের করা হলে ব্যাপারটা দ্রুত ক্লান্তিকর হয়ে উঠত। শব্দের ছন্দ, মুখে বলার অনুভূতি, হঠাৎ একটি পরিচিত ধ্বনি ধরতে পারার আনন্দও সমান জরুরি। কখনো কোনো শব্দের ব্যুৎপত্তি জানলে বাক্য খুলে যায়। কখনো আগে বাক্যটি শুনতে হয়, পরে অভিধান দরকার হয়। প্রতিটি শব্দকে আলাদা করে জেরা করতে থাকলে তাদের একসঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে না।
পাঠের শুরুতে কয়েকটি পরিচয় জানা প্রয়োজন। হামফ্রি চিম্পডেন ইয়ারউইকার বা HCE, আনা লিভিয়া প্লুরাবেল বা ALP, দুই ছেলে শেম ও শন, আর মেয়ে ইসি। ডাবলিনের একটি পরিবার ধরে এগোলে কিছুটা ভরসা পাওয়া যায়। কিন্তু নামগুলোর পাশে স্থায়ী ছবি এঁকে রাখলে পরে বিপদ। পরিচয় বদলায়, অন্য পুরাণ ও ইতিহাসের চরিত্র তাদের ওপর এসে পড়ে, একই আদ্যক্ষর নতুন বাক্যে নতুন মুখ নেয়।
HCE-কে ঘিরে ফিনিক্স পার্কের একটি অস্পষ্ট ঘটনা, যৌন অসদাচরণের অভিযোগ, লজ্জা ও আত্মপক্ষসমর্থনের নানা রূপ ঘুরতে থাকে। কী ঘটেছিল, অভিযোগ কতটা নির্ভরযোগ্য, অপরাধ আর অপরাধবোধ কোথায় আলাদা, সব প্রশ্নের একটিমাত্র নিষ্পত্তি পাওয়া কঠিন। ঘটনাটিকে প্রথমেই নিশ্চিত মামলার বিবরণ বানিয়ে ফেললে এই অনিশ্চয়তার কাজটুকু হারিয়ে যায়।
গুজবের সমাজে ঘটনাটির চেয়ে ঘটনাটির প্রচার অনেক সময় বেশি ক্ষমতাবান। কেউ দেখেছে, কেউ শুনেছে, কেউ এমন একজনকে চেনে যে নাকি সব জানে। শেষের লোকটির বক্তব্যই সাধারণত সবচেয়ে দৃঢ়। বক্তার সংখ্যা বাড়ে, সাক্ষ্যের মান বাড়ার কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। জয়েসের ঘুরপাক খাওয়া অভিযোগের ভেতর এই সামাজিক যন্ত্রটিও দেখা যায়। একজনকে নিয়ে বলা গল্প ধীরে ধীরে তার পরিচয় দখল করে নেয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাই কে বলছে, কী প্রমাণে বলছে, আর অন্য মুখে কথাটি কতটা পাল্টেছে, সেসব দেখা জরুরি।
শেম লেখে, শন বহন করে। এই দুই ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সৃষ্টি ও প্রচার, বেখাপ্পা শিল্পী ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, কথা তৈরি করা ও তার মালিকানা দাবি করার টানাপোড়েন পড়া সম্ভব। কিন্তু শেমকে জয়েসের ফটোকপি কিংবা শনকে কোনো বাস্তব মানুষের একমাত্র প্রতিরূপ ধরে নেওয়া অযথা সংকোচন। শিল্পী যখন নিজের জীবনের উপজীব্যকে শিল্পে রূপ দেন, তখন তা আর নিছক আত্মপরিচয়ের দলিল হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না।
গ্রন্থটির অন্যতম সমৃদ্ধ সংযোগ হলো ALP-র সঙ্গে ডাবলিনের লিফি নদীর সম্বন্ধ। মানুষ, জল, স্মৃতি, কথাবার্তা একে অন্যের মধ্যে প্রবাহিত হয়। প্রথম খণ্ডের অষ্টম অধ্যায়ে নদীর ধারে দুই ধোপানির কথোপকথনে আনার গল্প ছড়িয়ে পড়ে। জল বয়ে চলার সঙ্গে গসিপের চলাচলেরও একটা আত্মীয়তা তৈরি হয়। বিশাল ইতিহাসের পাশে কাপড় ধোয়া, সংসার, শরীর ও লোকের কথা সমান মনোযোগ দাবি করে।[3]
নারীকে শুধু প্রবাহ, পুরুষকে শুধু স্থিরতা বলে ভাগ করে নিলে ব্যাখ্যাটি বেশ গোছানো দেখাতে পারে। কিন্তু মানুষের অভিজ্ঞতা সেই গোছানো বাক্সে সহজে ধরে না। ALP-র কণ্ঠে যত্নের পাশাপাশি ক্লান্তি, আকাঙ্ক্ষা ও বিচ্ছেদের অনুভূতিও শোনা যায়। তাঁকে কেবল পুরুষের পতন সামলানোর দায়িত্ব দিলে আমাদের ব্যাখ্যাতেও পুরোনো পারিবারিক কাঠামো বহাল থাকে। পুরুষ ইতিহাস সৃষ্টি করবে, নারী তার পরে ঘর গুছিয়ে দেবে। নদীটির নিজের দিকে তাকানোও দরকার।
স্বপ্নের যুক্তি দিয়ে বইটিকে পড়লে অনেক পরিবর্তন মেনে নেওয়া সহজ হয়। স্বপ্নে একটি বাড়ি একসঙ্গে শৈশবের বাড়ি ও অচেনা হোটেল হতে পারে। একজন মানুষ কথা বলতে বলতে যেন অন্য কেউ হয়ে উঠতে পারে। সময় সেখানে ক্যালেন্ডারের নির্দেশ অমান্য করে। ‘ফিনেগানস ওয়েক’-এর পরিবর্তনশীল পরিচয় ও ভাষা এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। তবে কার স্বপ্ন, একজনের স্বপ্নে সবকিছু গুছিয়ে ফেলা যায় কি না, সে বিষয়ে একটি অনুমানকে চূড়ান্ত ঘোষণা করার দরকার নেই।
পতনের ধারণাটিও বহু স্তরে কাজ করে। সিঁড়ি থেকে পড়া, সম্মান হারানো, ধর্মীয় পাপবোধ, সভ্যতার ভাঙন, রাতের ঘুমে ডুবে যাওয়া। আলাদা ঘটনার মধ্যে ধ্বনি ও ইঙ্গিত দিয়ে যোগাযোগ তৈরি হয়। ফলে একটি সাধারণ পরিবারের বিপর্যয়ের পাশে বড় ঐতিহাসিক পতনের ছায়া দেখা যেতে পারে। এই মিলগুলো আমাদের ভাবায়; সব ঘটনা একই নিয়মে ঘটে, এমন প্রমাণ দাবি করে না।
ইতালীয় চিন্তাবিদ জিয়ামবাত্তিস্তা ভিকোর ইতিহাসভাবনা এখানে উল্লেখ্য। তাঁর ‘নিউ সায়েন্স’-এ দেবতা, বীর ও মানুষের যুগের ধারণা রয়েছে; সামাজিক ব্যবস্থা ভেঙে আবার নতুনভাবে শুরু হওয়ার কথাও আছে। জয়েসের বইয়ের চার খণ্ডকে এই তিন পর্যায় ও প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ার একটি দীর্ঘ সমালোচনাগত পথ আছে। ইতিহাসের বাস্তব ঘটনাকে ছকটিতে জোর করে ঢোকানোর চেয়ে বইটির গঠন বোঝার কাজে এটি বেশি উপযোগী।[4]
বইটির শেষের অসম্পূর্ণ বাক্য প্রথমের ‘riverrun’-এ গিয়ে জোড়া লাগে। পাতা শেষ হয়েছে, ভাষার চলা থামেনি।[5] এই গঠন পুনর্পাঠের একটি বাস্তব কারণও তৈরি করে। শেষে পৌঁছে যে শব্দ চিনেছি, তা নিয়ে প্রথম পাতায় ফিরলে গোড়ার অংশ অন্যভাবে পড়ি। বস্তু একই, পাঠকের স্মৃতি বদলেছে। পুনরাবৃত্তির মধ্যেও পার্থক্য তৈরির জায়গা থাকে।
বাইবেল, প্রার্থনা, পাপ, বিচার ও মুক্তির ইঙ্গিত বইজুড়ে ছড়িয়ে আছে। সেগুলোকে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বর্ননা হিসেবে পড়লে অনেক ব্যঙ্গ চোখ এড়িয়ে যাবে। আবার প্রতিটি প্রার্থনার বিকৃতি থেকে জয়েসের নামে একটি সম্পূর্ণ দার্শনিক মতবাদ লিখে ফেলাও ঠিক হবে না। চরিত্রের কণ্ঠ, কথকের খেলা, লেখকের অবস্থান সবসময় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না।
এক জায়গায় প্রার্থনার পরিচিত বাক্য ঘুরে হয়েছে, “His hungry will be done!” ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণের ভাষার মধ্যে hungry ঢুকতেই ক্ষুধা ও চাহিদার সুর শোনা যায়।[6] কর্তৃত্বের ইচ্ছাকে মেনে নেওয়া আর তার দাবির দিকে তাকানোর মধ্যে যে ফারাক, শব্দটি সেটি খুলে দেয়। এখান থেকে প্রশ্ন করা যায়, যে কর্তৃত্ব বিধান দেয়, বিচারও করে, নিজের বিধানের ন্যায্যতা নিয়ে সে কতবার জবাব দেয়?
আমাদের চারপাশেও প্রস্তুত বাক্যের অভাব নেই। পরিবার, প্রতিষ্ঠান, রাজনীতি প্রত্যেকে কথাবার্তা এমনভাবে বলে, যেন বাক্যটি বহুবার উচ্চারিত হয়েছে বলেই সত্য। ‘এটাই নিয়ম’, ‘সবাই এভাবেই করে’, ‘এত প্রশ্ন কেন’ ধরনের বক্তব্যের শক্তি প্রায়ই যুক্তির চেয়ে অভ্যাসে বেশি। জয়েসের ভাষা পড়তে পড়তে চেনা বাক্যকে নতুন করে শোনার যে অভ্যাস গড়ে ওঠে, তা এখানে কাজে লাগে। তবে সাহিত্যের শব্দখেলা বাস্তবের যুক্তি যাচাইয়ের বিকল্প হতে পারে না। সেখানে তথ্য ও প্রমাণের কাজ আলাদা।
‘ফিনেগানস ওয়েক’ নিয়ে এত ব্যাখ্যার মধ্যে সবচেয়ে সহজ কাজটি প্রায়ই বাদ পড়ে যায়: কয়েকটি লাইন মুখে বলা। ভুল উচ্চারণের ভয় কিছুটা সরিয়ে শব্দগুলো একসঙ্গে বললে তাদের ওঠানামা, ঠোকাঠুকি, হাসি কিংবা বিষণ্নতা টের পাওয়া যেতে পারে। চুপচাপ চোখ বুলিয়ে যে মিলটি ধরা যায়নি, কানে সেটি স্পষ্ট হতে পারে।
জয়েস নিজে ১৯২৯ সালে ‘আনা লিভিয়া প্লুরাবেল’ অংশ থেকে পাঠ রেকর্ড করেছিলেন। সেই রেকর্ডিং শোনার সুযোগ ইউটিউবে আছে। তাঁর পাঠের ভঙ্গি দেখায়, এই ভাষার সঙ্গে কথাবার্তা ও অভিনয়ের সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ। এই রেকর্ডিং শুনে বইটির কয়েকটি পাতা পড়লে ছাপার অক্ষরের মধ্যে কথার সুর ধরতে সুবিধা হতে পারে।[7]
চোখের কাজও বাদ দেওয়া যায় না। বানান, শব্দের অবস্থান, মার্জিন, পাদটীকা অর্থ তৈরি করে। দ্বিতীয় খণ্ডের দ্বিতীয় অধ্যায়ের পাঠশালার আদলে সাজানো বিন্যাসে মূল লেখা ও পাশের লেখার সম্পর্ক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।[8] কোনটি কেন্দ্রে থাকবে, কোনটি পাশে, সেই পৃষ্ঠাবিন্যাসের মধ্যেও কর্তৃত্বের খেলা রয়েছে। অডিওতে ছন্দ স্পষ্ট হয়, ছাপা পাতায় অন্য কিছু দেখা যায়। দুইভাবে পড়লে দুই ধরনের লাভ।
এখানে অর্থ না বুঝেও সাময়িক আনন্দ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অচেনা ভাষার গান শুনে ভালো লাগলে আমরা অবাক হই না। উপন্যাসের ক্ষেত্রে হঠাৎ এমন কঠোরতা কেন? সেই ভালো লাগা থেকেই কোনো অচেনা ইতিহাস বা ভাষার খোঁজ নেওয়ার আগ্রহ তৈরি হতে পারে।
শুরুতেই সব সহায়ক বই জড়ো করে নিজের চারপাশে গবেষণাগার বানালে মূল বইটি কোথায় আছে খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। প্রথমে ছোট একটি অংশ পড়া, তারপর ফিরে দেখা বেশি উপযোগী। প্রথম দফায় বাক্যের গতি ও মোটামুটি পরিস্থিতি ধরা। দ্বিতীয় দফায় দু-একটি শব্দ বা ইঙ্গিত পরীক্ষা করা। আবার পুরো অংশটি পড়া। ব্যাখ্যা পাওয়ার পরে বাক্যটি কেমন শোনায়, সেই পরিবর্তনও খেয়াল করা।
রোল্যান্ড ম্যাকহিউয়ের ‘অ্যানোটেশনস টু ফিনেগানস ওয়েক’ শব্দ, ভাষা ও ইঙ্গিত শনাক্ত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বই। পৃষ্ঠায় টীকার অবস্থান মূল পাঠের অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে সাজানো, ফলে পাশাপাশি রেখে ব্যবহার করা যায়।[9] প্রথমবার পড়ার পরে বেছে নেওয়া কয়েকটি শব্দ এর সাহায্যে খুঁটিয়ে দেখা যায়।
জোসেফ ক্যাম্পবেল ও হেনরি মর্টন রবিনসনের ‘আ স্কেলিটন কি টু ফিনেগানস ওয়েক’ সামগ্রিক কাহিনি ও পুরাণের সম্পর্ক ধরতে সাহায্য করে। ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত এই বইটি প্রথম দিকের বিশাল সব ব্যাখ্যাগুলোর একটি।[10] এর সুসংহত বয়ান নতুন পাঠককে ভরসা দিতে পারে। মূল পাঠের সঙ্গে মিলিয়ে পড়লে গাইডের ব্যাখ্যার শক্তি ও সীমা দুটোই ধরা সম্ভব।
অনলাইনে FWEET-এ শব্দ বা পৃষ্ঠা-লাইন ধরে ব্যাখ্যা খোঁজা যায়। নোটে রাখা কোনো প্রশ্ন নিয়ে সেখানে ঢুকে সূত্র ধরে এগোনো যায়।[11]
‘ফিনেগানস ওয়েক’ পছন্দ করার কোনো কারণ নেই। কঠিন বই পড়ার ধৈর্য সবার একরকম নয়; আনন্দের উৎসও আলাদা। কারও কাছে এই ভাষা মুক্তির অভিজ্ঞতা, কারও কাছে বিরক্তির। অপছন্দের কারণও রয়েছে যথেষ্ট। নিজের রুচিকে উন্নত প্রমাণ করার জন্য বইটি পড়ার দরকার নেই।
এই বইয়ের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো, এটি পাঠককে নিজের বোঝার অভ্যাস সম্পর্কে সন্দেহ করতে শেখায়। একদিকে অজানা বিষয়ে আরও খোঁজ নেওয়ার তাগিদ, অন্যদিকে যা জানা যায়নি তা স্বীকার করার স্বাচ্ছন্দ্য। সব অর্থ উদ্ধার করতে না পারলেও একটি বাক্যের দিকে মন দিয়ে তাকানো যায়। অন্যের ব্যাখ্যা শোনার পর নিজেরটি বদলানো যায়। এমনকি খুব ভালো লাগা একটি ব্যাখ্যাও ছেড়ে দিতে হয়, যদি শব্দ তার পক্ষে সাক্ষ্য না দেয়।
তাই পড়া শেষ হলে প্রথম পাতায় ফিরলে দেখা যাবে, নদীটি নিজের কাজেই ব্যস্ত। এবার তার শব্দ একটু বেশি চেনা লাগে।
সূত্র ও পাঠসংকেত
১. James Joyce, Finnegans Wake, 1939। প্রকাশনা ও সংস্করণের তথ্য: James Joyce Digital Archive,
২. Finnegans Wake, I.1, 1939 সংস্করণের প্রথম পাঠপৃষ্ঠা 3। উদ্বোধনী শব্দ ও HCE-র আদ্যক্ষরের উদাহরণ:
৩. Finnegans Wake, I.8, প্রচলিত 1939 পৃষ্ঠাঙ্কে 196–216; ALP, লিফি ও দুই ধোপানির কথোপকথন।
৪. Giambattista Vico, The New Science, তিন যুগ ও পুনরাবর্তনের আলোচনা; নির্বাচিত মূল পাঠ: https://www.clarehall.cam.ac.uk/wp-content/uploads/2023/04/Vico-Selected-The-new-science.pdf । Joyce-এর চার খণ্ড ও ভিকোর পুনরাবর্তন নিয়ে University of Bologna-র আলোচনা: https://exhibits.ficlit.unibo.it/s/ricezione-vico/page/-finnegan-s-wake-le-tre-eta-e-il-corso-delle-nazioni ।
৫. Finnegans Wake, IV, শেষাংশ; প্রচলিত 1939 পৃষ্ঠাঙ্কে 628।
৬. Finnegans Wake, III.1, 1939 সংস্করণের পৃষ্ঠা 411; প্রার্থনার বিকৃত বাক্যটি
৭. The Morgan Library & Museum, “Recording Anna Livia Plurabelle”; 1929 সালের রেকর্ডিং ও শ্রবণযোগ্য অডিও: https://www.themorgan.org/exhibitions/online/ulysses/recording-anna-livia-plurabelle ।
৮. Finnegans Wake, II.2; মূল লেখা, মার্জিন ও পাদটীকার বিন্যাসের পাঠ। ডিজিটাল পাঠের পাশাপাশি ছাপা সংস্করণের বিন্যাস দেখা উপযোগী।
৯. Roland McHugh, Annotations to Finnegans Wake, fourth edition, Johns Hopkins University Press, 2016। https://www.press.jhu.edu/books/title/11560/annotations-finnegans-wake ।
১০. Joseph Campbell and Henry Morton Robinson, A Skeleton Key to Finnegans Wake, প্রথম প্রকাশ 1944; New World Library সংস্করণে Edmund L. Epstein-এর হালনাগাদ আলোচনা রয়েছে। https://newworldlibrary.com/product/a-skeleton-key-to-finnegans-wake ।
১১. Finnegans Wake Extensible Elucidation Treasury বা FWEET, অনুসন্ধানযোগ্য ব্যাখ্যাসংগ্রহ: https://www.fweet.org/ ।



